প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকডাউনফল (২০০৪)

সিনেম্যাটিক

ডাউনফল (২০০৪)

ডাউনফল  (২০০৪)

Movie name : Downfall (2004)

Country : Germany 

বিজ্ঞাপন

এডলফ হিটলারকে নিয়ে এই হিস্টরিকাল ড্রামা মুভিটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তখন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষের দিকে আর অন্যদিকে হিটলার তার শেষ সময় হয়ত পার করছে। রাশিয়ান আর্মি বার্লিন ঘিরে রেখেছে। পালাবার পথ জার্মান সেনাদের বন্ধ। হয় মৃত্যু না হয় তাদের কাছে আত্মসমর্পণ। মানসিক অস্থিরতা চলছে সেনা ও জেনারেলদের মধ্যে। হিটলার পাগল প্রায়।।


ইতিহাস বলে এডলফ হিটলার তার বাংকারে আত্মহত্যা করেন। তার লাশও খুঁজে পাওয়া যায় নি। পুড়িয়ে ফেলা হয়। আত্মহত্যা করার আগ পর্যন্ত হিটলার ও তার সেনারা কেমন সময় পার করছিলো ও বার্লিনে কি কি ঘটেছিলো সেটাই এই ড্রামা সিনেমার মূল কন্সেপ্ট। 


হিটলার ও তার নাজি বাহিনীর দুরবস্থার সিকুয়েন্স গুলো ভয়ানক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যত সময় যায় হিটলারের পাগলামি তত বাড়তে থাকে। একের পর এক সিস্টেম ফেইল হচ্ছে।। 


রাশিয়ান রেড আর্মি কামানের গোলা ছুড়ছে। বার্লিনের পতন সন্নিকটে। বাতাসে শুধুই বারুদের গন্ধ। মাটিতে ধ্বংস আর রক্ত। নাজি আর্মিরা পিছু হটছে। হিটলার বুজতে পেরেছে সময় শেষ। আত্মসমর্পণের চেয়ে আত্মহত্যা অনেক সম্মানের। হিটলার সাহেব তাই মনে করছেন। 


জীবিত থাকতে ইহুদী বিদ্বেষ তার মধ্যে ছিলো। ইহুদী নিধন তার বড় সাফল্য বলে মনে করেন।।


কয়েকদিনে অনেকগুলো জার্মান সিনেমা দেখছি আর হিটলারকে নিয়ে সিনেমা দেখবো না, তাই কি আর হয়। ভালোই উপভোগ করলাম। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। হিটলারের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তার অভিনয় ও এক্সপ্রেশন দুর্দান্ত ছিলো। সিনেমার লোকেশন, গ্র্ফিক্স ও ডিরেকশন বেস্ট বলা যায়। মনে হচ্ছিলো চোখের সামনে সব সত্য।।


নাজি আদর্শের ভয়ংকর উত্থান ও তার ভয়ংকর পতন হয়েছিলো। সিনেমা যেমন ইতিহাস ভিত্তিক তেমনি বেশ ইমোশনাল ভরপুর। এক একটা সুইসাইড আপনাকে ইমোশনাল করে দিবে। গাভীর ভাবে চিন্তা করাবে। আমি মনে করি, নাজি আদর্শ একটা ভাইরাস। যতক্ষণ ক্ষমতা আছে ততক্ষণ শক্তিশালী কিন্তু যখন এন্টিভাইরাস আক্রমন করে তখন আবেগ অনুভূতি ও মনুষত্ব সব নষ্ট হয়ে যায়।।


হিটলারের নাজি আদর্শ শুধু দেশ পরিচালনা ও যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, নাজি পজেটিভ ও নেগেটিভ আবেগময় আদর্শ ছড়িয়ে পড়ছে সেনাদের দেহে ও অন্তরে। রাশিয়ানদের কাছে ধরা পরার ভয়ে কয়েকজন সেনা ও জেনারেল ফ্যমিলি সহ আত্মহত্যা করে। এক জেনারেল দিয়ে গ্রেনেড দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যা করে। আরেক অফিসার ছয় সন্তান সহ বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। তাদের ধারণা নাজিবাদ পতন হলে বেঁচে থাকার মূল্য নেই। তাই মরে যাওয়াই ভালো। কি বিষাক্ত আদর্শ বুঝলেন তো? একধরনের ভাইরাস।


সিনেমায় হিটলারকে স্বৈরশাসক হিসেবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। তবে হিটলার চেয়েছিলো জার্মানিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেটা হয় নি। তাকে কেউ বুঝেনি নাকি তার আদর্শ ভুল ছিলো। কথায় কথায় অনেকে বলে হিটলারও ভুল করেছিলো। তবে হিটলার নিজের ভুলের মাশুল দিয়েছে দ্বিগুণ ভাবে।।


হিটলার হেরে যাওয়ার পিছনে রয়েছে তার কিছু ভুল সিদ্ধান্তহীনতা। বাস্তবতা না বুঝতে চাওয়া, অতিরিক্ত রাগ আর পাগলামি। অস্ত্র ও জ্বালানি সংকট এবং সেনাদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার দ্বন্দ্ব। সাধারণ নিরস্ত্র জনগণের জীবনের মূল্যই ছিলো না। অতিরিক্ত জেদ ও পাগলামোর কারণে তার নিজস্ব জেনারেলরা মধ্যে দ্বিধা দ্বন্দ্ব নিয়ে থাকতো। বোম আর কামানের গোলা আছড়ে পড়ছে বার্লিনে।।


সিনেমায় দেখায় বারো বছর বয়সের ছেলেরা যুদ্ধ করেছে। একটা বারো বছরের ছেলে দুইটি ট্যাংক উড়িয়ে দেয়। পরে হিটলার তাকে পুরস্কৃত করে। বাচ্চারাও নাজি আদর্শের ছিলো না।।


ক্ষমতা যখন থাকে তখন মাথা এমনি উচু থাকে যে সাধারণ নিরীহ জনগণ কে চোখে পড়ে না, আবার ক্ষমতা যখন পতন হয় তখনও জনগণের জীবন বিপন্ন করে হলেও নিজেকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। মিঃ হিটলারের নাজি কন্সেপ্ট অনেকটা সেই রকম।


হিটলার যদি টিকে যেতো তাহলে হয়তো তার হাতে বিশ্ব শাসন চলে আসতো কিন্তু ভাগ্য অতি নির্মম সেটা হয়নি। আদর্শ এমনভাবে ধারণ করা উচিত নয় যেটা নিজের মন দাসত্বে রূপ নেয়, নিজের বিবেকগুলো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। ক্ষমতার পতন হবেই ইতিহাস তাই বলে।।


সিনেমাটিতে হিটলারকে যেভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে সেইভাবেই আমি রিভিউ দিয়েছি। তবে বর্তমানে বিশ্বে হিটলারের মতন মানুষ প্রয়োজন ছিলো। কেনো দেখবেন এই সিনেমা? ইতিহাস জানবেন, অসুস্থ ক্ষমতার দৌরাত্ম দেখেন, পতন ও তার মানসিক ট্রমা উপলদ্ধি করতে পারবেন। যুদ্ধ শুধুই ধ্বংস আনে।।


যুদ্ধ, ধ্বংস ও মৃত্যুর মাঝে প্রেম কিন্তু হেরে যায়নি। ইভা ব্রাউন শেষ পর্যন্ত হিটলারের পাশে ছিলো। এক সাথে ভালোবেসে বিয়ে ও কিছুক্ষণ পর সুইসাইড করেছেন।মৃত্যুর আগে হিটলারের নিজের পছন্দের কুকুরকেও মেরে ফেলেছিলো।।


০ মন্তব্য · ৪৮ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!