Movie name: Phoenix (2014)
Country: Germany
মায়াবতী একটা নারীর গল্প যেখানে একজন নারী তার স্বামীর প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা ফুটে উঠছে কিন্তু স্বামী তো নিজ স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝতে চায় না। বিশ্বাস ও ভালোবাসার সৌন্দর্য নষ্ট করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা। নিজের স্বামীর কাছেও স্ত্রীর অভিনয় করে যেতে হচ্ছে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক যদি আত্মা কেন্দ্রিক না হয় সেই সম্পর্ক ভেঙে যেতে বেশি সময় লাগে না। এই ড্রামা সিনেমায় সম্পর্কের বিশ্বাসঘাতকতা ফুটে উঠেছে।।
জার্মানীতে হলোকাস্টের সময় ইহুদী গায়িকা মিসেস নেলি হিটলারের নাৎসী বাহিনীর ক্যাম্প থেকে বেঁচে ফিরেন। সেই সময়ে লক্ষ লক্ষ ইহুদী হত্যা করা হয়। তাকে ধরে নেওয়া হয়েছিলো। স্বামী থেকে অনেক বছর আলাদা। শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। তিনি আহত হন। তার চেহারা ঝলসে যায়। সার্জারি করে ঠিক করা হয় কিন্তু চেহারা পুরোটাই বদলে যায়। ঠিক করলেন বার্লিন যাবেন। তার বিশ্বাস তার স্বামী জনি এখনো তার অপেক্ষায়।।
অন্ধ ভালোবাসা ও অন্ধ লোভ লালসা সিনেমায় প্রাধান্য পেয়েছে।আর্ট ড্রামা কেন্দ্রিক সিনেমা বলা যেতে পারে। সিনেমার প্লট লোকেশন ও সেট ডিজাইন ভালো ছিলো।একদিন ধীর স্থির ড্রামা তবে গভীর দর্শন লুকিয়ে আছে। ভালোবাসার আড়ালে লাভ ও লালসার মুখোশ উম্মোচন করা হয়েছে। আবেগুলোতে উত্তেজনা ছিলো না, ছিলো শুধুই শীতলতা।
আবারো মূল ঘটনায় আসি, মিসেস নেলি তার স্বামীকে খুঁজে পায় কিন্তু তার স্বামী জনি জানে তার স্ত্রী মৃত কারণ নাৎসী বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে যায়। জনি যখন নেলিকে দেখে তখন একটু অবাক হয়ে। অনেকটা তার স্ত্রীর মতন কিন্তু তাকে দেখার পর মনের মধ্যে কোন আবেগ ফুটে উঠেনি। এদিকে মিসেস নেলি স্বামীকে দেখার পর মুখ ফুটে কিছু না বলতে পারলেও অন্তরে চাপা আবেগগুলো বা অনুভূতিগুলো তার দুই চোখে ফুটে উঠে।।
মিঃ জনি আসলে তার স্ত্রীকে মন থেকে ভালবাসতে পারেনি। ভালোবেসে ছিলো শুধুই তার সম্পদকে। সম্পদের লোভ থাকলে কি আর অন্তরে সত্যিকারের মহব্বত থাকে। মিঃ জনি একটা প্রস্তাব দেয় মিসেস নেলি কে যে তার সাথে স্ত্রীর মতো করে অভিনয় করতে হবে। কারণ তার স্ত্রীর সম্পদগুলো নিতে হবে। নিজের স্ত্রী জীবিত সেটা আর বুঝলো না। মিসেস নেলি রাজি হয়ে যায় আর স্ত্রীর অভিনয় করতে থাকে।
কি একটা অবস্থা তাই না। নিজের স্বামীর সাথে স্ত্রী অভিনয়। কতটা মনের কষ্টে অভিনয় করে যাচ্ছিলো। স্বামী কাছে থেকেই নেই। শরীর আছে কিন্তু অন্তরে ভালোবাসার অস্তিত্ব নেই। এই ড্রামা সিকুয়েন্স গুলো বেশ ইমোশনাল ছিলো। জার্মান সিনেমা আবেগগুলো স্পর্শ করতে পারে।
নেলি অনেক পরোক্ষভাবে চেষ্টা করেও নিজের স্বামীকে বুঝাতে পারেনি যে তার স্ত্রী তার সামনে জীবিত। চাইলে সরাসরি বলতে পারতো কিন্তু বলেনি। হয়তো নেলি মনে করেছিলো তাকে চিনতে পারবে।।
যুদ্ধ শুধুই ধ্বংস করে না, ধ্বংস করেছে আইডেন্টি বা পরিচয়। নেলি ভেবেছিলো তার স্বামী তাকে ভালবাসে কিন্তু তার স্বামী পরিবর্তন হয়েছে। বদলে গিয়েছে। একদিন মিঃ জনি সবার সামনে নেলিকে নিয়ে আসে যাতে বুঝতে পারে তার স্ত্রী বেঁচে ফিরেছে।
মিসেস নেলি আড্ডার মাঝে গান গাইতে শুরু করে। গানের সুর শুনেই বুঝে ফেলে এটাই তার স্ত্রী। জনি তাকিয়ে থাকে আর মিস নেলি ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
হয়ত বহুদূর চলে যায়। নীরব মিষ্টি প্রতিশোধ। ভুল মানুষের থেকে বহুদূর থাকা অনেক ভালো।।
সমাজে বেশিরভাগ দম্পতিদের মধ্যে আত্মিক পবিত্রতা নেই। আত্মার সাথে সম্পর্ক যদি থাকতো তাহলে জনি তার স্ত্রীকে চিনতে পারতো। চেহারা সার্জারি কারণে বদলে গিয়েছিলো কিন্তু শরীর ও মনে তো সার্জারি হয় নি। স্ত্রীর স্পর্শ যদি এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যায় তাহলে এটা স্ত্রীর কাছে চাপা কষ্টের।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!