প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকদ্যা মিরাকল অফ ব্রেইন (২০০৩)

সিনেম্যাটিক

দ্যা মিরাকল অফ ব্রেইন (২০০৩)

দ্যা মিরাকল অফ ব্রেইন  (২০০৩)

Movie name : The Miracle of Bern (2003)

Country: Germany 

বিজ্ঞাপন

 সময়টা ১৯৫৪ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে কয়েক বছর হলো। যুদ্ধ বিধ্বস্ত জার্মানী ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হচ্ছে কদিন পর। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কারণে দুটো বিশ্বকাপ বাতিল হয়েছিলো। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডে আবারো বিশ্বকাপ শুরু হলো। বিশ্বকাপ ফুটবল স্বাভাবিক একটি আবেগের জায়গা, তাই জার্মানীর জনগণের মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ। সবাই আনন্দিত। বিশ্বকাপ ফুটবল তাদের মনের চাপা কষ্ট ও ক্ষত অনেকটাই কমিয়ে দেয়।।


একটি পরিবার আর বিশ্বকাপ ফুটবল সিনেমার মূল বিষয়বস্তু। যুদ্ধ শেষ হয়েছে কিন্তু দেশে দারিদ্রতা রয়েছে। বেকারত্ব রয়েছে। পরিবারগুলো ভালো মন্দ মিলে দিন পর করছে। কারো কারো মন মানসিকতা অনেক বদলে গিয়েছে। ম্যাথিউসের বাবা রিচার্ড বহু বছর পর রাশিয়ান জেল থেকে ছাড়া পেলো। এই সাধারণ মানুষটা অনেক বদলে গিয়েছে। বেশ কঠোর হয়েছে গিয়েছেন। যুদ্ধ ও জেল তার আবেগগুলো হয়তো শুষে নিয়েছে। 


বেশ উপভোগ্য হিস্টরিকাল ড্রামা। অনেক ভালো লাগলো। বিশেষ করে ফাইনাল ফুটবল ম্যাচটা জমজমাট ছিলো। লোকেশন ও সেট ডিজাইনিং বেস্ট বলা যায়। সিনেমার প্রতিটা সিকুয়েন্স ছিলো বাস্তবভিত্তিক ইমোশনাল।


জার্মানি প্রথম খেলায় হেরে গেলেও শেষের দিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফাইনালে উঠে গেলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানী এই ভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এটা হিস্টরিকাল সেই সাথে স্পোর্টস ড্রামা। ফুটবল খেলার মাঝেও গভীর ফিলোসফি লুকিয়ে আছে।।


যুদ্ধ ও জেল মানুষের মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যেটা রিচার্ডের মধ্যে ভালোভাবেই প্রভাবিত ছিলো।পরিবারের সবাইকে কঠোরতা ও নিয়মের মধ্যে রাখতে গিয়ে নিজেই পরিবারের কাছে খারাপ হয়ে যান। ভুলে গিয়েছিলেন সময় বদলেছে। পারিবারিক বন্ধনে যুদ্ধ ও জেল কতটা প্রভাব ফেলে সেটা এই সিনেমা দেখে বুঝলাম।।


রিচার্ড বাড়ি ফিরে এসেই সন্তানদের বেশি শাসন করা শুরু করে। মন মেজাজ ভালো নেই। তার মধ্যে তার সরকারী ভাতা বন্ধ। রিচার্ড তার স্ত্রীর সাথেও ঝগড়া করে। এতো বছর পর বাড়ি ফিরে এসেই স্ত্রী সন্তানদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে যাচ্ছে। আসলে নাৎসী মন মানসিকতা থেকে বের হতে পারছে না।


ছোট ম্যাথিউসের নিজস্ব স্বপ্ন আছে। আপাতত বিশ্বকাপ খেলা দেখতে চায়। ফুটবল পছন্দ করে কিন্তু তার বাবা রিচার্ড অতটা আগ্রহী নন। বিশ্বকাপ ফুটবলে জার্মানী ফাইনালে যাওয়ার পর রিচার্ড মনে করেন ছেলেকে দেখানোর।সুযোগ দেওয়া উচিত। তাই।করলেন। ছেলেকে সারপ্রাইজ দিলেন।।


ফুটবল টিমের মধ্যেও বেশ ঝামেলার চলছে। বিশেষ করে হলুদ সাংবাদিকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জার্মান কোচ তার প্লেয়ারদের মোটিভেশন দিচ্ছেন।।


এইবারে জার্মানী টিম বেশ ভালো। সিনেমার অন্যতম চরিত্র রাহান। একজন স্ট্রাইকার। ছোট ম্যাথিউসের সাথে বেশ খাতির রয়েছে। সময় পেলে দুইজন এক সাথে খেলাধুলা করে, গল্প করে। ছোট ম্যাথিউসের ফুটবল নিয়ে অনেক স্বপ্ন। নিজেও বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলে। ছোট ছেলে তাই আবেগের কমতি নেই।


৫৪ এর বিশ্বকাপে স্ট্রং টিম ছিলো হাঙ্গেরী। সবাই ভেবেছিলো হাঙ্গেরী বিশ্বকাপ জিতবে কিন্তু ইতিহাস তৈরী করে জার্মানী ৩ - ২ গোলে পরাজিত করে হাঙ্গেরীকে। প্রথমে হাঙ্গেরী দুই গোলে এগিয়ে থাকলেও

শেষের দিকে তিন গোল দিয়ে দেয়। পশ্চিম জার্মানীর প্রথম বিশ্বকাপ অর্জন। সেই আলোচিত স্ট্রাইকার রাহান শেষ গোলটা করেন।।


জার্মানীর এই অসম্ভব বিজয়কে বলা হয় মিরাকেল অফ বার্ন।


যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ও যুদ্ধের শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ক্লান্ত জার্মান নাগরিকদের মাঝে যেনো নতুন জীবনের সূচনা হলো। যুদ্ধের ক্ষত ভুলে সবাই আনন্দে মেতে উঠলো। যুদ্ধে সব কেড়ে নিয়েছিলো কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের বিজয় আনন্দের ফেরীওয়ালা হয়ে আনন্দ বিলিয়ে দিলো পুরো জার্মানীতে। আবেগহীন মানুষগুলো হারানো আবেগ যেনো ফিরে পেলো। 


শেষে দেখা যায় রিচার্ড তার ছোট ছেলে ম্যাথিউসকে জড়িয়ে ধরে। রিচার্ড খারাপ বাবা না কিন্তু যুদ্ধ ও জেলে কষ্টময় পরিস্থিতি তাকে বদলে দিয়েছিলো। জার্মানী বিশ্বকাপ অর্জন তাকে আবারো আগের মত বদলে দেয়।। 


সিনেমা দেখালো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ কিভাবে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়। ফুটবল জনগণের ভাঙ্গা মনোবল ঠিক করে দেয়। জার্মানী যেভাবে খেলার মাঠে ঘুরে দাঁড়ায় ঠিক তেমনি জনগণ ঘুরে দাঁড়ায় নিজেদের অন্তরের সাথে লড়াই করে। সব কিছুর অবদান দেওয়া হয়েছে জার্মানী বিশ্বকাপ বিজয়।।


০ মন্তব্য · ৩১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!