প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকবার্লিন ৩৬ (২০০৯)

সিনেম্যাটিক

বার্লিন ৩৬ (২০০৯)

বার্লিন ৩৬   (২০০৯)

Movie name : Berlin 36

Country: Germany 

বিজ্ঞাপন

হিটলারের ইহুদী বিদ্বেষ এতটাই প্রবল ছিলো কোন ইহুদিকে ভালো পজিশনে থাকলে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতো। হয় তাকে মেরে ফেলতো না হয় চুপ করিয়ে রাখতো। সময়টা তখন ১৯৩৬ সালে। হিটলার জার্মানি তখন অলিম্পিক গেমস আয়োজনকারী। জার্মান থেকে অংশ নিচ্ছে মিস গ্রেটেল ব্রেগমন। একজন ইহুদী হাই জাম্পার। তার উচু লাফ পারফরমেন্স এতটাই ভালো যে গোল্ড মেডেল পাবেই,কিন্তু হিটলার সরকার চায় না মেয়েটি খেলুক, কারণ মেয়েটি ইহুদী।।


হিটলার সরকার দেশের সম্মানের চেয়ে নিজের ইমেজ ও আত্মমর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। হিটলারের নাৎসী কালচার ভাইরাসের মতন ছড়িয়ে গিয়েছিলো। কোন ইহুদী ভালো সুযোগ সুবিধা পাবে না। ঘটনা আবার উল্টে যাচ্ছে, আমেরিকা সহ অনেক দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইহুদীরা না খেলতে পারলে তারা অলিম্পিক বয়কট করবে। বেশ চাপে হিটলার সরকার কিন্তু হিটলারের হিটলারি বুদ্ধি আছে।।


খেলাধুলা ও দেশের সংস্কৃতি রাজনীতি মুক্ত রাখাটা এক ধরনের সৌন্দর্য। হিংসা ও বিদ্বেষ শুধু ব্যক্তি ও পরিবারের ইমেজই নষ্ট করে না, বরং দেশ মেধা সম্পদ হারিয়ে ফেলে। মিস গ্রেটেল ব্রেগমন আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী মেয়ে।অনেক স্বপ্ন ও মনের মধ্যে আশা করেছে। দেশকে গোল্ড মেডেল এনে দিবে। নিজেকে তুলে ধরবে পুরো বিশ্বে দরবারে। ভাগ্য হয়তো সাথে নেই। কারণ ইহুদী মেয়ে। তাকে কৌশলে ইচ্ছা করে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।।


এটা মূলত হিস্টরিকাল স্পোর্টস সিনেমা সেই সাথে নোংরা নাৎসীবাদী রাজনীতি বিদ্যমান। এই ড্রামা সিনেমা দেখা শুরু করলে শেষ পর্যন্ত দেখবেন। 


হিটলার সরকার একটা কাজ করে এক মেয়েলি স্বভাবের ছেলেকে মেয়ে সাজিয়ে অলিম্পিক খেলায় নেওয়া হয়। মেডিকেল টেস্টে জালিয়াতি করা হয়। মিস গ্রেটেল ব্রেগমনকে বাদ দেওয়া হয় আর সুযোগ পায় সেই মেয়েলী ছেলে ডরা। 


নাৎসী প্রগাপাণ্ডা ছিলো। পুরো বিশ্বকে মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে উম্মোচন করেছে। 


খেলার মাঝেই যেনো বড় মাপের নোংরা নাৎসবাদী খেলা চলছে। রাষ্ট এই খেলায় বিজয়ী কিন্তু হেরে গিয়েছে ইতিহাস ও মানবিকতার কাছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই নোংরা ইতিহাস মনে রাখবে। সিনেমাটি কিন্তু সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। হলোকাস্ট মানে ইহুদীদের উপর গণহত্যার আগেই মিস গ্রেটেল ব্রেগমন পালিয়ে যায়। 


মিস গ্রেটেল ব্রেগমন সেই মেয়েলী ছেলে ডোরা সম্পর্কে সব জনাতে পারে ও ডোরা সব কিছু খুলে বলে। এই দুই জনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব হয়। এদিকে মেয়েলী ছেলে যাকে মেয়ে সাজিয়ে খেলায় নেওয়া হয় সে মাস্টার প্ল্যান করে। আমার মনে হয় সে ইচ্ছা করে অলিম্পিক খেলায় হেরে যায়। 


এই হার হয়তো মিস গ্রেটেল ব্রেগমনকে উৎসর্গ করা হয়। মিস গ্রেটেল ব্রেগমন খুশি হয়। জার্মানী হেরে গিয়েছে কিন্তু জিতেছে সত্য ও মানবিকতা। নোংরা রাজনীতি ও নাৎসীবাদী খেলা পরাজিত হয়েছে।।


মিস গ্রেটেল ব্রেগমন এক সময় পালিয়ে আমেরিকা চলে যায়। আপন দেশে আর ফেরা হয় না।।


০ মন্তব্য · ৪২ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!