If Wishes Could Kill (2026)
সাউথ কোরিয়ান সিরিজ মানেই অসাধারণ। অসাধারণ তাদের গল্প ও নির্মাণ। এই হরর সুপারন্যাচারাল ড্রামাটা দেখুন, ভালো লাগবে। অপ্রাকৃতিক ইচ্ছা যখন ভয়ংকর হয়ে ওঠে, আশীর্বাদ হয়ে যায় অভিশাপে, মৃত্যু হুট করে সময়ের আগে ভয়ংকর হিংস্র হয়ে উপস্থিত হয়। কালো আত্মার প্রযুক্তি থেকে সাবধান তো হতে হবে।আমি হয়ে যাবো আপনি আর আপনি হয়ে যাবেন আমি।।
গ্রিগো এক ভয়ংকর অ্যাপ, কিন্তু সেটা হয়তো কেউ জানতো না। মনের কষ্ট থেকে রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হতে চাইলেও অতৃপ্ত আত্মার মুক্তি হয়নি। খারাপ বা ভৌতিক আত্মা যখন টেকনোলজিতে ঢুকে পরে আর
সেটাকে নিজের মতো করে কন্ট্রোল করতে থাকে তখন সেটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মানুষের নিষ্পাপ আত্মা যখন খারাপ আত্মায় রূপান্তর হয়,ধ্বংস তো অনিবার্য।অ্যালগরিদম তার স্বাভাবিকতা হারায়। তাকে কন্ট্রোল করে ডেভিল।।
মোট আটটা পর্ব। প্রতিটা পর্ব ভালো লাগবে আশা করি, আর ছোট ছোট টুইস্ট, ঘটনাগুলো বুঝতে বোধগম্য হবে। দেখবেন আর অবাক হবেন। গল্প বেশ ভালো, সেই সাথে ভিএফএক্স কাজ দেখার মতো। ডার্ক হরর, আবার সুপারন্যাচারাল হরর ড্রামাও বলা যেতে পারে। তান্ত্রিকতা, জাদুশক্তি, অতৃপ্ত আত্মা ও টেকনোলজির মিশ্রণ ভালোই উপভোগ্য করে তুলেছে।।
আপনি যখন কাউকে বেশি কষ্ট দিবেন, তখন সেটার অভিশাপ আপনাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করেই যাবে আর আপনি অজান্তেই নিজেকে কষ্ট দিতে থাকবেন। যদিও সেটার বহুরূপ আছে, আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন, কিন্তু যখন বুঝবেন তখন আপনি শেষ। প্রযুক্তির যুগে অশরীরী বা অতৃপ্ত আত্মাও প্রযুক্তির সাথে তালে তাল মিলিয়ে যায়।।
গ্রিগো নামে এক অভিশপ্ত অ্যাপ থেকেই কালো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই অ্যাপ আপনার মনের ইচ্ছা পূরণ করবে, কিন্তু বিনিময়ে আপনাকে নিজেকে বলি দিতে হবে। এই অ্যাপ কন্ট্রোল করে অতৃপ্ত আত্মা, তাই এই অ্যাপ খুব সহজে বন্ধ করা যাবে না।।
ঘটনা যেভাবে শুরু, একটা মেয়ে সি-উন প্রযুক্তিবিদ্যায় খুবই দক্ষ। মেয়েটি একটা উইশ অ্যাপ তৈরি করে, যেটা প্রথমে ভালো অ্যাপ ছিল। মেয়েটির মা এক অভিজ্ঞ তান্ত্রিক, কিন্তু মেয়ে সেটা পছন্দ করে না। এদিকে তার বান্ধবী হেই-রাং নিয়মিত তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো। দুই বান্ধবীর মধ্যে ঝামেলা ও বেইমানি হয়। হেই-রাং ভিডিও কলে আত্মহত্যা করে আর উইশ করে যায়, সবাই কেন মারা যায়। ধীরে ধীরে তার ক্লাসমেটরা মারা যায়।।
সি-উন ও তার বান্ধবীর আত্মা সেই অ্যাপে থেকে যায় আর যারা উইশ করে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার অনেক দিন পর এক স্কুলের কিছু ছেলে-মেয়ে সেই অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের উইশ কামনা করে।প্রথমে হেওয়েউক উইশ করে যাতে পরীক্ষায় ভালো মার্কস পায়। সবাইকে অবাক করে সে ভালো মার্কস পায়। তারপর হুট করেই নিজে আত্মহত্যা করে।পরে আরও ছেলে-মেয়ে জড়িয়ে যায়।
সেউইহা ও হাজুন দুজন উইশ করেও বেঁচে যায়, কারণ হাজুনের বোন মিস হ্যৎসল একজন শক্তিশালী তান্ত্রিক। আত্মাদের দেশে তাদের যেতে হয়। রেড ফোন কালেক্ট করতে হয়। খুব কষ্টে সেই মোবাইল ধ্বংস করে গ্রিগো অ্যাপ ধ্বংস করা হয়। টেকনোলজির যুগে এরকম হরর সিরিজ বেশ মানানসই।যেহেতু সাউথ কোরিয়া মেকিং করেছে, তাই ভালো হওয়া স্বাভাবিক।।
লোভ, হিংসা, প্রতিহিংসা, অস্বাভাবিক বাসনা জীবনে ধ্বংস, অশান্তি ছাড়া কিছুই আনে না। বন্ধুত্বের বন্ধনেও যদি বিশ্বাসঘাতকতা আসে, সেটার মতো কষ্ট হতে পারে না।কষ্ট থেকেই আসে অভিশাপ।আবারও বলছি,অতি লোভ ও অস্বাভাবিক বাসনা ধ্বংস ডেকে আনে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!