প্রথম পাতাজীবনধারাক্যাফেইন

জীবনধারা

ক্যাফেইন

ক্যাফেইন

অনেকে ভালো রাতের ঘুম বলতে বোঝেন—কত ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, মোট ঘুমের সময় স্বাভাবিক থাকলেও ক্যাফেইন নীরবে ঘুমের মান কমিয়ে দিতে পারে।


বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা মানুষের ওপর পরিচালিত কয়েক ডজন গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখেছেন, ক্যাফেইন ঘুমের সময় মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে মস্তিষ্ক গভীর ও পুনরুদ্ধারমূলক ঘুমের পর্যায়ে তুলনামূলক কম সময় কাটাতে পারে। অর্থাৎ, কেউ ৮ ঘণ্টা ঘুমালেও ঘুম থেকে উঠে প্রত্যাশার তুলনায় কম সতেজ বা ক্লান্ত অনুভব করতে পারেন।


ক্যাফেইন কীভাবে এটি করে?


ক্যাফেইন মস্তিষ্কে থাকা অ্যাডেনোসিন (Adenosine) নামের একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। দিনের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডেনোসিন জমতে থাকে এবং আমাদের ঘুমঘুম ভাব তৈরি করে। ক্যাফেইন এই প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ায় জেগে থাকা অবস্থায় সতর্কতা ও সজাগতা বাড়ে। তবে ঘুম শুরু হওয়ার পরও এর প্রভাব মস্তিষ্কের কার্যকলাপে থাকতে পারে।


মস্তিষ্কের তরঙ্গ রেকর্ড করে গবেষকরা দেখেছেন, ক্যাফেইন স্লো-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটি বা ধীর মস্তিষ্ক-তরঙ্গের কার্যকলাপ কমাতে পারে। গভীর ঘুমের সঙ্গে যুক্ত এই পর্যায়টি শারীরিক পুনরুদ্ধার, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে, ক্যাফেইন তুলনামূলক দ্রুত মস্তিষ্ক-তরঙ্গের কার্যকলাপ বাড়াতে পারে—যেগুলো সাধারণত জেগে থাকার সময় বেশি দেখা যায়।


এই গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, ঘুমের মান শুধু বিছানায় কত ঘণ্টা কাটিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে না। বাইরে থেকে ঘুম স্বাভাবিক মনে হলেও, ক্যাফেইন যদি মস্তিষ্ককে রাতভর তুলনামূলক সক্রিয় অবস্থায় রাখে, তাহলে মস্তিষ্ক ও শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কম কার্যকর হতে পারে।


তাই ৮ ঘণ্টা ঘুমালেই যে ঘুম পুরোপুরি মানসম্মত হয়েছে—এমনটা সবসময় নয়। ঘুমের সময়ের পাশাপাশি ঘুমের গভীরতা ও গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ।


📄 গবেষণাপত্রের DOI: 10.3390/nu18081220

০ মন্তব্য · ৪০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!