প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকদ্যা মন্সটার অফ ফ্লোরেন্স (২০২৫)

সিনেম্যাটিক

দ্যা মন্সটার অফ ফ্লোরেন্স (২০২৫)

দ্যা মন্সটার অফ ফ্লোরেন্স  (২০২৫)

The Monster of Florence (2025), Country: Italy

Season 01 Episodes 04

বিজ্ঞাপন


সিরিয়াল কিলিং কন্সেপ্ট নিয়ে ভালোই ইতালিয়ান ক্রাইম ড্রামা সিরিজ উপভোগ করে নিলাম।নেটফ্লিক্সের ব্যানারে এই চার পর্বের সিরিজ বেশ রহস্যময়। এই জটিল ও ভয়ংকর সিরিয়াল কিলিং ইতালির অন্যতম জটিল কেস গুলোর মধ্যে অন্যতম। ইতালির আইন ও প্রশাসনের সাথে জড়িতদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো।।


সিরিজে যেমন ড্রামা ও ভায়োলেন্স রাখা হয়েছে ঠিক তেমনি সাসপেন্স রাখা হয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে সেট ডিজাইনে সত্য ঘটনার উপর সিরিজটি নির্মিত হয়েছে। লোকেশন ও ক্যামেরা কাজ ভালো ছিলো। সেই সময় সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থা প্রাধান্য পেয়েছে। পরকীয়া ও অবাধ যৌনতা কীভাবে পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থাকে দুর্বল ও মনাহীন করে সেটাও সিরিজে দেখানো হয়েছে। 


আমার যেটা মনে হয়,পরকীয়ার নেতিবাচক প্রভাব ও মনের চাপা ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ে হয়তো সেই ১৬ জন কাপলকে হত্যা করা হয়। নির্জন বন এলাকায় গাড়ির ভিতরে সেক্স করার সময় প্রতিটি হত্যাকান্ড গুলো হয়েছে।।


মোট চারটি পর্ব আর প্রতিটি পর্বের টাইম এক ঘণ্টা। প্রতিটি চরিত্র যেনো জীবন্ত ফুটে উঠেছে।।


সিরিজে অতীত ও বর্তমান নিয়ে টাইমলাইন আছে। কেস তদন্ত করতে গিয়ে বার বার অতীতে যেতে হয় আবার বর্তমানেও আসতে হয়। কারণ অতীতে যেভাবে হত্যাকান্ড গিয়েছে বর্তমানে সেইভাবেই হচ্ছে। প্রতিটা ঘটনা বা সিকুয়েন্স বেশ সাজানো গোছানো ছিলো।


আটককৃত সেই অপরাধীরা পুলিশদের সত্য ও মিথ্যার চোরাবালিতে আটকে রেখেছিলো। তদন্ত যত এগিয়ে যায় সমাধান তত গোলক ধাঁধায় আটকে যায়। কোনটা সত্য বা কোনটা আসলে মিথ্যা??


সিরিয়াল হত্যাকাণ্ড শুরু হয় ১৯৬৮ সালে তারপর ১৯৭৪, ১৯৮১,১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে ইয়ং ছেলে মেয়ে হত্যাকান্ড হয়। দুর্ধর্ষ এই সাইকো কিলার শুধু বেছে বেছে কাপলদের হত্যা করে। মেয়েদের হত্যাতো করেই সেই সাথে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে থাকে।।


** একের পর এক খুন হয়েই যাচ্ছে তো হয়েই যাচ্ছে।খুনের তদন্ত শুরু হলো। সন্দেহভাজন মিঃ মেলেকে ধরা অ্যারেস্ট করা হলো। মিঃ মেলে খুনের দায় স্বীকার করলো। তারপর জেলে গেলো কিন্তু সিরিয়াল কিলিং তো বন্ধ হচ্ছে না। আবারও হয়েছে। তাহলে??


👉 মিঃ মেলে মিথ্যা বলেছিলো।।


** মিঃ মেলেকে আবার ডাকা হলো এইবার সে সত্য স্বীকার করলো। আগের ও বর্তমানের খুন গুলো করেছে আরেকজন। সে ছিলো খুনের সহযোগী। খুন করেছে মিঃ ফ্রাঙ্ক। মিঃ ফ্রাঙ্ককে ধরা হলো কিন্তু সেই আবারও সিরিয়াল কিলিং। বন্ধ তো হচ্ছে না।


👉 মিঃ মেলে আবারও মিথ্যা বলেছিলো।।


** আবারও সিরিয়াল কিলিং। মিঃ মেলে এইবার সত্য কথা বলে দিলো। আগের ও বর্তমানের খুন গুলো ভিঞ্চি করেছে। ভিঞ্চিকে অ্যারেস্ট করা হলো। কিন্তু আবারও সিরিয়াল কিলিং। বন্ধ তো হচ্ছে না। 


👉 মিঃ মেলে আবারও আবারও মিথ্যা বলেছিলো।।


গত বিশ বছর যেই কয়টা হত্যাকান্ড হয়েছে সবগুলো হত্যাকান্ড একেই গুলি দিয়ে মারা হয়েছে আর একেই ধারায় কিন্তু অনেক তদন্ত করার পরেও প্রকৃত খুনি ধরা পড়ছে না। মিথ্যাকে যতই আটকানো হয় ততই উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।


পুলিশদের কিছু অব্যবস্থাপনা ছিলো। স্ট্রং ডিএনএ সিস্টেম ছিলো না। নির্ভুল তথ্যের অভাব ছিলো।ভিকটিমদের শরীরে এক সময় এক এক জায়গায় ছিলো। উপযুক্ত যৌক্তিক প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরিতে জটিলতা মূলত প্রতিটি কাজের সমন্বয়হীনতাই তদন্তের অবনতির জন্য দায়ী।।।


অপরাধীরা অপরাধ হয়ত কৌশলে লুকাচ্ছে অথবা প্রকৃত অপরাধীকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে।।


এই সিরিজে সিরিয়াল কিলিং ও সেটার তদন্ত কার্যক্রম দেখানো হয় কিন্তু তদন্তের কোন সঠিক সমধান হয় না।সিরিজে দেখানো হয়, একটা জটিল কেস কতদিন ধরে অমীমাংসিত হয়ে থাকে বা ঝুলে থাকে। 

 

তদন্ত কর্মকর্তাগণ গভীর বিভ্রান্তির মধ্যেই থেকে যায়।।।


মূল কিলার কে সেটা এখনও অজানা।। হয়ত অজানাই থাকবে।।


০ মন্তব্য · ২২ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!