Movie Name : La Grande Bellezza (2013)
Movie Name : The Great Beauty (2013)
Country : Italy 🇮🇹
প্রকৃত সুখ ও আনন্দের চাহিদা থাকলে সেই চাহিদার জন্য বাইরে বাইরে দৌড়াতে হয় না, নিজের চিন্তাচেতনা বা অন্তরের দিকে মনোযোগ দিলেই তার স্বর্গীয় অস্তিত্ব উপলদ্ধি করা যায়।নিজের মন প্রকৃতপক্ষে কি চায় বা কতটুকু অর্গানিক সুখ চায় সেটা হয়তো মিঃ জেপ উপলদ্ধি করতে পারছেন না। হয়তো এড়িয়ে যাচ্ছেন।
নিজের ৬৫ তম জন্মদিনে তিনি বিশাল পার্টি দিয়েছেন। নাচ,গান আর সুন্দরী রমণীদের নিয়ে মজেছেন কিন্তু মনের মধ্যে বিশেষ কোন সৌন্দর্যের চাপা অভাব তিনি অনুভব করেছেন। ভালোবাসা ও আত্মসন্তুষ্টির শেকড় হয়ত ভুলেই গিয়েছেন। উপলব্ধি করাটা হয়তো উচিত।।
ইতালির অসধারণ আর্ট, দর্শনভিত্তিক ড্রামা সিনেমা। এটা শুধু সিনেমাই নয় যেনো এক জীবন্ত মহাকাব্য যেখানে বহু সংস্কৃতির আর বহু রঙের মানুষের জীবন দেখানো হয়েছে। সিনেমার প্লট বা কাহিনী দেখে সেটাই মনে হলো। জীবনে কি পেলাম আর কি হারালাম সেটা মনে হবে আবার নিজের অস্তিত্ব নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা আসবে।
মনের অজান্তে জীবনের কোন সৌন্দর্যকে অবহেলা করিনি তো?
এই ইতালিয়ান সিনেমার আরেকটি বিশেষত্ব হলো লোকেশন। ইতালির রোম সিটিকে এমন নান্দনিক সৌন্দর্যে উপস্থাপন করা হয়েছে যেনো কোন চিত্রশিল্পী আপন মহিমায় তার রঙ তুলি দিয়ে রঙের খেলা দেখিয়েছেন। রোম সিটির ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে শুরু করে জাদুঘর সহ আরো অনেক ভাস্কর্য শিল্প দেখানো হয়েছে।।
ইতালির এই অস্কার জয়ী সিনেমার প্রতিটি জিনিষ অসধারণ। প্লট থেকে ডিরেকশন সব কিছু। সাউন্ড ও মিউজিক সিস্টেম বেস্ট ছিলো। ইতালিয়ান ফোক মিউজিক শুনে ভালোই লাগছিলো। আমাদের জীবনের অসাধারণ সৌন্দর্যগুলো আসলে কোথায় থাকে? এই প্রশ্ন হুট করে মিঃ জেপের মাথায় আসলো।
মিঃ জেপ একজন সিনিয়র সাংবাদিক যদিও এক সময়ে উপন্যাসিক ছিলেন। মুক্ত মনের মানুষ। উনার বয়স ৬৫ হলেও অন্তরের দিক দিয়ে নিজের তারুণ্যতা রাখার চেষ্টা করেন। সব সময় শূন্য মন নিয়ে আনন্দে থাকেন। নিজের জন্মদিনে আনন্দের কোন কমতি রাখেন নি। বন্ধু বান্ধবী থেকে অফিস কলিগ আবার স্ট্রাইপ গার্ল, সবার সাথেই নিজের আবেগুলোও শেয়ার করেন। অনেক অর্থ ও সম্মান আছে কিন্তু সেগুলো যে বিভ্রম বা ইলুইসন সেটা জানতেন না।।
জীবনে হঠাৎ মানসিক পরিবর্তন হলো। যুবক কালের প্রেমিকা এলিসা মারা যাওয়ার খবর জানতে পারে।এলিসার স্বামী নিজে এসে তাকে বলে যায়। আরো বলে যায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে ভালোবেসে গিয়েছে। এক কথা জানার পর মিঃ জেপ ভাবতে লাগলো কি এমন।আছে এই জগতে যেখানে ভালোবাসা অমর হয়ে থাকে? মিঃ জেপ ভাবছে কেনো সাহিত্য ছেড়ে দিলাম। কেনই বা এলিসা তাকে ছেড়ে গেলো আবার কেনই মৃত্যু আগ পর্যন্ত তাকে ভালোবেসে গিয়েছিলো।।।
জীবনের অংক গুলো আবার হিসাব করতে লাগলেন।জীবনের হরেক রকমের সঙ্গাগুলো বুঝার চেষ্টা করতে লাগলেন। মানুষের মন পড়ার চেষ্টা করতে লাগলেন।।নিজের শেকড় মা উনি আগে কি ছিলেন সেটা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। এত অসাধারণ দর্শন এই সিনেমায় আছে সেটা রিভিউ তে লিখে শেষ করা যাবে না।।
সিস্টার মারিয়ার চরিত্রটা বেশ ভালো লাগবে। সিস্টার মারিয়ার চার্চে কাজ করেন। মানবতার সেবাই তার ধর্ম।মিঃ জেপ চিন্তা করেন তিনি এই বৃদ্ধ বয়সে কাজ করে কি সুখ পান। সিস্টার মারিয়া বলেছিলো এটাই আমার শেকড়। সিস্টার মারিয়া সুখ অনুভব করেন নিস্বার্থ সেবায় আর মিঃ জেপ অর্থের প্রাচুর্যতে।
শেষ বয়সে তিনি ঠিক করলেন, নিস্বার্থ সুখের সন্ধান করবেন। হারানো প্রেমিকার ভালোবাসার অর্থ বুঝার চেষ্টা করবেন।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!