Movie name: Cinema Paradiso (1988)
Country : Italy
"সিনেমা প্যারাডিসো" ইতালির শ্রেষ্ঠ সিনেমার মধ্যে অন্যতম। এই সিনেমা ইতালির মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর জীবনের কথা বলে ও ইতালির শিল্প সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। অসাধারণ শব্দটাও এই সিনেমার সাথে যাচ্ছে না, এতটাই মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে। দেখেছি আর অবাক হয়েছি। এতো নান্দনিক নির্মাণ কি করে সম্ভব হতে পারে। কতটা আবেগ, আশা ও স্বপ্ন আর গভীর ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে এই সিনেমায়। একটা জীবন্ত শিল্প।।
আট নয় বছরের ছোট ছেলে নাম টোটো ও গ্রামের 'প্যারাডিসো' সিনেমা হলের প্রজেকশনিষ্ট মি.আলফ্রেড এই আর্ট ড্রামা সিনেমার মূল চরিত্র। চরিত্র দুটি সবাইকে হাসাবে,কাদাবে আবার দর্শন মনোভাব জাগ্রত করবে।কিভাবে অন্তরে প্যাশন জাগ্রত করতে হয় সেই ছোট টোটো ছেলেটি হাতে কলমে দেখিয়ে দিয়েছে।
সিনেমাটি আমার কাছে এক জীবন্ত কারুকার্যময় শিল্প। ইতালিয়ানদের কাছে এই সিনেমা হয়তো সম্পদ।
সময়টা ১৯৪০ থেকে ৫০ সাল। ইতালির এক গ্রামে প্যারাডিসো নামে একমাত্র সিনেমা হল আছে। দলবেধে সবাই সিনেমা দেখতে আসে। সিনেমা তাদের বিনোদনের অন্যতম উৎস। প্যারাডিসো সিনেমা হলে প্রজেক্টরে কাজ করেন আলফ্রেড। মাঝে মাঝে বিরক্ত করতে আসে টোটো নামের আট নয় বছরের ছোট ছেলে। সিনেমা দেখার পাশাপাশি কিভাবে প্রজেক্টরে কাজ করে সেটা শিখে ফেলে। বেশ দুষ্ট ছেলে টোটো। সিনেমার জন্য কত মার খেতে হয়েছে।
ছোট ছেলে সিনেমা ছাড়া কিছুই বুঝে না কারণ এটাই তার প্যাশন। জীবনের একটা অংশ।।
মিঃ আলফ্রেড টোটোকে ছেলের মত স্নেহ করে থাকেন। দুজনের খুনশুটি দেখার মতন ছিলো। এই দৃশ্যগুলো ছিলো সিনেমার প্রাণ। সমাজের মানুষ জীবন যুদ্ধের পাশাপশি কতটা সিনেমাকে সময় দেয় সেটাও প্রাধান্য পেয়েছে। সিনেমা ইতালির সংস্কৃতির স্বচ্ছ আয়না বলা যায়।।
মূলত ৫০ থেকে ৬০ দশক ছিলো ইতালির ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সিনেমার প্রতিটা রিলস যেনো আত্মার সাথে সম্পর্কিত। প্রতিভা ও ভাগ্য টোটোর জীবন ও দর্শন দুটোই বদলে যায়। তার জীবনের একটা অংশ হচ্ছে তার মেন্টর আলফ্রেড। তার শিক্ষক ও বন্ধু। বাবার ছায়াও বলতে পারেন। এই আলফ্রেড চরিত্রটা মনোযোগ দিয়ে দেখলে যে কেউ এরকম একজন মেন্টর চাইবেন মাস্ট।।
ধীরে ধীরে সিনেমা ও প্রজেক্টর ম্যাশিন উন্নত হচ্ছে। উন্নত প্রজেক্টর ও রিলস এসেছে যেটা আগুনে খুব সহজে পুড়ে না কিন্তু মিঃ আলফ্রেড দেখতে পারলেন না কারণ প্রজেক্টর মেশিনে আগুন লেগে তার চোখ অন্ধ হয়ে যায়। তারপর নতুন করে হল মেরামত করা হয়। নতুন প্রজেক্টরে দায়িত্ব পালন করে সেই ছোট টোটো।
যেই মা কত শাসন করতো, সেই মা আজ অনেক খুশি। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে টোটো। শৈশবের কথা ভাবছিলো। মিঃ টোটো আজ অনেক বড় একজন ফিল্ম ডিরেক্টর। কে জানতো প্রজেক্টর চালানো ছোট ছেলেটি একদিন ডিরেক্টর হবে।।
আলফ্রেড টোটোকে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দেয় সে যেনো রোম সিটিতে চলে যায় আর নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলে। এদিকে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে চলে যায় রোম সিটিতে।মিঃ টোটোকে ফোনে হঠাৎ করে জানানো হয় আলফ্রেড মারা গিয়েছে। মনে চাপা কষ্ট সহ্য হচ্ছে না। তার ছোট বেলার কথা মনে করছিলো। তার একমাত্র মেন্টর।।
সিনেমার প্রতিটা দৃশ্য এক কথায় অসাধারণ মানে বেশ সাজানো গুছানো। বোরিং হওয়ার সুযোগ নেই। সিনেমা সাধারণ জনগণের মনে কতটা উত্তেজনা ও আবেগ তৈরি করে সেটা উপলদ্ধি করতে পারে যায়। লক্ষ অটুট থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া যায়। বেস্ট দৃশ্য ছিলো লেকের পারে খোলা আকাশের নীচে সিনেমা দেখা।।
পঞ্চাশ দশকের সেই ছোট টোটো এখন নাম করা ডিরেক্টর। নিজের গুরুকে হারিয়েছে, হারিয়েছে নিজের প্রেমিকা এলিনাকে। এলিনা তার স্বপ্নের একটা অংশ ছিলো। নিজের অন্তরে ভিতরে একটা সিনেমা হল আছে। সেই চারকোনা স্ক্রিনে শুধুই এলিনাকেই দেখতো কিন্তু বাস্তব অনেক কঠিন। বাস্তবে পর্দায় স্ক্রিনে তার মেধা ফুটে উঠে। জমে থাকা ভালোবাসা চাপা থাকে।।
জীবনে মিঃ টোটো সফল হলেও কিছু কষ্ট অন্তরে গেঁথে গিয়েছে। সবাই এখন তার নির্মিত সিনেমা দেখে কিন্তু তার অন্তরে বিয়োগাত্মক সিনেমা কেউ দেখে না, নিজে উপলদ্ধি করে।।
সিনেমা সেন্সর করা যায় কিন্তু তার অন্তর তো সেন্সর হয় না।।
শেষের দিকে প্রতিটা চুমুর দৃশ্য টোটো দেখতে থাকেন।পূরণ সিনেমা কেটে ফেলা দৃশ্যগুলো মিঃ আলফ্রেড তার স্নেহের টোটোর জন্য রেখে যান। বিশেষ উপহার।আবেগ ও ভালোবাসার উপরে কাচি চালানো দিন শেষ। এটা গভীর ম্যাসেজ।।
মিঃ টোটো নিজে গ্রামে চলে গেলো। উন্নত হল ও টিভি ভিডিও আসার পর সেই প্যারাডিসো সিনেমা হল অনেকটাই জরাজীর্ণ। আগের মতন সমাগম নেই। তাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। কত আবেগ ও স্মৃতি জড়িত এই হলের সাথে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!