Movie name : Life is Beautiful (1997)
Country : Italy
একটা সিনেমা আসলে কতটা মনমুগ্ধকর হতে পারে?কি দেখলাম আমি ? এমন কোন শব্দ আছে যেটা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালোর চেয়ে "ভালো" কে এক শব্দে বলা যাবে ?? আমার জানা নেই। আপনারা জানেন?
আমার আবেগ থেকে রেটিং দিবো ( ১১/১০)। এমনি এমনি কিআর অস্কার পেয়েছে। অস্কার জয়ী সিনেমা।।
সিনেমাটির সময় মাত্র দুই ঘণ্টা,কিন্তু সিনেমাটি যদি পাঁচ ছয় ঘণ্টাও হতো তারপরেও বোরিং লাগত না। বরং মনে হতো, কেনো সিনেমাটি শেষ হয়ে গেলো। মিঃ জিউডোর পাগলামি ও হাস্যরস কর্মকাণ্ড শেষ যাতে না হয়, সেটা হয়তো সবাই চাইতো। বিপদ ও মৃত্যু ঝুঁকিতে তিনি সর্বদা হাস্যময় ও ঠান্ডা মাথার মানুষ। পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে পারলে জীবন তো আসলেই অনেক সুন্দর।।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
সিনেমার কমেডি অনেক হাসাবে, ড্রামা জীবন দর্শন বুঝাবে আর ট্র্যাজেডি আপনাকে কাঁদাবে। পদে পদে মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যেও ঠান্ডা মাথায় প্রতিকূল পরিবেশটা আনন্দময় করে নেওয়াটা শেখাবে। সন্তানের জন্য আদর্শ বাবার সাহস, অভিনয় ও আনন্দময় ত্যাগ স্বীকার দেখার মতন ছিলো। সন্তানকে বুঝাতে চায় না তাদের মাথার উপর অনেক বিপদ।
সন্তানকে হাসিমুখে বুদ্ধিমত্তা ও হাস্যরস দিয়ে নাৎসী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেছে। মজার মজার কথা দিয়ে ছেলের মনে আস্থা ও ক্যাম্পের পরিবেশকে মানিয়ে নিয়েছে। ছেলেও বাবার কথায় মজা পেয়ে মানিয়ে নেয়।
সিনেমার প্রথম হাফ মিঃ জিউডোর শহরে আসা, মজার কাণ্ড ঘটানো, হুট করে প্রেম এবং বিয়ে। দ্বিতীয় হাফে দেখানো হয় নাৎসী ক্যাম্পে টিকে থাকার লড়াই।।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
দর্শন ভিত্তিক ড্রামা ও মন ভালো করার মতন কমেডি অনেকদিন পর দেখলাম। সিনেমার গল্প তো অবশ্যই অবশ্যই অসাধারণ সেই সাথে লোকেশন, মিউজিক ও ডিরেকশন বেস্ট বলা যায়। প্রতিটা ডায়লগ যেনো মনে গেঁথে থাকবে। পজেটিভ মন, সরলতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মিঃ জিউডো মানুষের মন জয় করে বুঝিয়ে দিলো যে, জীবন সুন্দর করতে বেশ কিছু লাগে না। মন খুলে হাসলেই হবে।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
ভাগ্য বলে একটা ব্যাপার আছে সেটা বিশ্বাস করতে হবে। মিঃ জিউডোর সেই ভাগ্যে বিশ্বাস করেন আর হাসিমুখে ও হাস্যরসে নিজের উপর আস্থা বিশ্বাস এবং ধৈর্য রাখেন। অসধারণ ব্যাপার। শেষের দিকে যখন ছেলেকে লুকিয়ে রাখেন আর গুলি খাওয়ার জন্য হাসতে হাসতে কমেডি স্টাইলে হেঁটে যেতে থাকেন তখন অন্যরকম একটা অনুভূতি লাগলো যেনো মজার মাঝে বিয়োগত্মক অনুভূতি।।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
হাসতে হাসতে বীরের মতন মারা গেলেন। উনি কোন অস্ত্রধারী যোদ্ধা নন আবার নাৎসিদের বিরুদ্ধে খুব প্রতিবাদীও নন, তারপরেও তিনি তার সন্তানের কাছে বীর যোদ্ধা কারণ সন্তানকে কষ্ট বুঝতে দেন নি বরং কষ্টকে হাস্যরস খেলায় পরিণত করে,সেই কষ্টকে জয় করেছেন। শেষের দিকে সত্যি ট্যাঙ্ক আসে আর ছেলে সেই হাস্যরস খেলায় বিজয়ী হয়ে যায়। নাৎসী বাহিনী পরাজিত। একটা ছেলের নিষ্পাপ মন দেখানো হয়েছে।
বাবা ছেলের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। নিজের স্ত্রী ডোরা সাথে তার ক্যামিস্ট্রিও দেখার মতন।সিনেমায় মজার মজার বুদ্ধিভিত্তিক ধাঁধা কমেডিকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করে তুলে।।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
মিঃ জিউডো জীবনে এক প্রিন্সেস চলে আসে। এক সুন্দরীর একটা বিল্ডিংয়ের দোতলা উপর থেকে তার উপর পড়ে যায়। মিঃ জিউডো মজা করে বলে উঠে আজকাল প্রিন্সেস উপড়ে থেকে মাথায় পরে। একদিন সাইকেল থেকে সেই সুন্দরীর উপর পরে যায়। একটা স্কুলে প্রিন্সিপাল সেজে চলে যায় সেখানেও সেই সুন্দরী। সুন্দরী নাম ডোরা। তাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে।করে। সেই দৃশ্যগুলো বেশ মজার ছিলো।
বার বার ক্যাপ চেঞ্জ করা আবার একেই লোকের মাথায় ডিম ভাঙার দৃশ্যগুলো দেখতে বেশ মজা পাওয়া যাবে। একটা মানুষের এতোটা মজার কি করে হতে পারে। সবাই কঠোর হতে পারে কিন্তু সবাই মজার হতে পারে না।।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ইহুদিদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পে আটক করা হচ্ছে।।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
মিঃ জিউডো একজন কালোহীন ও নির্ভেজাল মানুষ। নাৎসী বাহিনীর টার্গেটে পরে যায়। নিজের স্ত্রীকেও অনেক ভালোবাসেন। এমনটিই তার অন্তরটা ফুলের বাগানের মত গোছানো তার মধ্যে সুন্দর একটা ভ্রমর চলে এসে আরো জমজমাট করে দিলো। তার স্ত্রী ডোরা সেই ভ্রমর। ফুলে তো ভ্রমর বসবেই।।
** জীবন আসলেই বিউটিফুল **
জীবনটা আসলে কতটা সুন্দর ও আনন্দময় হতে পারে সেটা প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিবে এই অসাধারণ ইতালিয়ান সিনেমা। সত্যিই ইতালিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেক অনেক সমৃদ্ধ।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!