প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকমেডিটারানিও (১৯৯১)

সিনেম্যাটিক

মেডিটারানিও (১৯৯১)

মেডিটারানিও  (১৯৯১)

Movie name : Mediterraneo (1991)

Country: Italy 

বিজ্ঞাপন

আপনি কি জানেন ইতালি একমাত্র ইউরোপের দেশ যারা সবচেয় বেশি ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজে ১৪ টি অস্কার পেয়েছে। ইতালির এই ড্রামা সিনেমাটিও অসাধারণ যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত কিছু সৈনিকের গল্প। অস্ত্রের গুলির শব্দ শুনতে শুনতে ও বারুদের গন্ধ নাকে যেতে যেতে তারা মানসিক ভাবে ক্লান্ত। তারাও যে মানুষ হয়তো যুদ্ধের চাপে ভুলেই গিয়েছিলো। মানুষ মানেই অন্তরে সাদা কালো থাকবে আবার রংধনু থাকবে। আশা,স্বপ্ন, এবং মন খুলে হাসি আসবে। তাহলেই তো আপনি মানুষ।।


ইতালির সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধশালী। জীবন ও আবেগ এই দুটো বেশ প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এই সিনেমাও ঠিক তাই। কয়েকজন আর্মি একটা দ্বীপে চলে যায় এবং টার্গেট থাকে সেটা দখল নেওয়ার। দ্বীপে পৌঁছানোর পর ঘটলো ভিন্ন কিছু। দ্বীপে তেমন কেউ নেই শুধুমাত্র অল্প কিছু মানুষ। তারমধ্যে রেডিও নষ্ট হয়ে যায়। 


এক এক জনের মজার মজার কাণ্ড দেখতে ভালোই লাগবে। যুদ্ধের আমেজ এখানে নেই। যুদ্ধের বন্দুক ও গোলাবারুদ আজ থেকে বেকার।।


লেফটেন্যান্ট রাফায়েলে সৈনিক দের প্রধান। খুব কঠোর লিডারশিপ দিয়ে থাকেন কিন্তু দীপে আসার পর অনেকটাই নীরব ও শান্ত। লিডারশিপ ভুলে যেতে থাকেন। মানসিক ভাবে কিছুটা হতাশা ও কষ্টে আছেন।


কমেডি ও ড্রামা ধাঁচের এই সিনেমা দেখতে দেখতে ভালো লাগতে লাগতেই শেষ হয়ে যাব। বেশ জীবন নির্ভর ও দর্শনভিত্তিক কন্সেপ্ট রয়েছে।।


রেডিও নষ্ট হওয়ায় বাইরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলো। এখানে যুদ্ধ যার জন্য করবে কেনো করবে? এই দ্বীপে শত্রু নেই। সবাই সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে। কোন সৈন্য গাধা নিয়ে ব্যস্ত, কোন সৈন্য ছবি আঁকা নিয়ে ব্যস্ত, আবার কোন সৈন্য ঘুরে বেড়িয়ে সময় কাটাচ্ছে। কেউ অলস ভাবে জীবন পার করছে।।


দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ চলছিলো। দ্বীপে আসার পর বন্দুক আর গোলাবারুদ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকে। মানসিক এক শীতল শান্তি সবার মনে অনুভব হতে থাকে। যুদ্ধ আসলেই শান্তি কেড়ে নেয়। 


তাহলে কেনো এই যুদ্ধ। সিমার মূল ম্যাসেজ এটাই হয়ত যুদ্ধের মাঝে শান্তি নেই। শান্তি তো প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের মাঝেই রয়েছে। এলাকার স্থানীয়দের সাথে ভালোই খাতির হতে থাকে।।


মিস ভাসিলিসা নামে এক নারীর সাথে সব সৈনিকদের পরিচয় হয়। জার্মান সেনারা নিয়ে এসেছিলো কিন্তু মেয়েটি যৌনকর্মী হলেও স্বাধীনচেতা ও বেশ আন্তরিক। সৈনিকদের ক্যাপ্টেন লেফটেন্যান্ট মিঃ রাফায়েলে সহ কেউ কেউ মেয়েটির সাথে খাতির ও সেক্স করতে লাগলো। যুদ্ধের কারণে যৌনতা ভুলেই গিয়েছিলো।


 মিঃ ফারিনা উদাস মনের মানুষ। এখানে আসার পর গাধা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। সৈনিক ফারিনা সেই মেয়েটির সাথে সেক্স করলো না। কারণ তিনি সেই মেয়েটির শরীর চান না,বরং তার মন,হাসি ও আবেগগুলোর প্রতি বেশি আকৃষ্ট।।


সিনেমায় দেখাবে ভাগ্য, পরিস্থিতি ও প্রকৃতি মানুষকে কিভাবে পরিবর্তন করে। একে একে সবার আচরণে পরিবর্তন আসে। আসলেই উপভোগ্য সিনেমা। ইতালিয়ান বলে কথা।


সিনেমার লোকেশন বেশ ভালো লাগবে। শান্ত সমুদ্র ও প্রকৃতি। সৈনিকরা মানুষের রক্ত ঝরাতে ভুলে গিয়েছে। যুদ্ধরত সৈনিকদের অন্তরেও শান্তির চাহিদা থাকে। মুখ ফুটে বলতে পারে না। তিন বছর হয়ে গেলো কয়জন সৈনিকরা এই দ্বীপে বাস করছে। হুট করে ইতালিয়ান এক সৈনিক প্লেনে করে চলে আসে। সে জানায় যুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু আগেই।।


শেষে একটু ইমোশনাল। লেফটেন্যান্ট রাফায়েল ও কিছু সৈন্য দ্বীপ ছেড়ে চলে যায় কারণ নিজ দেশ তাদের টানছে। তাদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা আছে। এটা আসলে মন মানসিকতার ব্যাপার। দ্বীপ তাদের টানছে না। মানসিক মুক্তির চাহিদা হয়তো তাদের নেই।


নিকোলা ও ফারিনা এই দুজন থেকে যায় কারণ দেশে ফিরে গেলে যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে। যুদ্ধের স্মৃতি ও তার ক্ষত নতুন করে মনে স্থান দিতে পারবে না। এই দ্বীপে তারা দুজন গভীর শান্তি খুঁজে পেয়েছে। মসনিক মুক্তির চাহিদা এই দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।।


শান্তি ছাড়া জীবন কি চলে?? মিঃ ফারিনার চরিত্রটা বেশ ভালো লাগবে। নির্জন দ্বীপে অনেক শূন্যতা আছে কিন্তু যুদ্ধের আমেজ নেই। নিজে মরতে হবে না, আবার কাউকে মারতেও হবে না। শান্ত দ্বীপ শুধুই শান্তিময়।।


যুদ্ধ তাদের বীর যোদ্ধা বানিয়েছিলো কিন্তু এই দ্বীপ তাদের সৈনিকদের মানুষ বানিয়েছে। অন্তরে প্রশান্তি দিয়েছে।।


০ মন্তব্য · ২১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!