প্রথম পাতাজীবনধারাবিষাক্ত মানুষ

জীবনধারা

বিষাক্ত মানুষ

বিষাক্ত মানুষ

সব বিষাক্ত মানুষকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না।

কিন্তু তাদের বিষাক্ত আচরণকে নিজের ভেতরে ঢুকতে দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়।

বিজ্ঞাপন

আপনি আজই চাকরি ছেড়ে দিয়ে সেই বিষাক্ত বস থেকে মুক্ত হতে পারবেন না।

আগামীকালই কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাও হয়তো সম্ভব নয়।

তাহলে কী করবেন?

যখন চলে যাওয়ার সুযোগ নেই, তখন নিজেকে কীভাবে বাঁচাবেন?

সমস্যাটা হলো, আপনি হয়তো ধীরে ধীরে তাদের আচরণ শুষে নিচ্ছেন।

তাদের রাগ আপনার মেজাজ নষ্ট করছে।

তাদের কটুকথা আপনার মাথায় ঘুরছে।

তাদের অপরাধবোধ চাপিয়ে দেওয়া আপনাকে নিজের কাছেই দোষী মনে করাচ্ছে।

অর্থাৎ, আপনার মানসিক শান্তির নিয়ন্ত্রণটা ধীরে ধীরে অন্য একজনের হাতে চলে যাচ্ছে।

এখানেই আপনাকে একটা মানসিক সুরক্ষা-কবচ তৈরি করতে হবে।

ভাবুন, বজ্রপাতের সময় আপনি খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন।

আঘাতটা সরাসরি আপনার ওপর পড়বে।

কিন্তু আপনি যদি একটি ধাতব খাঁচার ভেতরে থাকেন, বিদ্যুৎ সেই খাঁচার বাইরের অংশ দিয়ে মাটিতে নেমে যাবে।

মানসিকভাবেও আপনাকে তেমন একটা “খাঁচা” তৈরি করতে হবে।

এর নাম হতে পারে—সহানুভূতিশীল দূরত্ব।

মানুষটার পাশে থাকবেন।

কথাও বলবেন।

প্রয়োজন হলে সাহায্যও করবেন।

কিন্তু তার আচরণ যেন আপনার ভেতরের শান্তিটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

১. প্রতিক্রিয়া না দিয়ে পর্যবেক্ষণ করুন।

সে যখন রেগে যাচ্ছে, চিৎকার করছে বা আপনাকে উসকে দিচ্ছে, তখন সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেবেন না।

মনে মনে বলুন—

“আচ্ছা… মানুষটা এখন কতটা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, সেটা দেখছি।”

“আমার সঙ্গেই কেন এমন হচ্ছে?”—এই প্রশ্নে যাবেন না।

আপনি পরিস্থিতির অংশ না হয়ে, পরিস্থিতির একজন পর্যবেক্ষক হয়ে উঠুন।

এই মানসিক দূরত্বটাই আপনার ভেতরের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২. তাকে আঁকড়ে ধরার মতো কিছু দেবেন না।

একটা দীর্ঘশ্বাস।

একটা অভিযোগ।

একটা অপরাধবোধ তৈরি করার চেষ্টা।

অথবা এমন একটা কথা, যার উত্তর দিতে গিয়ে আপনি নিজেকে বারবার প্রমাণ করতে থাকবেন।

মনে রাখবেন—

প্রতিটি কথার জবাব দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়।

ব্যাখ্যা করবেন না।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে যাবেন না।

তর্কে জড়াবেন না।

শান্তভাবে বলতে পারেন—

“বুঝেছি। বিষয়টা আমি ভেবে দেখব।”

তারপর থামুন।

৩. নিজের শরীরকে শান্ত করুন।

পরিস্থিতি যখন খুব তীব্র হয়ে যায়, দুই সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করুন।

ধীরে শ্বাস নিন।

কল্পনা করুন, আপনার আর ওই মানুষটির মাঝখানে স্বচ্ছ একটি কাচের দেয়াল রয়েছে।

তার রাগ আছে।

তার অস্থিরতা আছে।

তার কটুকথা আছে।

কিন্তু সেগুলো কাচে আটকে যাচ্ছে।

আপনার ভেতরে ঢুকছে না।

এটা কোনো জাদু নয়।

এটা আপনার মনোযোগকে অন্য মানুষের আচরণ থেকে সরিয়ে নিজের ভেতরের অবস্থার দিকে ফিরিয়ে আনার একটি মানসিক কৌশল।

আপনি হয়তো আজই সেখান থেকে চলে যেতে পারবেন না।

চাকরি ছাড়তে পারবেন না।

সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবেন না।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার শান্তির নিয়ন্ত্রণও তার হাতে থাকবে।

সব জায়গা থেকে চলে যাওয়া সম্ভব নয়।

কিন্তু সবকিছুকে নিজের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া বন্ধ করা সম্ভব।

আপনি আজই সীমারেখা তৈরি করতে পারেন।

কারণ—

আপনি যেখানে আছেন, সেটা হয়তো এখনই বদলাতে পারবেন না।

কিন্তু সেই জায়গাটা আপনার ভেতরে কতটা জায়গা দখল করবে সেটা বদলাতে পারেন।

০ মন্তব্য · ২৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!