প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকদ্যা পোস্টম্যান (১৯৯৪)

সিনেম্যাটিক

দ্যা পোস্টম্যান (১৯৯৪)

দ্যা পোস্টম্যান  (১৯৯৪)

Movie name : The Postman (1994)

Country : Italy 

বিজ্ঞাপন

কবিতার দর্শনীয় ও মায়াবী শক্তিমত্তা মানুষের মন বা হৃদ্য়কে পরিবর্তন করতে পারে। কবিতার এক একটা মেটাফর ভিন্ন ভিন্ন দর্শন সৃষ্ট করে পাথরের হৃদয়কে ফুলের মত নরম ও সৌরভময় করে তুলে। কবি ও কবিতার মনস্তাত্ত্বিক অভিব্যক্তি কোন ব্যক্তির আবেগীয় আচরণের ধরন ও রং কে প্রভাবিত করে থাকে। কবি শুধু কবিতা ও ছন্দ তৈরি করে না বরং নতুন আবেগের জন্ম দেয়। ভালো ও ভালোবাসার তৃষ্ণা অন্তরে সৃষ্টি করে থাকে।।


ইতালির অন্যতম সেরা আর্ট ও কাব্যিক ড্রামা সিনেমাটি আপনার ভালো লাগবেই। বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী কবি ডন নেরুদার ইতালির অবস্থান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, একাকিত্ব ও একজন পোস্টম্যানের আবেগীয় পরিবর্তন প্রাধান্য পেয়েছে। শান্ত নীল সমুদ্র নেরুদার কবিতার প্রেমে হয়তো পরে যায়। পোস্ট ম্যানের গুপ্ত ভালোবাসা আছে। ভক্তদের কত কত চিঠি নেরুদার কাছে আসে। খামের ভিতরে বন্দী আবেগুলোও প্রতিদিন মুক্ত হয়।


সিনেমার লোকেশন ও ডিরেকশন পারফেক্ট। জীবনে কি লাগে আসলে? ধণ দৌলত থেকে মনের শান্তি অনেক দামী। তার থেকে অনেক দামী কবিতা ও কাব্য।


নেরুদা চিলির বিখ্যাত কবি ও কথা সাহিত্যিক। চিলির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। আমি নেরুদাকে নিয়ে সিনেমা দেখছি আর সেটা রিভিউ দেওয়া আছে।।


সিনেমার মূল ঘটনা কিছু বলি। মিঃ মারিও হুট করে পোস্ট ম্যানের চাকুরী পেয়ে যায়। নেরুদার যত চিঠি দেশ ও বিদেশ থেকে আসবে সেগুলো তাকে পৌঁছে দিতে হবে। একটি লাজুক ও সাধারণ মনের মানুষ কিন্তু নেরুদার কাছে যেতে যেতে নেরুদার কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। জানতে চায় কবিতার দর্শন।


কবিতা বুঝতে বুঝতে প্রেমে পরে যায় এক রমণীর। সেই নারীর প্রেম তাকে পাগল করে দিয়েছে। মিঃ মারিও কবিতার মেটাফোর জালে তাকে আটকাতে চায়। কবিতার লাইন গুলোতে মনের গুপ্ত কথাগুলো লুকিয়ে আছে। কবিতা দিয়েই সেই মেয়ের মনে প্রাণে কবিতার বাগান তৈরি করতে চায়।।


মেয়েটি মুগ্ধ হতে থাকে। কবিতার একটা পাতা নিজের বুকের ভাঁজে রেখে দেয়। নেরুদার কাব্যিক বুদ্ধি কাজে আসলো। মিঃ মারিওর সাথে কবি নেরুদার ভালো সম্পর্ক হয়ে যায়। নেরুদা ইতালি ছেড়ে চলে যায়। 


মিঃ মারিও আর সেই মেয়ের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ডন নেরুদা কয়েক বছর পর ইতালির ফিরে আসে। জানতে পারে মারিও মারা যায়। মারিও মারা যাওয়ার আগে অডিও রেকর্ড রেখে যায়। বেশ ইমোশনাল।।


কবিতার আধ্যাত্মিকতা মানুষের আত্মাকে পরিবর্তন করতে পারে। আত্মার আবেগের চাহিদা বুঝতে পারে। মারিও খুব শিক্ষিত না কিন্তু কবিতার দর্শন তার অন্তরে এমন ভাবে জাগ্রত হয় যে নিজের অন্তরটাই কাব্যকিতায় রূপ নেয়। একজন বিশ্ব বিখ্যাত কবি আর একজন পোস্ট ম্যানের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছে কবিতার শক্তির বলে।।


০ মন্তব্য · ৪০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!