Movie name : Malena (2000)
Country: Italy
শারীরিক অপরূপ সৌন্দর্য, যৌনতার উদ্দাম আবেগ ও সমাজের হিংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি সিনেমায় প্রতিটা দৃশ্যে প্রাধান্য পেয়েছে। আবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক খেলা একসাথে দেখানো হয়েছে। রমণীর রূপ প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ ও পবিত্র কিন্তু সমাজের হাজারও চোখের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুভূতি সেই পবিত্রতার সৌন্দর্যের উপর কালি দিয়ে নোংরা কারুকাজ করতেই থাকে।।
ইতালিয়ান অভিনেত্রী মনিকা বেলিউসির অভিনয়ের যাদু আপনাকে অভিভূত করবে। তার দুই চোখে শূন্যতার আবেগ, মনের মধ্যে অস্থিরতা ও সমাজের কালো ছায়ার সাথে নিজের ছায়ার নৈতিক লড়াই ফুটে উঠেছে। ফুলের মতনই সুন্দর তার রূপ ও যৌবন যেনো আগুনের ভুল কিন্তু অন্তরে সেই আগুন জ্বালা দেয়, মিষ্টি সুবাস ছড়ায় ও চোখে প্রশান্তি এনে দেয়।।
মনিকা বেলিউসি ছাড়া এই চরিত্র অসম্ভব। সমাজের নোংরা চোখ ও আবেগের সাথে কীভাবে টিকে থাকতে হয় সেটাও দেখানো হয়েছে। সিনেমায় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ প্রেক্ষাপট দেখানো হয়েছে সেই সাথে সিসিলি শহরের সমাজ ব্যবস্থা, মধ্য ও দরিদ্র পরিবার প্রাধান্য পেয়েছে।
মিসেস ম্যালেনা তার রূপবতীর জন্যই বিপদ আরও বেশি হয়ে আসে। সিনেমার ইমোশনাল পয়েন্ট এখানেই শুরু হয়। যুদ্ধ ও নিঃসঙ্গতা সিনেমার অন্যতম মূল প্রেক্ষাপট। যুদ্ধের অশান্তির প্রভাব ম্যালেনার জীবনে প্রভাবিত হতে থাকে।।
মিসেস ম্যালেনা যখন বাহিরে হেঁটে হেঁটে চলতে থাকেন তখন হাজারো কামনার চোখ উম্মাদনা হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। উনি তো প্রকৃতির মতনই সুন্দর কিন্তু দর্শনহীন সমাজ সেটাকে নষ্ট করে দিতে চায়। সমাজের নারীরা মিস ম্যালেনাকে অপয়া হিসেবে দেখে এবং তাদের ধারণা এই মহিলা তাদের স্বামীদের নষ্ট করছে কিন্তু তাদের স্বামীদের কামনার চোখে তাকানো কে দোষ দিচ্ছে না। তারা বেশ বেশ সাধু।।
নারীকে যদি অন্তরের পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা হয় তাহলে শরীরের দুই চোখও সম্মানের দৃষ্টি দিয়ে দেখবে।ছোট ছেলে রেনাটো হয়তো মিস ম্যালেনাকে সম্মানের চোখেও দেখেছে তাইতো তার ভালো মন্দের সাক্ষীও হয়েছে। সাইকেল চালিয়ে সব সময় মিস ম্যালেনার পিছু নেয়। রেনাটোর অন্তরে ম্যালেনার দুই চোখের দৃষ্টি যেনো আবেগের সিল মেরে দিয়েছে। অন্তরে শুধুই যৌবনের জ্বলন্ত লাভা বের হয়ে আসছে।।
মিস ম্যালেনার কথা ভেবে বহুবার নিজের বীর্য ঝরিয়ে নিজের সুখ মিটিয়েছে কিন্তু তেরো বছরের এই ছোট ছেলেটি অসহায় মিসেস ম্যালেনকে নারী হিসেবেও দেখেছে। অনেক ঝড় ও বিপদ মহিলাটার উপর দিয়ে যায় কিন্তু ছেলেটি শুধু শুধু দেখেই যায় কিছু করার থাকে না। সমাজের নোংরা মন মানসিকতার ও নিষ্ঠুর পুরুষ শাসিত আইনের সাক্ষীও হয়ে থাকে। দেখেলো ও বুঝলো এই সমাজ নারীর জন্য কতটা ভয়ানক।।
মিয়ালেনা স্বামী জীবিত নাকি মৃত সেটা নিয়ে অনেকটা কনফিউজড। যুদ্ধ সমাজের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। তার স্বামীকে দূরে ঠেলে দিয়ে সমাজের কাছে কামনার পাত্রী বানিয়েছে। রেনাটোর ছেলেটির কর্মকান্ড দেখেলে মজা পাবেন। বয়ঃসন্ধি সময় বলে কথা। মিসেস ম্যালেনাকে নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য তার সহ্য হয় না। কামনার মন।হলেও মনুষত্ব আছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে ম্যালেনার জন্য প্রার্থনাও করে। অসাধারণ সিনেমা।।
যৌনতার উদ্দেশ্যে যদি দেখেন থাকলে সিনেমার মূল দর্শন বুজবেনা। তাই দেখতে হবে অন্তর দিয়ে যেখানে ইতালির সংস্কৃতি ফুটে উঠেছে, যুদ্ধকালীন সমাজ ব্যবস্থা, অজ্ঞতা,মূর্খতা এবং নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ফুটে উঠেছে। শরীর হলো আত্মার মুখোশ আর আত্মাকে দেখা যায় না তাই আত্মার কষ্ট বা দুঃখ কেউ অন্তরের দর্শনগত দৃষ্টি দিয়ে দেখতে বা অনুভব করতে চায় না।।
ম্যানেলার চোখের ভাষা গুলো যেনো ভিনদেশী তাই অন্তরে চোখ যাদের অন্ধ তদের কাছে ভিনদেশী হতেই পারে। নিষ্ঠুর ও নোংরা সমাজের নীতি নেই। লজ্জা নেই,অনুশোচনা নেই। নোংরা সমালোচনার উপর যদি জরিমানা করার সিস্টেম থাকত তাহলে ম্যালেনা মেয়েদের খারাপ হতে হতো না।।
সিনেমার প্রতিটি সিকুয়েন্স গভীর দর্শন খুঁজে পাওয়া যাবে। সিনেমার লোকেশন ও ডিরেকশন বেশ ভালো ছিলো। খুব বেশি ফাস্ট ও না আবার স্লো না। বেশ উপভোগ্য ড্রামা বলে যেতেই পারে। তবে ক্যামেরার কাজে নান্দনিকতা খুঁজে পাবেন। ইতালির সংস্কৃতি বা সিনেমাকে জানতে হলে এই দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিক সিনেমা লিস্টে রাখতে পারেন।।
তার স্বামী ফিরে আসবে কি আসবে না সেটা সময় বলে দিবে। তার স্বামী যদি ফিরে তাতে কি সমাজ ব্যবস্থা তো চেঞ্জ হচ্ছে না। ফালতু ট্যাবুগিরি তো বন্ধ হবে না।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!