Movie name:The Hand of God (2021)
Country: Italy
জীবন কখন পরিবর্তন হুট করে পরিবর্তন হয়ে যায় সেটা বলা যায় না। লাইফে বা জীবনে কষ্ট ও দুঃখ আসবে এটাই স্বাভাবিক, তবে কষ্টের জীবন হুট করে বদলে যেতে পারে। জীবনের দুই চাকার মোর ঘুরিয়ে অন্যদিকে যাত্রা করতেও পারে। এটাই তো সুন্দর ও স্বাভাবিক ব্যাপার যদি ভাগ্য ভালো থাকে। বিপদ সবার জীবনেই কম বেশি আসে তবে বিপদ কখনও কখনও ভাগ্য বদলে দেয়। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট ভাগ্য বেশ রহস্যময়।ভাগ্যের পরিবর্তন সিনেমার মূল বিষয়।।
ইতালির এই সিনেমাটিও ভালো লাগলো। ৮০ র দশকে নেপলস শহরের এক পরিবারের পারিবারিক জীবনের গল্প চার কোনার ফ্রেমে ফুটে উঠছে,যেখানে হাসি আনন্দ, কষ্ট, দুঃখ, প্রিয়জন হারানো বেদনা, জীবন ও যৌবন এবং যৌনতা উপভোগ্য ড্রামার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। উপস্থাপিত হয়েছে ধীর ড্রামা ও মুক্ত চেতনায়। নেপলস শহরের সংস্কৃতি ও সামাজিক অবস্থা দেখানো হয়েছে। ভালো লাগবে আশা করি।।
ম্যারাডোনা বিখ্যাত গোল যেটা হাত দিয়ে করেছিলো নাম দেওয়া হয়েছিলো হ্যান্ড অফ গডস। এই সিনেমায় এই হ্যান্ড অফ গডস কনসেপ্টটা একটু ভিন্ন আঙ্গিকে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। হ্যান্ড অফ গডস বলতে এখানে বুঝিয়েছে বিপদ থেকে হুট করে বেঁচে যাওয়া, ভাগ্যের পরিবর্তন হওয়া আবার নিজের মন ও আবেগের হুট করে পরিবর্তনকে বুঝায়। এখানে তাই হয়েছে মিঃ ফেবিতো হুট করে মৃত্যু থেকে বেঁচে গিয়েছে এবং তার ভাগ্যের হুট করে পরিবর্তন হয়েছে।।
দিয়াগো ম্যারাডোনার বিষয়টি এখানে আছে। বিশ্বকাপ খেলায় ম্যারাডোনা যখন হাত দিয়ে গোল দেয় সেই।সময়ের ইতালির নেপলস শহরের প্রেক্ষাপট দেখানো হয়েছে। ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল দিলো, এদিকে খেলা দেখতে আসায় ফেবিতো মৃত্যু থেকে বেঁচে যায়। তাদের বাসায় গ্যাস লিক হয়ে তাদের বাবা মা মারা যায়।ফেবিতো জীবনে আসে অনেক পরিবর্তন। এদিকে ম্যারাডোনা নেপলসে আসছে কারণ নেপলস ফুটবল ক্লাব ম্যারাডোনাকে কিনে নিয়েছে।।
নেপলস শহরের জীবন দেখানো হয়েছে। জীবনের বহু রং বহু চিন্তার মানুষ এক সাথে দুঃখ কষ্ট ও আনন্দ নিয়ে এগিয়ে চলে। ফেবিতো জীবনের অর্থ বুঝতে শিখে। ফিল্ম মেকিং তার প্যাশন কিন্তু সে পারবে কি পারবে না এটা নিয়ে ভাবছে। হয়তো তার কষ্ট তাকে।শক্তি দিতেও পারে। অনেক সময় কষ্ট আমাদের নতুন শক্তি ও প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো সেটাই হয়েছে।।
ফেবিতো ইতালির বিখ্যাত ফিল্ম মেকারের অন্তানিও এর সাথে দেখা করে ও কথা বলে। ফিল্ম মেকারের আন্তানিও বলেন "তুমি তোমার কষ্ট বা ট্রমাকে কাজে লাগাও। এটাই তোমাকে শক্তি দিবে।" আরেকটা কথা বলি ফেবিত চরিত্রটি বাস্তবেও আছে মিঃ পাওলো যিনি নির্মাণ করেছিলেন the Greta beauty , the young pope এর মত আলোচিতো কাজ। এই পাওলোর ছোট বেলার কাহানি দেখানো হয়েছে ফেবিতো নামে। ঘটনা যা ঘটেছে সেটা সত্য।।
ভাঙ্গা ও গড়ার মধ্যে দিয়ে জীবনে পরিবর্তন আসে। ফেবিতো এক সময় কিশোর ছিলো এখন সে যুবক হচ্ছে। বাবা মা কেউ নেই। আত্মীয় এক সময় দূরে চলে যায়। জীবন যুদ্ধে একা বড় একা। লড়তে হবে জিততে হবে। সিনেমায় জীবনের বাস্তবতা দেখানো হয়েছে। শেষে দেখায় ফেবিতো রোম চলে আসছে। পেছনে কষ্ট আর সামনে স্বপ্ন। ক্যামেরা হাতে নিতে হবে। বুক ভরা আশা আছে। নিজের হাতে ক্যামেরায় ফুটিয়ে তুলবে ম্যাজিকাল রিয়েলিজম।।
ইতালির সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে এই আর্ট ড্রামা মুভিটি দেখতে পারেন।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!