Movie name: Bicycle Thieves (1948)
Country: Italy
অস্কার জয়ী এই অসাধারণ ইতালিয়ান সিনেমা দেখার পর ভাবছিলাম অভাব, দারিদ্র্যতা ও রাষ্ট্রের অবহেলা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনের উপর কতটা
নেতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে। অভাব কিন্তু ধৈর্যের পরীক্ষা প্রতিনিয়ত নিতেই থাকে,সেই সাথে যদি আইন ও রাষ্ট্রের অবহেলা মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাড়ায় তখন তো নৈতিকতার ভয়াবহ পতন হতে থাকে।।
মিঃ রিচিও তার অন্তরের নৈতিকতা ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলো। বাধ্য হয়ে সাইকেল চুরি করতে যায় কিন্তু ধরাও খেয়ে যায় কারণ তিনি তো প্রোফেশনাল চোর নন। তার আত্মা ও আত্মার মূল্যবোধ সমাজ ও রাষ্ট্র চুরি করে নিয়ে গিয়েছে।।
এই সাদা কালো আর্ট সিনেমাটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। ভালো লাগার মতন ইতালিয়ান ড্রামা সিনেমা। একটা দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্যতার বাস্তব ও কঠিন পরিস্থিতি চার কোনা ফ্রেমে সযত্নে ফুটে উঠেছে। মনের মধ্যে থেকে হাজারো প্রশ্ন এসেছে, আমি থাকলে সেখানে কি করতাম? এই দারিদ্রতা ও বঞ্চনা আমি কি সহ্য করতে পারতাম? মিঃ রিচি সাইকেল চালিয়ে তার দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করছে। এই সাইকেল তার শেষ অবলম্বন,আশা ভরসা ও জীবন যুদ্ধের একমাত্র অস্ত্র।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ঐতিহ্যবাহী ও প্রাণের শহর রোমে তেমন জনকল্যাণ নেই। সেখানে দারিদ্রতা ও বেকারত্বে ছেয়ে গিয়েছে। মানবিকতা গভীর কোমায় চলে গিয়েছে।গরীবের চাপা কষ্ট উপলদ্ধি করার মতন সচেতনতা সরকারের হয়ে উঠে নেই। মিঃ রিচির মতো হাজারো বেকারের কষ্ট কেউ বুঝতে চায় না। সিনেমার প্রতিটা দৃশ্য আপনার ভালো লাগবে।
মিঃ রিচির স্ত্রীর চরিত্রটাও বেশ গুরুত্বপুর্ন। স্বামীর জন্য নিজেদের বিছানার চাদর পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়। সেই টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা সাইকেল উদ্ধার করে। মিঃ রিচি হুট করে চাকুরী পেয়ে যায়। রোমের দেয়ালে দেয়ালে সিনেমার পোস্টার লাগাতে হবে। তাই সাইকেল অবশ্যই লাগবে। মিঃ রিচি সাইকেল চালিয়ে তার চাকুরীর কাজ করে যাচ্ছেন। স্বামী ও স্ত্রীর বন্ধন ও দুজন দুজনার সাপোর্ট দেখার মতন ছিলো।।
বাবা ও ছেলের সম্পর্কটা সিনেমার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।
নিজের ছেলেকে অনেক ভালোবাসে। বাবার পাশে যেনো ছায়ার মতন হয়ে থেকে জীবন যুদ্ধ লড়াই করা শিখছে।ছোট ছেলেটিও সাইকেলটাকে যত্ন করে থাকে। কাপড় দিয়ে মুছে দেয়। সাইকেলটি তাদের আশা ভরসা ও স্বপ্ন। জীবিকার উৎস। অন্যদিনের মিঃ রিচি দেয়ালে পোস্টার লাগছিলেন কিন্তু হুট করেই এক চোর চোখের সামনে সাইকেলটি নিয়ে চলে যায়। মিঃ রিচি দৌড়াতে দৌড়াতে পালিয়ে যায়। ধরতে পারে নি।।
সিনেমার মূল ঘটনা এখান থেকেই শুরু হয়। পুরো রোম শহরে হন্যে হয়ে সাইকেলটি খোঁজ করতে থাকে। নিজ চোখের সামনে আশা ভরসা আর স্বপ্ন ছিনতাই হয়ে গেলো। প্রতিটা অলিগলি খুঁজতে লাগলো। বাবা ও ছেলের নতুন লড়াই শুরু হলো। আবেগ খোজার লড়াই, স্বপ্ন খোজার লড়াই, জীবিকা খোজার লড়াই। খুঁজতে খুঁজতে বিবেক হারিয়েও ফেলে।।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরও রোম সিটি বেশ উন্নত কিন্তু জীবনের কষ্টের উন্নতি তেমন হচ্ছে না। পুলিশ তেমন কিছু করতে পারলো না। সাইলেকের দোকানে,পুরোনো ভাঙারি দোকানে,চোরাই বাজারে সাইকেল খুঁজতে লাগলো।স্বপ্নগুলো কোন চিপায় কেউ জানে না। বাবা ও ছেলে এক সাথে সাইকেল খুঁজতে লাগলো। অসহায় হয়ে মিঃ রিচি মাঝে মাঝে গান রাস্তায় বসে গান শুনে।।
সিনেমার লোকেশন বেশ ভালো ছিলো। হুট করে বৃষ্টি চলে আশা। শ্রমিকের ঘামে ভেজা রাস্তা। রোম শহরকে বিভিন্ন আবেগে, বিভিন্ন অঙ্গে, বহু রঙে আরো হিসাব ও বেহিসাবে দেখানো হয়েছে। সিনেমার ডিরেকশন এক কথায় অসাধারণ। শুধু ইতালি না বিশ্বের সিনেমার ধারাকে বদলে দিয়েছে। শেষের দিকে বেশ ইমোশনাল ছিলো।
অন্তরে চাপা কষ্ট আর আইনের শাসনের অভাব নিজের বিবেককে মাটি চাপা দিয়ে সাইকেল চুরি করতে যায়। এর দায় রাষ্টের। ছোট ছেলেটিকে বেশ ভালো লাগবে। দারিদ্রতার সাথে ছোট ছেলেটি নতুন করে লড়াই হয়ত করে যাবে।
বেঁচে থাকুক বাবা ছেলের ভালোবাসা এবং স্বামী স্ত্রী ভালোবাসা।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!