Movie name: 8 ½ (1963)
Country : Italy
ইতালির অন্যতম সেরা ক্লাসিক্যাল আর্ট ড্রামা সিনেমা এবং অস্কার জয়ী বিশ্বে প্রশংসিত ও অনুপ্রাণিত। এই।সিনেমা থেকেই বিশ্বে অনেক সিনেমা নির্মাতা ভালো ভাবেই অনুপ্রাণিত হয়েছে। এই আর্ট সিনেমাটি হলো অনেকটাই আত্মজীবনীমূলক কারণ এখানে একজন বিখ্যাত ইতালিয়ান সিনেমা ডিরেক্টর ফেদেরিকো ফেলিনি জীবন ও তার মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।।
পুরো সিনেমাটিতে অপূর্ণতার ছড়াছড়ি। সিনেমার নামটাই সাড়ে আট মানে পুরপুরি আটও না, আবার নয় ও না। এটা হলো অপূর্ণতা। আবেগের অপূর্ণতা, প্রেমের অপূর্ণতা, কল্পনা স্বপ্ন ও যৌনতা সুখের অপূর্ণতা সব কিছুই আছে। কল্পনা যেনো বাস্তব আবার বাস্তব যেনো কল্পনা। মুহূর্তে মুহূর্তে সিকুয়েন্স পরিবর্তন হয়।।
সিনেমার ভিতরে এক স্থবির সিনেমা। বিখ্যাত ডিরেক্টর ফেদেরিকো মন যেনো উদাস ফড়িং। তিনি বানাচ্ছেন কিন্তু কি নির্মাণ করবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না। মনের মধ্যে কেনো যেনো অস্থিরতা। অন্তরের মধ্যেই যেনো অভিমানের সিনেমা চলছে। সৃজনশীলতা পছন্দ।করেন নিজের মত করে ড্রামা আর্ট সাজিয়ে নিতে চাচ্ছেন কিন্তু পারছেন কোথায়। অন্তরে শৃংখলা নেই তার মধ্যে নিজের মধ্যে অনেক কিছুর অভাব বোধ করছেন।
তিনি এর আগে ছয়টা সিনেমার কাজ করেছেন।হয়তো তার ভিতরের স্বত্তাগুলো বিশ্রাম চাইছে। জীবনে চলার পথে মানসিক অবস্থা পরিবর্তন হয়। মন ভাঙে মন গড়ে এটাই হয়তো স্বাভাবিক অনেকটা নদী ভাঙন ও চর জেগে উঠার মতন। তিনি নিজের আত্মাকে নতুন করে বুঝতে চাইছেন। আত্মার চাহিদাগুলো খুঁজছেন।।
আরেকটা কথা বলি সিনেমায় তার নাম ছিল গিউডো।
প্রডিউসার টাকা ঢেলেই যাচ্ছে কিন্তু এদিকে ডিরেক্টরের এই বেহাল অবস্থা। এই মানসিক অবস্থা গুলো সযত্নে তুলে ধরা হয়েছে। হাসি আনন্দ দুঃখ কষ্ট সব কিছুই আছে। ডিরেক্টর সিনেমা বানিয়ে দর্শকে আনন্দ দেয় কিন্তু ডিরেক্টরের যে জীবন আছে, আবেগ আছে,কষ্ট আছে,পরিবার আছে সেগুলো কে বুঝবে? সিনেমা বানাতে বানাতে ভুলে যায় আসলে আমার ভিতরের আমিটা আসলে কে।।
সিনেমা দেখে মনে হবে পরিচালক নিজের জীবনী তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে এটা ঠিক কিন্তু দিন শেষ তিনি একজন মানুষ। হয়তো সিনেমা থেকে বিরতি চাচ্ছেন কিন্তু পারছেন না। একজন সিনেমা ডিরেক্টর কতটা মানসিক চাপে থাকে এবং তার মেধা ও কল্পনার উত্থান পতন হয় সেটাও বিভিন্ন সিকুয়েন্স দিয়ে বুঝানো হয়েছে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!