প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকরইদ (২০২৬)

সিনেম্যাটিক

রইদ (২০২৬)

রইদ  (২০২৬)


এটা কি শুধুই সিনেমা আর কিছুই না? সিনেমা তো এটা অবশ্যই তবে এটা হলো প্রবাহমান জীবনের বহুরূপীর প্রতিচ্ছবি যেখানে অন্ধকারের মায়াময় শেকলে বন্দী দুটো মানব ও মানবী। সেই অন্ধকারে আলোর প্রত্যাশা। সূর্যের আলো চাই। মনে মনে চাইছে কখন রোদ উঠবে। রোদে পুড়ে যাবে, রোদে পুড়ে কালো হবে এটাইতো চায়, অন্ধকারের ছায়া চায় না, অন্ধকারের শেকল চায় না।।

বিজ্ঞাপন


মেয়েটা পাগলী কিন্তু মেয়েটার মন রোদের মতো স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল। কেউ হয়তো চাচ্ছে মেয়েটার উপড়ে কালো মেঘের চাদর জড়িয়ে যাক। সাধু কতটুকু সেটা উপলদ্ধি করতে পেরেছে? হয়তো পারে নি। সাধু গন্দম ফলটাও খেয়ে ফেললো। নিজেদের অজান্তে গন্দম ফল আমরা ভুলের দর্শনের ফাঁদে পড়ে খেয়ে ফেলি কিন্তু সেটা তো উপলদ্ধি করতে পারি না। আমরা বেশির ভাগ সময়ে নিষিদ্ধের মায়াজালের মায়ার ভক্ত হয়ে থাকি।। 


আমরা যদি ন্যায় না বুঝতে পারি,শুদ্ধতাকে না বুঝতে পারি, পবিত্রতাকে না বুঝতে পারি তাহলে তো সেটা তো গন্দম ফল খাওয়ার মতন হয়ে গেলো। অশুদ্ধতার চর্চা সমাজে বেশি হয়। কি কাম করলো সাধু। আলোকে ফেলে দিলো গিভীর কালো বনে।।


সাধু প্রেম বুঝেনি, প্রেমের রং ও ম্যাজিকাল রিয়ালিজম বুঝেনি। নিজের অবচেতন মনের ধোঁকায় সে প্রতারিত।গ্রামের মিথ গুলো যেনো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। হাজারো মানুষের হাজারো রকমের ভাবনা। স্বাভাবিক ভাবনা গুলো হয়ে যায় অস্বাভাবিক। ছোট অস্বাভাবিক কে টেনে বড় করার উম্মাদনার প্রতিযোগিতা মাটির গ্রামে চলে।।


সিনেমার লোকেশন ছিলো অসাধারণ। কাশফুলের মাঝে ছনের বাড়ি,পাশে নদী আর লম্বা সাদা মনের তাল গাছ। গ্রামের মধ্যবিত্তের খেটে খাওয়া জীবন সংগ্রাম খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্যামেরার কাজ এক কথায় অসাধারণ। প্রতিটা সিকুয়েন্স দুর্দান্ত। এক একটা ঘটনার মাঝে গভীর দর্শন আছে। কোনটা ভাগ্য আর কোনটা দুর্ভাগ্য সেটা নিয়ে যদিও চিন্তা করেন তাহলে ভেবে ভেবে মাথা ঘুরেও যেতে পারে।।


মানুষ প্রায়ই নিজের ভাগ্যের ভালো বা আশীর্বাদ গুলো উপলদ্ধি করতে পারে না, তাই না বুঝে সেগুলোকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। সেই সাধু তো জানে না যে কিছু কিছু আশীর্বাদ হলো তালের মতন। উপরে শক্ত আর ভিতরে নরম। পাকা তাল তো আমি মনে করি একটা পাগলাটে তিক্ত ফল, যা সরাসরি খাওয়া যায় না। প্রচুর আশ তো। তালের পিঠা খেতে বেশ অমৃত। 


আচ্ছা তাল দেখে কি মনে হয় এটা অমৃত?


পাগলীকে প্রথমে দেখে মনে হয়েছে কি যে সে ভালো পিঠা বানাতে পারে? পিঠার মধ্যে জাদুকরী মায়া দিয়ে সাধুকে মুগ্ধ করেছে। সাধু তার সরল ফিলোসফি দিয়ে মেনে নিয়েছে তার পাগলী বৌ বেশ ভালো পিঠা বানাতে পারে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাগলী কি আসলেই পাগলী নাকি আচরণগত কোন ছলনা বা সাধুর মনের পরীক্ষা।


অনেক সময় আশীর্বাদ মুখোশ পরে আসে কিন্তু সেই মুখোশ সময়মত না বুঝতে পারলে আশীর্বাদ তার জায়গা পরিবর্তন করে। অলক্ষ্মীকে হয়তো সেই জায়গা নিয়ে নেয়। সাদা কাশফুলের মাঝে শান্ত নদীর পারে সাধুর বাড়ি। চারপাশ যেনো সবুজের জটলা। তাল গাছ গুলো অভিমানহীন। আগুনে পুড়ে যায় আবার নতুন করে তালগছের মতন করে মাথা উঁচু করার চেষ্টা। 


পাগলী অনেক পাগলামী করে কিন্তু সাধু হয়ত তার অন্তরের ম্যাজিকাল রিয়ালিজম বুঝতে পারে নি। সাধু ভুল করেছে তার দোষে, ভুল আদম হওয়া করেছে, ভুল

করেছে হিটলার। পাগলী কি করে পিঠা বানায়? পাগল কি বুঝে কি করে সুন্দর করে পিঠা বানাতে হয়? পাগলী ভালবাসতে জানে কিন্তু ভালোবাসার অনুভূতি গুলো পাগলাটে যেমনটা তালের ভিতরে করা পাগলাটে শ্বাস আছে।।


সমাজ তাকে মানতে চায় না। সমাজের শেকলে তাকে বন্দী হতে হয়। সমাজের কালো চোখগুলো পাগলীর পিছনে পিছনে থাকে। অশুভ কালো চোখগুলো হয়তো বুঝতে পেরেছে এই পাগলী হয়তো কোন এক শুভ শক্তির অধিকারী। অশুভ ছায়া আমাদের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা ও আচরণগুলোকে এমন ভাবে নষ্ট করে যেনো কোন শুভ ছায়াকে আমরা দেখতে না পাই।


পাগলী সাধুর জীবনে এসেছে কিন্তু সাধু তাকে বুঝতে পারছে না কিন্তু সাধুর বাড়ির চারপাশ বুঝতে পেরেছে। সাদা কাশফুল থেকে নদী আর লম্বা তাল গাছ হয়তো পাগলীর মনের কথা বুঝে। পুরো সিনেমাটি স্লো ড্রামা। 


সাধুর গরীবের জীবন কিন্তু তদের জীবনের ঘটে যাওয়া দর্শন গুলো বেশ ধনী। একটা কথা মনে রাখা উচিত প্রকৃতি বেশ রহস্যময়। স্রষ্ট্রার সৃষ্টিতে রহস্যময় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকে মনে করবেন পাগলী গর্ভবতী কি করে হলো ? অন্য কেউ করেছে????


নাজিফা তুষী অসধারণ অভিনয় করেছে। প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না। সাধুর চরিত্রে ইমরানের অভিনয় ও এক্সপ্রেশন অসম্ভব রকমের ভালো। অভিনেতা ইমরান ছাড়া এটা পসিবল হতো না। মায়াময় মাটির গ্রাম পুরো সিনেমাকে আরও বেশি অলংকৃত করেছে। মিঃ গাজী রাকায়েতও তার সেরাটা দেখিয়েছে।।


রইদ সিনেমা দেশের সিনেমার স্টাইলকে পরিবর্তন করবে। নতুন ধারায় সিনেমা হবে। সিনেমায় আসবে ম্যাজিকাল রিয়ালিজম। 


কাজলরেখার সাধু ভুল বুঝতে পেরে কালো ডিঙিতে উঠেছিলো আর রইদের সাধু ভুল বুঝতে পারে হয়তো তাল গাছের স্তুপে উঠে পাগলীর হাত থেকে বড় তাল নিচ্ছিলো। সব সাধু ভুল করে কিন্তু ভুল ভাঙে শেষ পর্যায়ে।।


এই সিনেমা দেখার পর ভাবছি হাতের কাছে কোন কিছু কে অবহেলা করবো না কারণ না জানি কোন আশীর্বাদ লুকিয়ে আছে। রইদ এমন একটা সিনেমা যেটা নিয়ে হাজারও চিন্তা আসবে,হাজারো ধরনে ব্যাখা আসবে। 


আমি আমার মতন করে এখানে ব্যাখা করলাম। তবে আমি আবার নতুন কন্সেপ্ট নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাখা করবো মানে রিভিউ দিবো।।


মেজবাউর রহমান সুমন নান্দনিকতায় সেরা কারণ তার সৃষ্টি মানেই নান্দনিকতা। ভাই আপনি অসাধারণ। সেরা আপনার সৃষ্টি।।


০ মন্তব্য · ৭৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!