প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকইনসেনডাইস (২০১০)

সিনেম্যাটিক

ইনসেনডাইস (২০১০)

ইনসেনডাইস  (২০১০)

Movie Name: Incendies (2010) 

Country: Canada 

বিজ্ঞাপন

এক আর এক যোগ করলে দুই হবে সেটা আমজনতা ভালো ভাবেই জানে, কিন্তু কখনও কখনও একের সাথে এক যোগ করলে ফলাফল এক হয়, কারণ মাঝে মাঝে প্রকৃতি ও মানব মস্তিষ্ক অদ্ভুত আচরণ করে থাকে, যেটা

দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক কন্সেপ্ট গুলো উলটো দিকে হাঁটতে শুরু করে। রক্তের মধ্যে যখন দুর্ভাগ্য ও অস্বাভাবিকতা থাকে, তখন বীর্যের মধ্যে গণিতের নিয়মগুলো নিজের নিয়মেই এলেমেলো হবে এটাই তো স্বাভাবিক। 


বীর্য যখন নিজের অস্তিত্বকে আঘাত করে অস্বাভাবিক বীর্য সৃষ্টি করে তখন এক যোগ করলে তো এক হবেই। বীর্য অন্য রঙের অস্তিত্বকে খুঁজে নিয়ে নতুন বীর্য সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এই সিনেমার ঘটনায় যেটা হয়েছে, সেটা বেশ অস্বাভাবিক। অস্বাভাবিকতার জন্য দায়ী যুদ্ধ ও বিধ্বস্ত মানবিকতা। অস্বাভাবিক দুর্ভাগ্য।।


সিনেমায় দেখায় যুদ্ধ কিভাবে দেশও সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে,বিশেষ করে দীর্ঘ দিনের গৃহ যুদ্ধ মানুষের মানবিক দিকগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলে। শান্ত মানব হয়ে যায় পশুরুপী হিংস্র। ধর্মের পবিত্রতা নষ্ট হয়,

ধর্মের ভেদাভেদ ও হিংস্রতা বেড়ে যায়। 


মিসেস নাওয়াল মারওয়ান সাধাসিধে ও মেধাবী খ্রিষ্টান নারী,কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার ধর্মীয় উগ্রতা তাকে খুনি হতে বাধ্য করেছে। মুসলিম ছেলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর

সেই কারণে ভালোবাসাকে হারাতে হয়েছে। সমাজের নিষ্ঠুরতা প্রাধান্য পেয়েছে। ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছেলেরা নাম ছিলো নিহাদ।


মিসেস নাওয়াল আপোষহীন ও প্রতিবাদী এক নারী চরিত্রের প্রতীক। বাসে খ্রিস্টানদের ভয়াবহ হামলা দেখে তার মনে প্রতিশোধ জন্ম নেয় আর হত্যা করে খারাপ এক রাজনীতিবিদকে। তাকে জেলে পাঠানো হয়। তিনি জেলখানাতেও আপোষহীন ছিলেন। শুধু গান গাইতেন।জেলখানার চার দেয়ালে গান পৌঁছে যেতো। কেউ তার গানের গলা চেপে ধরতে পারে নি।।


নিহাদ নামে এই ছোট শিশু অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে। যুদ্ধ আর ধ্বংস দেখেছে। যুদ্ধবাজেরা ছোট নিহাদকে মানুষরূপী পশুতে রূপান্তর করে।ছোট বেলা থেকে তার ব্রেইন ওয়াশ করা হয়। বড় হয়ে জেলখানায় কাজ পায়। এই ছোট নিহাদ বড় হয়ে হয় নিষ্ঠুর আবু তারেক। 


জেলে বন্দী নারীদের রেপ করতে করতে একদিন এই লোক নিজের মাকে রেপ করে ফেলে কিন্তু সে উপলদ্ধি করতে পারে নি। কি করে বুঝবে যে এটা তার মা। দোষ তার না,দোষ নোংরা সমাজ ব্যবস্থায়। মিসেস নাওয়াল তার ছেলেকে দোষ দেয়নি। যুদ্ধ ও দুর্ভাগ্যক দোষারূপ দিয়েছে। মিস নাওয়াল তার একমাত্র ছেলে সন্তানকে ক্ষমা করে দিয়ে, অভিশাপের শৃঙ্খল শেকল গুলোকে  ভেঙে দিয়েছে।।


দুই ভাই বোন এক যোগ এক দিয়ে দুই মেলাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলো। নিজেদের শেকড়ের খোঁজে তারা বেরিয়ে পরলো। কানাডা থেকে চলে এলো লেবাননে। নিজেদের

ভাই ও বাবার খোঁজে তারা ছুটে বেরিয়ে চলছে। তাদের

হতে দুটো চিঠি।একটা বাবার জন্য আর আরেকটা চিঠি 

সেটা তাদের ভাইয়ের জন্য। 


মিথ্যার আড়ালে অনেক সত্য লুকানো ছিলো। সত্য তো সুন্দর কিন্তু সব সত্য আসলে সব সময় সুন্দর হতে পারে না। অনেক সময় সত্য হয়ে উঠে ভয়ংকর রকমের

গলার কাটা। গিলতেও পারবে না, বের করতেও পারবে

না। দুই যমজ ভাই বোন কি পারবে মাকে ক্ষমা করতে বা নিজেদের সহ্য করতে। দুই ভাই বোনের রক্ত ও বীর্য

যে স্বাভাবিক নয়। ভাই তদের বাবা আবার বাবা তাদের ভাই। দুর্ভাগ্য তাদের জন্ম দিয়েছে।।


নিহাদের কাছে দুটো চিঠি আসে। চিঠি পরে। মনের শুধু মধ্যে হঠাৎ উৎকণ্ঠা। নিহাদ জন্মের সময় তো নিষ্পাপ ছিলো কিন্তু সমাজ তাকে নিষ্ঠুর করেছে। তার বাবাকে তো আগেই হত্যা করা হয়েছে। যদিও তার বাবা মায়ের। বিয়ে হয়নি কিন্তু তার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।।


যমজ ভাই বোন দুটি নিষ্পাপ। মায়ের আদরে তারা বড় হয়েছে কিন্তু তাদের বাবা বলতে গেলে নেই আবার আছে।তাদের বড় ভাই বলতে গেলে আছে আবার নেই।

রক্ত ও বীর্যের খেলা তাদের পরিচয়হীন করে তুলেছে।।


নিহাদের বাবা নেই, মা থেকেও ছিলো না।

নিহাদ বাবা হয় আবার তাদের জন্ম নেওয়া সন্তানেরা তার ভাই। কারো দোষ নেই। ব্যাপারটা দুর্ভাগ্য।।


দুই যমজ ভাই বোনকে আজীবন চাপা কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। রক্তের ধারা তো বদলাবে না। রক্ত তো আর ফেলে দিতে পারবে না। মায়ের জন্য বেঁচে থাকুক।


কানাডার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আসলেই অসধারণ। তার চেয়ে বেশি অসাধারণ এই সাইকোলজিক্যাল ড্রামা ও থ্রিলার সিনেমা।।


০ মন্তব্য · ১০০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!