The Sweet Hereafter (1997)
Country: Canada
অনেকদিন পর ট্র্যাজেডি ও ইমোশনাল ধারার সিনেমা
দেখে নিলাম। কানাডা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কাজ বেশ ভালো।
বিশেষ করে ট্র্যাজেডি টাইপ ড্রামা সিনেমা তো ভালোই নির্মাণ করতে পারে। জীবন চলছে জীবনের নিয়মে তাই
সে চলেও যায় জীবনের নিয়মে। মৃত্যু প্রকৃতির একটা অংশ বলা যায়।মৃত্যু হতে পারে যখন তখন কিন্তু ছোট ছোট বাচ্চাদের মৃত্যু তো যখন তখন মেনে নেওয়া যায় না।।
কানাডার ছোট একটা শহরে বাস দুর্ঘটনায় প্রায় চৌদ্দ জন শিশু মারা যায়। দুই একজন পঙ্গু হয়ে আহত হয়ে
যায়।পুরো শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। চাঞ্চল্য
ও ব্যস্ততম শহর হুট করে হয়ে যায় নীরব,নিস্তব্ধ, শান্ত।
নিহত বাচ্চাদের বাবা মায়েরা মানসিক ভাবে বেশ ভেঙে পরে। কেউ কেউ নিজদের দোষ ভাবছেন,আবার কেউ
অদৃষ্টের দোষ দিচ্ছেন।রাস্তায় অনেক বরফ ছিলো তাই
গাড়ী স্লিপ খেয়ে ছোট নদীতে পরে যায়।।
বাস চালাচ্ছিলেন মিসেস দোলারেস। এতো বছর ধরে
বাস চালান এরকম কখনও হয়নি। তিনিও শারীরিক ও
মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত।সিনেমায় আবেগ অনুভূতিগুলো
এমনভাবে কারুকাজ করে প্রেজেন্ট করা হয়েছে যেটা
আপনার অনুভূতিতে ভালো ভাবে স্পর্শ করবে।এইবার
আসল ঘটনায় আসি,শহরে চলে এলো একজন প্রবীণ
আইনজীবী মি স্টিফেন,যিনি দুর্ঘটনার তদন্ত ও মামলা
করতে এসেছেন। তদন্ত করতে গিয়ে নিজেই ইমোশন
ট্র্যাপে পরে যাচ্ছেন।।
কিছু কিছু দুর্ঘটনা বা মৃত্যু এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে
যেখানে আইন আদালত বা জরিমানা বিষয়গুলো কষ্ট
ও বিয়োগাত্মকের কাছে দুর্বল হয়ে যায়। মিঃ স্টিফেন
চায় ভিকটিম পরিবারের সবাইকে সাহায্য করতে কিন্তু
ভিকটিম পরিবার গুলো হয়তো সেটা চাচ্ছে না, মৃত্যুর কোন আর্থিক পূরণ হয় না।মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ অন্তরে বা
হৃদয়ের ক্ষমা বা ভালোবাসা দিয়ে করা যায়।
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে চলমান সুখের সন্ধান করতে দেখা গিয়েছে। হয়তো এটাও সিনেমার অন্যতম
প্রধান মেসেজ। একজন বাবা তার আদরের দুটি যমজ সন্তান হারিয়েছে কিন্তু তিনি মামলা করতে নারাজ, তার
ধারণা মামলা করলে তার সন্তানেরা ফেরত আসবে না,
শুধু শুধু নিহত বাচ্চাদের স্মৃতি বা আবেগ ও অনুভূতি নিয়ে টানাটানি হবে।আসলে তারা নিজেদের মতন করে
কষ্ট পেতে চায়। তারা এই কষ্ট হয়তো ধীরে ধীরে ভুলে যাবে। নতুন করে জীবন শুরু করবে।
মিঃ স্টিফেন আসলে নিজের মতন করে সাহায্য করতে চাইছেন যদিও তার নিজের সন্তান বিপথগামী। দুর্ঘটনা
ব্যাপারটা আদালত পর্যন্ত চলেও যায় কিন্তু মিঃ স্টিফেন
যে ভাবে শিখিয়ে দিয়েছেন নিকলস সেইভাবে উত্তর না
দিয়ে ভুল কথা বলে দিয়েছে। মিঃ স্টিফেন অবাক হয়ে
গিয়েও কিছু বলেনি বরং মেনেও নেয়। আসলে তাদের
আবেগ কষ্টগুলো এতটাই গভীরে চলে গিয়েছে যে তারা
আদালত আইন বা জরিমানা নিয়ে ভাবছে না।।
সিনেমার মূল টারনিং পয়েন্ট ছিলো আদালতের রায়।
মিস নিকোলস আদালতে মিথ্যা বলে, আইনী ঝামেলা কে থামিয়ে দেন। মনের ক্ষত তো আদালত বা আইনের জরিমানার টাকা দিয়ে সারানো যাবে না। স্টিফেন চলে যান।ধীরে ধীরে আবার হয়তো শহরে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে।।
একটা বড় দুর্ঘটনা অনেক জীবনের মোর ঘুরিয়ে দেয়।
আবেগ অনুভূতির পরিবর্তন করে দেয়। জীবনের কিছু ক্ষতি ও কষ্ট সব সময় কাগজে কলমে মেলানো যায় না।
টাকায় পরিমাপ করা যায় না। আবেগের কষ্ট আবেগ দিয়ে সরিয়ে নিতে হয়।
মিঃ স্টিফেন হয়তো ব্যাপারটা অনেক পরে বুঝেছেন। এছাড়া নিজের ক্ষতই ঠিক মত সারছে না।এই সিনেমা জীবন দর্শন নতুন করে ভাবাবে।ক্ষমা করা,ভুলে যাওয়া
নিজদের নতুন করে ভাবতে শেখা এই কন্সেপ্ট গুলো
সিনেমায় মনে হয় প্র্যাকটিক্যালি শিখিয়ে দিলো। আচ্ছা
এই সিনেমার নাম দিয়ে এটাই বুঝানো হলো কষ্ট ভুলে
গিয়ে নতুন আলোর পথ ধরে চলা।।
নগ্ন শরীর যেমন উন্মুক্ত তাই চাপা কষ্টগুলোকে উন্মুক্ত
করে পাখির মতন ছেড়ে দিতে হয়। যাতে কষ্টগুলো ওই
মেঘের ওপারে চলে যায়।সব কিছু আবার আগের মতন
চলবে করুন সন্তানহারা বাবা মায়েরা মনের অভিমান
গুলো মুছে ফেলেছেন, শোকে শক্তি হয়েছেন।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!