Movie name: The Godfather (1972) 🇺🇸
Country : USA🇺🇸
এটা পৃথিবীর সেরা মাফিয়া ও ক্লাসিক ক্রাইম অ্যাকশন সিনেমা। হলিউডের সেরা সিনেমার তালিকা করলে এই সিনেমার নাম তো আনতেই হবে,কারণ সিনেমায় আছে একজন মাফিয়ার স্ট্রং পার্সোনালিটি, বিজনেস, ক্ষমতা এবং পারিবারিক বন্ধন। ১৯৭২ সালে নির্মিত হলেও এই সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যের দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিকতা আপনার কাছে এখনও আধুনিক মনে হবে।
এই আধুনিক সময়ে অনেক মাফিয়া সিনেমা নির্মিত হলেও The Godfather সিনেমা সর্বশ্রেষ্ঠ।।
সিনেমার প্লট থেকে শুরু করে ক্রাইম ও অ্যাকশন দৃশ্য, মাস্টার প্ল্যান,সিকুয়েন্স, কালার গ্রেডিং ডিরেকশন সহ সব কিছুই অসাধারণ। প্রজম্মের পর প্রজন্ম যদি কোন সিনেমা তার সাফল্য, জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যে গুণ থাকা প্রয়োজন তার সব গুণাবলী এই সিনেমায় রয়েছে।
সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই সিনেমা ফ্যান্টাসিজম।এই আধুনিক যুগে যে সকল মাফিয়া বা ডন সিনেমা হচ্ছে তার বেশিরভাগ কন্সেপ্ট এই সিনেমা থেকে অনুপ্রানিত সেটা আর আলাদা করে বলার নেই।।
ইতালী ও আমেরিকার অপরাধ জগতকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। ১৯৪০ সালের প্লটে নির্মিত। মাফিয়া প্রধান হলেন ডন ভিতো কর্লিওন। মাস্টারপিস ক্যারেক্টার। তাকে সবাই ডন বলেই মানে। তার চোখে যেনো জৌলোস আর মুখের ভাষাতে রয়েছে ক্ষমতা ও আভিজাত্য।
বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য তিনি ও তার তিন ছেলে মিলে রাজত্ব করে থাকেন।সাধারণ মানুষ থেকে প্রভাবশালী সবার কাছে তিনি আস্থার জায়গা। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সহ বড় বড় ব্যবাসীরা তার জন্য কাজ করে থাকেন।।
ডন ভিতো কর্লিওনের এক একটা ডায়লগ মনে রাখার মতন। তিনি তার পরিবারকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন কারণ সত্যিকারের সিংহ পুরুষ তার পরিবারকে আগে রক্ষা করে, সম্মানিত করে ও ভালোবাসে। তবে শত্রুর তো অভাব নেই। তিনি যেমন অনেক বড় মাপের ডন তেমনি তার শত্রুও বেশ শক্তিশালী।।
মাফিয়াদের প্রাণ হলো বিজনেস। বিজনেস ও ক্ষমতার খেলা ব্রেইন দিয়েও খেলতে হয় আবার পিস্তলের গুলি দিয়েও খেলতে হয়। হুট করেই প্রেক্ষাপট হলো উত্তপ্ত। ডন ভিতো কর্লিওনের উপর হামলা করা হয়।চার পাঁচটা গুলি খেয়েও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। কর্লিওন পরিবার এই বার নড়েচড়ে বসে।।
বড় ছেলে সোনি কর্লিওন বেশ রাগী ও মাথা গরম টাইপ মানুষ ও দক্ষ গান শুটার। সবাই ভেবেছিলো সোনি হবে উত্তরসুরী ডন কিন্তু ভাগ্যের ব্যাটে বলে সেটা আর হয়নি।
মেজো ছেলে ফ্রেডো একটু দুর্বল মনস্ক টাইপ। মাফিয়া সাম্রাজ্য চালাতে যে স্ট্রং মেন্টালিটি ও জান প্রাণ বাজী রাখার মতন হেডাম তার নেই। বলা যায় একটু দুর্বল।
ছোট ছেলে মাইকেল আর মাইকেলের চরিত্র করেছে হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা আল পাচিনো। মাইকেল যুদ্ধ ফেরত সেনা অফিসার ছিলো।তার বাবার মাফিয়ার সাম্রাজ্য থেকে অনেকটাই দূরে। তার এই মাফিয়া গ্যাং বা ক্ষমতা পছন্দ না। নিজের মতন করে প্রেমিকাকে নিয়ে জীবজন যাপন করছে। তার মনের ভিতরের সিংহ ঘুমিয়ে থাকতে চায় কিন্তু ঘুমাতে আর কোথায় দিলো। সিংহ জাগ্রত। শিকার না ধরে তো থামবে না।।
সিনেমায় মানুষের মন বা চিন্তা চেতনার পরিবর্তন হুট করে কিভাবে পরিবর্তন হয়ে যায় সেটা সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে মানসিকতার পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। আধিপত্যের উত্থান দেখানো হয়েছে। নতুন ও যোগ্য নেতৃত্ব অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দেয় সেটা মাইকেল দেখিয়ে দিয়েছে।।
শেষের দিকে ভয়ানক রিভেঞ্জ দেখানো হয়েছে। ভাই ও বাবার উপর হামলাকারীদের পুরো খতম করে দিয়েছে। ভিতো কর্লিওন তার নাতনির সাথে খেলতে খেলতে মারা যায়। এমনিতেই মৃত্যু থেকে বেঁচে ফিরছে তারপর হুট করেই মৃত্যু। ক্ষমতার পরিবর্তনও হয়ে গেলো।।
ক্ষমতা বেশ তিক্ত কিন্তু তার দীর্ঘ সময়ে সেটা মিষ্টিটা নিয়ে আসে। ক্ষমতার কারনে প্রিয়জনকে হারাতে হয় যদি সে বেঈমান থাকে। ক্ষমতার কারনে নিজ সত্বাকে বিসর্জন দিতেও হয় যেইভাবে মাইকেল দিয়েছে। ভিতো কর্লিওন ঠান্ডা মাথায় কৌশলে নেতৃত্ব দিয়ে থাকতো কিন্তু তার ছোট ছেলে মাইকেল কঠোর নেতৃত্বে বিশ্বাসী।
ভাগ্য অনেক কিছুই বদলে দেয়। শান্ত সিংহ যখন তখন জেগে উঠে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!