Movie name : The Red Violin (1998)
Country: Canada
একটি লাল বেহালার আত্মকথা, আত্মজীবনী ও যুগের পর যুগ সময়ের সাথে এটির পথ চলা দেখানো হয়েছে। রহস্যময় এক বিয়োগাত্মক লাল বেহালার মায়াবী সুর ও সুরের গভীরতা হয়তো কেউ বুঝতে পারেনি।
সিনেমার গল্প এক কথায় মাস্টারপিস।লোকেশন এবং সেট ডিজাইন মনমুগ্ধকর। ডিরেকশন যিনি করেছেন তার আসলেই প্রতিভা আছে।।
যুগ চলে যায়,শতাব্দী চলে যায় কিন্তু বেহালাটি যেনো চিরো সবুজ। বহু দেশ, বিদেশ, বহু মালিকের হাত বদল হয়ে আধুনিক সভ্যতায় পায়ের ধুলো দিয়েছে।রহস্যময় লাল বেহালাটি নিলামে উঠেছে। নতুন এক মালিকের খোঁজে।।
কি রহস্য আছে এই বেহালায় সেটা নিয়ে আগে বলতেই হয়। কেনো এই বেহালার প্রতি মানুষের এতো উম্মাদনা বা অনেক বেশি আগ্রহ সেটা পুরো সিনেমা দেখেলেই বুঝতে পারবেন।সিনেমায় কিন্তু ধারাবাহিক টাইমলাইন দেখানো হয়েছে তাই বুঝে দেখতে হবে।সময় তো বদলে যায়,মানুষ বদলে যায়,নতুন সভ্যতা আসে কিন্তু মায়াবী এই লাল বেহালার সুরের কোন কমতি নেই।।
শুরু হয় ইতালি থেকে,
১৬৮১ সালের দিকে এক বিখ্যাত বেহালা প্রস্তুতকারক একটি বিশেষ বেহালা তৈরি করেন। খুব সময় আর যত্ন নিয়ে এই বেহালা তৈরি করা হয়।নিজের সন্তানের জন্য এই বেহালা কিন্তু তার স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায়।বাচ্চাটিও বাঁচতে পারে না। মনের দুঃখ কষ্টে সেই বেহালাটিকে লাল রং করে দেয়। মৃত স্ত্রী রক্ত দিয়ে লাল রং করা হয় তার এর নাম রেড ভায়োলিন।।
তখন থেকেই হয়তো বেহলার ভিতরে চাপা কষ্ট গুলো প্রবেশ করেছে। যখন সুর বাজে তখন বাজতেই থাকে। প্রতিভা না থাকলেও,বেহালাটি যেনো অদ্ভুত প্রতিভা অন্তরে সৃষ্টি করে দেয় আবার হতে পারে,এই বেহালার মধ্যে অমরত্ব প্রতিভা আছে।।
সময়টা ১৭৯০ শতক, দেশ হলো অস্ট্রিয়া,
প্রায় দুইশত বছর পর এই বেহালাটি খুঁজে পাওয়া যায় অস্ট্রিয়াতে। এক ছোট আট নয় বছরের একটা ছেলের কাছে। ছেলেটি এতো ভালো বেহাল বাজায় যে অবাক করার মতন। ছেলেটিকে নিজেদের স্বার্থে যন্ত্রের মতন ব্যবহার করা হয়।চাপ সইতে না পেরে মারা যায়।প্রতিভা অনেক সময় নিজ বিপদের কারণ হয়। সেই বেহালা সহ ছেলেটিকে কবর দেওয়া হয়।।
সময়টা তখন ১৮৯০ শতক, দেশ হলো ইংল্যান্ড,
এক প্রতিভাবান বেহলা শিল্পী এটা খুঁজে পান। তিনি সব সময় এই বেহালা নিয়েই থাকেন। তার প্রেমিকার সাথে এই বেহালার কারণে দুরত্ব হয়। লোকটি আবার নারী প্রেমী ও মদ্যপায়ী। লোকটিও মারা যায়।
সময়টা তখন ১৯৬৬, দেশ হলো চীন,
চীনে তখন সামরিক শাসন চলছিলো বিশেষ করে ঐ দেশে পাশ্চাত্য বাদ্য নিষিদ্ধ ছিলো। কে পাশ্চাত্য বাদ্য যন্ত্র ব্যবহার করলে তার উপর নেমে আসতো কঠিনতর শাস্তি। একজন মিউজিক শিক্ষক গোপনে সেটা সংগ্রহ করেন এবং লুকিয়ে রাখেন। নয়তো এটা পুড়িয়ে ফেলা হতো।।
সময়টা ১৯৮৮, দেশ হলো কানাডা,
এটাই ছিলো সিনেমার মূল টাইম লাইন। আপনার যখন দেখবেন তখন ব্যাপারগুলো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এখানে এই আশ্চর্য লালা বেহালাটিকে নিলামে তোলা হয়।ভাগ্য এতটাই খারাপ যে এটাকে নিলামে তোলা হচ্ছে। সব সময় শিল্পকে আর্থিক মান দ্বন্দ্বে বিচার করা যায় না। এটা থাকা উচিত ছিলো এমন জনের কাছে যিনি শিল্প মন ও তার দর্শন দিয়ে আগলে রাখতে পারবেন।।
মিঃ মত্রিজ একজন বাদ্য বিশেষজ্ঞ যিনি কিনা বিরল বাদ্যযন্ত্রের মূল্যায়ন করে থাকেন। তিনি এই বেহালা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করেন আর চোখ কপালে উঠাতে থাকেন। এই চরিত্রটি বেশ ভালো লাগবে।।
শেষে দেখা যায় নিলামে সেই বেহালাটি বিক্রি হয়ে যায় কিন্তু যেটা বিক্রি হয় সেটা নকল,লাল রক্ত দিয়ে পেইন্ট করা সেই অরিজিনাল বেহালাটি তাহলে কোথায়??
এই বেহালা দিয়েই বোঝানো হয়েছে লোভ, ক্ষমতা,প্রেম অহংকার। বেহালার সুর অন্তরকে জাগ্রত করে এবং মনের মুখোশ খুলে দেয়। বহু মালিকানায় এই বেহালা ছিলো। এক এক মালিকের মন মানসিকতা এক এক রকমের। এই বেহালা শুধুই বাদ্য নয়,এটা জীবনের এক আয়না যেখানে আমাদের সত্যিকারের রূপ ফুটে উঠে আপনি মহিমায়।।
বেহালাটি যাত্রা শুরু করে ১৬৮১ সালে। তখন এক বৃদ্ধা মহিলা জ্যোতিষী এই বেহালার ভবিষ্যত ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ইনি যা যা বলেছেন সেটাই কিন্তু হয়েছে। এক কথায় অসাধারণ একটা কানাডিয়ান সিনেমা। ভিন্ন গল্প ভিন্ন ধারায় সিনেমা। একটা বেহালা যখন সিনেমার মূল নায়ক তখন তো সেটা ভিন্ন সিনেমা হবেই।।
সভ্যতার পরিবর্তন হয়, মালিকানার পরিবর্তন হয় কিন্তু বাদ্য শিল্পের সুরের কোন পরিবর্তন হয় না। বাদ্য অমর।
লাল বেহালাটি কিভাবে চুরি হলো সেটা সিনেমার শেষে দেখে নিবেন। তবে চুরি হয়ে ভালো হয়েছে কারণ মনে শিল্পের নিঃস্বার্থ রং আছে এমন একজনের কাছেই আছে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!