Movie name : The Secret in their Eyes(2009)🇦🇷
Country : Argentina 🇦🇷
অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক সিনেমা। আর্জেন্টাইনদের কাজ দেখলাম আর মুগ্ধ হলাম। তাদের আর্ট ড্রামা অসাধারণ। চোখ মনের মনস্তাত্ত্বিকের কথা বলে। চোখ হলো মনের ভাষার দৃশ্যমান সাবটাইটেল, সেটা যে কোন ভাষা হোক না কেনো। চোখের ভাষা বুঝতে পারাটা খুব কঠিন কিছু না, যদি নিজের চোখের জানালা থাকে উন্মুক্ত।।
অতীতের আবেগ হয়তো পিছু ছাড়ে না, তাই বর্তমানেও অতীতের আবেগ তার প্রতিক্রিয়া দেখায়। মন হয়ে যায় এলোমেলো। চোখের ভাষা উপলব্ধি করা এক ধরনের যোগ্যতা বলে আমি মনে করি। মুখের ভাষা ও চাহনীতে হরেক রকমের মুখোশ থাকে, কিন্তু দুই চোখে সবাই সব সময় মুখোশ থাকতে পারে না। হত্যাকারীর মুখে মুখোশ থাকলেও চোখের মধ্যে মুখোশ ছিলো না। মিঃ গোমেজ এই ভুলটাই করেছে। তিনি হত্যাকারী।।
আর্জেন্টিনার আদালতের সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা মিঃ বেঞ্জামিনের মনটাই এলোমেলো। কলম দিয়ে তাই সাদা কাগজে তার মনের কথাগুলো ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না। অতীত বার বার ইমোশনাল ও নস্টালজিয়া করেই দিচ্ছে। নিজের প্রেমের ব্যর্থতা, দুর্নীতির কাছে আদালত মাথা নিচু করা নিয়ে বার বার তার মনে পড়ছে। অতীত নিয়ে অসমাপ্ত সাহিত্য লিখছেন।।
আপনি যদি ড্রামা লাভার হয়ে থাকেন, সেই সাথে যদি আবেগের গভীরতা বুঝতে চান এবং চাপা কষ্টের বহু রং দেখতে চান, তাহলে এই আর্জেন্টাইন ড্রামা আপনার জন্য উপভোগ্য হবে। সিনেমার অন্যতম মূল চরিত্র মিঃ বেঞ্জামিন, যিনি একজন সাবেক আদালত কর্মকর্তা।।
সিনেমার প্রতিটা সিকুয়েন্স ভালো লাগবে। লোকেশন, ডিরেকশন ভালো ছিলো। আদালত ন্যায়বিচার করতে পারে নাই, দুর্নীতির কাছে ন্যায় পরাজিত। মৃত্যু থেকে বেঁচে গেলেও প্রেমের মৃত্যু আটকাতে পারেনি, যদিও মৃত প্রেম বেঁচে উঠার সুযোগ হলেও হতে পারে। প্রেমের পুনর্জন্ম কনসেপ্ট দেখালেও মূলত হত্যাকারী গোমেজ ও তার ভাগ্যের পরিণতি আবেগময় ড্রামাতে দৃশ্যায়িত।।
মিঃ বেঞ্জামিন ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নিয়ে কাজ করছে। তার সহযোগী মিস আইরিন। প্রথমে যেই আসামীকে ধরা হয়, সে আসলে খুনি ছিলো না। মিঃ বেঞ্জামিন খুব কৌশলে গোমেজকে ধরে। গোমেজ সব স্বীকার করে। গোমেজ জেলে থেকে বের হয়ে যায় আর এর পিছনে আছে প্রভাবশালী। মিঃ বেঞ্জামিনকে হত্যা করতে গিয়ে তার বন্ধু নিহত হয়।।
বহু বছর পালিয়ে থাকার পর আবার নিজ শহরে চলে আসে। আইরিনের বিয়ে হয়। গোমেজ কোথায় কেউ জানে না। ধর্ষিত ও মৃত মহিলার স্বামী গোমেজকে আটকে রাখে। গোমেজকে এতটাই নিঃসঙ্গতার মধ্যে রাখা হয় যে দুটো কথা বলার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছিলো। এই নিঃসঙ্গতার শাস্তি হয়তো সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ বলে আমি মনে করি। এর চেয়ে ফাঁসি হওয়া অনেক অনেক ভালো। স্ত্রী হত্যার মধুর প্রতিশোধ।।
সিনেমায় চোখের ভাষাকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মিঃ বেঞ্জামিন চোখের ভাষা ভালো বুঝতে পারে, তাই হয়তো মিথ্যার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সত্যকে তুলে ধরেছেন। তবে প্রেমিক হিসেবে কিছুটা ব্যর্থ, কারণ দুই চোখের ভিতরে প্রেম প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি। তার সহকর্মী মিস আইরিনকে মনে মনে ভালোবাসলেও সেই দুই চোখে ফুল ফোটাতে পারে নি। হয়তো ক্রিমিনালদের দুই চোখের ভাষা বুঝতে বুঝতে প্রেমের ভাষা অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।।
** সিনেমায় দেখালো হত্যা, ধর্ষণ ও অপরাধীর ব্যক্তিগত সাজা। আইন পরাজয়, তাই ব্যক্তিগত শোধ।।
সিনেমায় বুঝিয়ে দিলো প্রেমের কথা সময়মতো বুঝিয়ে দিতে হয়। অর্গানিক প্রেম একবার আসে, তাই চেপে না রেখে মুক্ত করে দিতে হয়।।
মুখ দিয়ে যতই আবেগ প্রকাশ করি না কেনো, দুটো চোখের ভাষা মনের না বলা সত্য কথা প্রকাশ করে। মুখ আর চোখ সমান তালে এগিয়ে চলে, কিন্তু দুটোর দর্শন ভিন্ন।।
অস্কার জয়ী হওয়ার বিশেষ কারণ চোখের ভাষা। এক একজনের চোখের ভাষায় দর্শনের গুণ ভিন্ন। ক্রাইম ও ক্রিমিনাল থেকে প্রেম ও প্রেমিকা—সবারই নিজস্ব দর্শন আছে।।
শেষের দৃশ্য ভালো লাগবে। মিঃ বেঞ্জামিন তার সহকর্মীর রুমে। মিসেস আইরিন বললো, "দরজাটা বন্ধ করো।" দুই চোখে নতুন করে আবেগ পুনর্জীবিত হলো।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!