Movie name : The Official History (1985)
Country: Argentina
সত্য ইতিহাস প্রকৃতির একটা অংশ। ইতিহাস সৃষ্টি হয় মানব সমাজের বিভিন্ন শুভ বা অশুভ ঘটনা থেকে তাই সেই ইতিহাস হতে পারে রক্তাক্ত বা হতে পারে ফুলের সৌরভময় আবার হতে পারে মুক্তি আবারও হতে পারে বন্দী। সত্য ইতিহাসকে সব সময় চাপা দেওয়ার চেষ্টা কারণ সমাজে ন্যায়ের ন্যায় স্রোতের বিপরীতে স্বার্থপর টাইপ বুদ্ধিমান মানুষ বেশি।।
আমার সাইকোলজি বলে ইতিহাসকে চেপে রাখতে হয় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, শাক দিয়ে মাছ ঢেকে, দুর্বলকে বোকা বানিয়ে, তবে হাজার বার মনে রাখা উচিত সত্য ইতিহাস আগ্নেয়গিরি মতন যেটা যখন তখন ফুলে ফেঁপে জেগে উঠে। তাকে চাপিয়ে রাখা যায় না। একেবারে CDI দিবে।
আর্জেন্টিনার সিনেমা মানেই অসাধারণের চেয়েও বেশ অসাধারণ। বিশেষ করে এই অস্কার জয়ী পারিবারিক ও ইতিহাসভিত্তিক ড্রামা সিনেমা। সত্য ও মিথ্যার লড়াই ও উদঘাটন। শহরে শহরে চলছে প্রতিবাদ চলছে। গুম নিখোঁজ বা গুম হওয়াদের ফেরত চাই।।
এটা ইতিহাস ভিত্তিক সিনেমা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবার ভিত্তিক সিনেমা বললেও ভুল হবে না। চোখের অর্গানিক নোনা জলও দেখানো হয়েছে মানে অন্তরের আবেগ অনুভূতি যা চোখে জল আনার মতন। বন্ধনটা বেশ ভয়াবহ তবে রক্তের বন্ধনের চেয়ে আত্মার বন্ধন আরও বেশি ভয়াবহ। ইতিহাসের শিক্ষিকা এলিসিয়া এই ভয়াবহতা সম্মুখীন। নিজের পালক মেয়েকে দিয়ে দিতে হবে।।
১৯৭৬ সালের পরে আর্জেন্টিনায় সামরিক অভ্যুত্থান হয়। সেই অভ্যুত্থানের ভয়াবহতা শহর থেকে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষকে নিখোঁজ করা হয়, গুম করা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী রমণীদের গুম করে হত্যা করা হয়। তবে আগে তাদের সন্তান প্রসব করিয়ে তাদের হত্যা করা হয়, গুম করা হয়। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকদের ধরে নিয়ে বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়। মানে দত্তক হিসেবে দেওয়া হতো। বিশেষ করে যাদের সন্তান হয় না তাদের দেওয়া হতো।।
মিসেস এলিসিয়া ইতিহাসের টিচার কিন্তু তার শিক্ষকতা জীবন হুট করে পাল্টে গেলো। উনি ইতিহাস হিসেবে যা জানেন বা যা পড়াচ্ছেন সেগুলো মিথ্যা তাহলে। ক্লাসে এক ছাত্র বললো সরকারের খুনিরাই ইতিহাস লিখেছে। মিসেস এলিসিয়ার বান্ধবী একদিন তাকে বললো সামরিক অভ্যুত্থানের সময় অনেক নারীদের ধীরে নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের বাচ্চাদের কেড়ে নেওয়া হয়। এইসব কথা শুনে সন্দেহ হতে থাকে। শুরু হয় সত্যকে জনার চেষ্টা।।
সিনেমার এটাই মূল টার্নিং পয়েন্ট। সত্য উদঘাটন ও আবেগ এক সাথে মিশে গেলো। নিখোঁজ ও গুম হওয়া পরিবারে সদস্যদের আন্দোলন ভিন্ন মাত্রার রূপ নেয়। মিসেস এলিসিয়া যত সত্য জনাতে পারে ততই আরও বেশি ইমোশনাল হয়ে পড়েন। মেয়েকে আদর যত্ন করে বড় করেছেন তাহলে এই মেয়েকি নিখোঁজ হওয়া কোন পরিবারের মেয়ে?? সন্দেহ আরো তীব্র হয়ে যায় যখন এক বৃদ্ধা সেই মেয়েকে নিজের নাতনী হতে পারে বলে দাবী করেন।।
এক একটা সিকুয়েন্স দুর্দান্ত। সামরিক অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে পারিবারিক বন্ধন ও দ্বন্দ্ব, নৈতিকতার সাথে লড়াই, প্রকৃত সত্য মেনে নেওয়ার কষ্ট, অসহায় মানুষের দীর্ঘ শ্বাস সিনেমার প্রাণ বলা যায়। এই কন্সেপ্ট গুলো এমন ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে যেনো রিয়েলিটি দুই চোখে ভাসছে। অসাধারণ ডিরেকশন বলা যেতে পারে।
মিসেস এলসিয়া চোখের জল পড়ছে। তার স্বামী মূলত বড় ব্যবসায়ী এবং সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মরতদের সাথে ভালো সম্পর্ক। সত্য ইতিহাস নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ মান অভিমান হয়ে। তার স্বামী প্রথমে প্রথমে সব কিছু অস্বীকার করলেও স্বামীর হুট করে বদলে যাওয়া আচরণ বলে দেয় সব কিছু সত্য। এক একটা দৃশ্য দেখে অবাক হচ্ছিলাম। মিসেস এলিসিয়ার কাছে এখন সব কিছু পরিষ্কার।
সিনেমাটি কিছুটা অমীমাংসিত। শেষে তাদের সেই মেয়ে গ্যাবির কি হয় সেটা আর দেখায় না। হয়তো ডিরেক্টর দর্শকদের উপর ছেড়ে দিয়েছে। আমার কাছে মনে হয় মেয়েটা তার পালক বাবা মায়ের কাছেই আছে কারণ মেয়েটির সত্য না জানুক, কারণ সত্য সব সময় মানসিক ভাবে আনন্দের হয় না। ভালোবাসাও অনেক কিছু।।
একটা কথা মনে রাখবেন ইতিহাস বেশিরভাগ সময়ে বিকৃত করা হয় আপন স্বার্থে। বেশিরভাগ ইতিহাস লিখা হয় দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ কর্তৃক।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!