আর্জেন্টিনার সিনেমা যতই দেখছি, ততই ভালো লাগছে। ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশে নাকি সবচেয়ে উপভোগ্য ও মনে রাখার মতো আর্ট ড্রামা সিনেমা নির্মিত হয়। এই জীবনভিত্তিক সিনেমাটি আপনারও আশা করি বেশ ভালো লাগবে। দুই প্রতারকের কাহিনি এখানে দেখানো হয়েছে। অতি চালাকের গলায় দড়ি—প্রবাদটির বাস্তব রূপ এই আর্ট ড্রামা সিনেমার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দুই প্রতারকের চিটিং কর্মকাণ্ড দেখলে চোখ কপালে উঠবে। খুব কৌশলে তারা মানুষের টাকা হাতিয়ে নেয়। শহরে তাদের মতো অনেক চিটার ও বাটপার আছে। তবে গল্পটি মূলত দুই বাটপার মার্কো ও জুয়ানকে ঘিরেই নির্মিত। সিনেমাটিতে ড্রামা, থ্রিলার এবং কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক উপাদান রয়েছে। অবাক করার মতো সাসপেন্সও আছে। সব মিলিয়ে একেবারে ঠান্ডা হয়ে যাবেন।
মার্কো বেশ ধূর্ত টাইপের। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে কৌশলে হাসিমুখে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে। তাকে কন আর্টিস্ট বললেও ভুল হবে না।
জুয়ান একটু দুর্বল টাইপের, সেই সঙ্গে সাহসও কম। খুব ধূর্ত প্রতারক না হলেও মার্কোর সঙ্গে অনেক প্ল্যানের সাক্ষী হয়। জুয়ানকে যতটা বোকা মনে হয়, ততটা সে নয়। আসলে এই জুয়ান গভীর জলের মাছ।
Nine Queens আসলে কী? না, কোনো রানী নয়। এটি একটি বিরল ও মহামূল্যবান স্ট্যাম্প সেট, যা জার্মানির পুরোনো সংগ্রহযোগ্য ডাকটিকিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক বৃদ্ধ প্রতারক দাবি করে, সে এই স্ট্যাম্প দেখে নকল কপি বানিয়েছে এবং বিক্রি করতে চায়। আসল কাহিনি শুরু হয় এখান থেকেই।
মার্কো, জুয়ান ও সেই বৃদ্ধের মধ্যে দামাদামি হয়—কে কত শতাংশ নেবে। মার্কোর কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হবে, সেই-ই বস। সে বেশ নিষ্ঠুরও। বিক্রির টাকা থেকেও নিজের ভাগ বেশি নিতে চায়। এরপর তাদের পরিচয় হয় এক ধনী সংগ্রাহক মি. ভায়িদাল-এর সঙ্গে। তিনি স্ট্যাম্পগুলো কিনতে চান, কিন্তু নকল স্ট্যাম্পগুলো ছিনতাই হয়ে যায়। যদিও পরে বোঝা যায়, এটিও ছিল প্ল্যানের অংশ।
এখন উপায়? মার্কো ও জুয়ান সিদ্ধান্ত নেয় অরিজিনাল স্ট্যাম্প কিনে সেটাই বিক্রি করবে। মার্কো তার দুই লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করে সেই বৃদ্ধার কাছ থেকে স্ট্যাম্প কিনে ফেলে। উদ্দেশ্য—বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করা। এরপর তার বোন ভ্যালারিয়া মি. ভায়িদালের কাছে স্ট্যাম্প বিক্রি করে, আর মার্কো একটি চেক পায়।
সিনেমাটি ড্রামা দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে সফট থ্রিল অনুভব করবেন। সফট থ্রিল যদি বুঝতে পারেন, তাহলে সেটার উপভোগই অন্যরকম। সিনেমার শেষ পনেরো মিনিট ছিল টার্নিং পয়েন্ট। মূল বাজিমাত তো এখানেই। যেই ধূর্ত মার্কো সবাইকে ঘোল খাওয়াত, এবার সে নিজেই ঘোল খেয়ে বসল। জুয়ান, যাকে এতক্ষণ বোকা মনে হচ্ছিল, সেই-ই এবার মার্কোকে বোকা বানিয়ে তার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল। মার্কো বুঝতেই পারল না।
জুয়ান নিজের বুদ্ধি দিয়ে পুরো ঘটনাটি সাজিয়েছিল। সেই বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, মার্কোর বোন ভ্যালারিয়া, ধনী সংগ্রাহক, এমনকি ছিনতাইকারীরাও ছিল তার পরিকল্পনার অংশ। দুর্দান্ত পরিকল্পনা, দুর্দান্ত মেকিং। আর্জেন্টিনার সিনেমা সত্যিই মুগ্ধ করে যাচ্ছে।
মার্কোকে বোকা বানানো এবং তার টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। একটা কথা মনে রাখা উচিত—অতি চালাক হওয়া ভালো নয়। অতি চালাকির খারাপ ফল একদিন পেতেই হয়। অন্যকে ঠকালে একসময় নিজেকেও ভয়ংকরভাবে ঠকতে হয়। মানুষের বিশ্বাস নিয়ে কোনোদিন খেলতে নেই। লোভ মানুষের অন্তরের ভেতরে শুধু অন্ধকারই সৃষ্টি করে। শিক্ষণীয় একটি সিনেমা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!