প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকএক্স এক্স ওয়াই (২০০৭)

সিনেম্যাটিক

এক্স এক্স ওয়াই (২০০৭)

এক্স এক্স ওয়াই  (২০০৭)


ইন্টারসেক্স নিয়ে এই আর্জেন্টাইন সিনেমাটি খুব ভালো ম্যাসেজ দিলো। শরীর ও ব্রেইনের মধ্যে স্বাভাবিক নিজ নিজ সম্পর্ক থাকে। জৈবিকতা ভিন্ন থাকতে পারে মানে একটা মানুষের শরীরে দুই রকম যৌনাঙ্গ থাকতে পারে। থার্ড জেন্ডার বলা যেতেও পারে। দুই জেন্ডার এক সাথে থাকাটা বেশি ভিন্নতা। সেটা যাই হোক মানুষ তো।।

বিজ্ঞাপন


চিন্তা চেতনা ও আবেগ অনুভূতি ভালো না খারাপ হবে সেটা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বলে দিবে। মিঃ অথবা মিস এলক্সের মানসিক অবস্থা ও স্বাধীন অধিকার সিনেমায় বেশ প্রাধান্য পেয়েছে।।


যৌনতা ও যৌনাঙ্গ শরীর ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয় সেই সাথে নিজের লিঙ্গ পরিচয় ও চাহিদার ধারক। প্রকৃতির সৃষ্টিতে জৈবিক ভিন্নতা থাকতেই পারে। ভিন্নতা থাকা ত্রুটি নয়, এটা প্রাকৃতিক। এলেক্সের যৌনাঙ্গটা অন্যরকম ছেলে বা মেয়ে কোনটাই না আবার দুটোই যদিও যৌনাঙ্গটা সিনেমায় দেখানো হয় নি। এলেক্সের বাবা ও মা নিজের সন্তানকে মেয়ের পরিচয়ে বড় করেছে। অপারেশন করে আদরের মেয়েকে পুরোপুরি মেয়ে বানাতে চায়।।


এলেক্সে ছোটবেলা থেকে ঔষধ খেয়ে আসলেও বয়স পনেরো হওয়ার পর থেকে নিজেকে বুঝতে ও জানতে শেখে। নিজের শরীরের আইডেন্টিকে ধরে রাখতে চায় মিস এলেক্স। এলেক্সের মা অপারেশন করতে চাইলেও বাবা চাচ্ছেন নিজের মেয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। যদিও তার মেয়ে চাচ্ছে না। সে নিজের শরীরের গভীর ভাষাটা আগে বুঝতে চায়। প্রকৃতি তাকে যে শরীর দিয়েছে সেটা নষ্ট না করে, নিজের বিবেক ও আবেগ দুটো পজেটিভ রাখতে বেশ আগ্রহী।


সেক্স করতে তার ইচ্ছা হয় কিন্তু নিজের আইন্ডেন্টিকে ধ্বংস করে নয়। মেয়েদের XX ছেলেদের XY কিন্তু মিস এলেক্সের XXY মানে তার যৌনাঙ্গ এমন ছেলে বা মেয়ে পুরোপুরি বুঝায় না। এটা হরমোনের ভিন্নতা। যদিও এই সিনেমার ডিরেক্টর সরাসরি XXY এই লিঙ্গ বলতে না চাইলেও দর্শকের উপর সেটা ছেড়ে দিয়েছে। মনের কষ্ট ও চাপ কি জিনিষ সেটা মিঃ অথবা মিস এলেক্স ভালো জানে। শরীরে কষ্টের চেয়ে মনের কষ্ট বেশি।।


নারী ও পুরুষের বাইরেও তো আরও ভিন্ন প্রকৃতির ভিন্ন লিঙ্গের মানুষ তো আছে। তারাও সেইম সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কিন্তু তাদের মূল্য নেই কেনো। আলেক্সের পরিবারে তো মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজ থেকে দূরে চলে যেতে হচ্ছে। তাদের সন্তান হেনস্থা হচ্ছে। সমাজের মানুষ কবে বুঝবে নারীর ভাজ্যেইনা, পুরুষের পেনিসের পাশাপাশি ভিন্ন লিঙ্গের মানুষ আছে তারাও সমাজের অংশ। এই ড্রামা সিনেমা তাই বলে।।


যদিও সিনেমায় মিঃ অথবা মিস এলক্সের যৌনাঙ্গ দৃশ্য দেখানো হয়নি মানে নাভির নিচের অংশ অস্পষ্ট ছিলো, এটা দর্শকদের মনের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যদিও আমার ধারণ থেকে বলছি। সিনেমায় এক দৃশ্যে এলেক্স বলেছে আমার দুইটাই আছে।।


সিনেমায় দেখায় এলক্সের মধ্যেও যৌন চাহিদা আছে। পেনিসের প্রতি আগ্রহ হয়তো তুলনামূলক ভাবে বেশি, কারণ তার কার্টুন আঁকা ছবিতে পেনিস ছিলো। যদিও তার ভ্যাজাইনা আছে কিন্তু মানুষ কোনটা পছন্দ করবে জানে না। নিজে কোনটা পছন্দ করে সেটাও খুব বেশি ক্লিয়ার না। সিনেমার ডিরেক্টর মনুষত্ব বোধকে গুরুত্ব দিয়েছে। মিঃ অথবা মিস এলেক্স মানসিক ট্রমা বা চাপ থেকে মুক্ত হোক।।


বেশ ইমোশনাল ব্যাপার তুলে ধরা হয়েছে। এলেক্সকে রেপ করা হয় কিন্তু পুলিশকে জানায় নি। কারণ ভিন্ন জৈবিকতার সম্মানের বড় অভাব। কি আর করার।।


সিনেমায় তার একটা বন্ধু হয় শেষ পর্যন্ত যদিও তাদের এক সাথে থাকা হয়নি। তার বন্ধু ভলোরিয়া এলেক্সের মনে জায়গা খুঁজছিলো কিন্তু তাদের চলে যেতে হয়। ভলোরিয়ার বাবা একজন সার্জন তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসা হয়েছিলো মিঃ অথবা মিস এলেক্সের ছোট একটা অপারেশন করার জন্য কিন্তু সেটা হয়তো হচ্ছে না।।


।।সবার আগে মনুষত্ব লিঙ্গ মোটেই না।।

।।ভালোবাসা ও সম্মানের উর্দ্ধে কিছুই নেই।।


০ মন্তব্য · ৩৭ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!