প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকক্রাঞ্চো (২০১০)

সিনেম্যাটিক

ক্রাঞ্চো (২০১০)

ক্রাঞ্চো  (২০১০)


সড়ক দুর্ঘটনা, অ্যাম্বুলেন্স, আহত ও নিহত মানুষ,আইন ও বীমা,দুর্ঘটনা সিন্ডিকেট,হাসপাতাল ও বীমা দুর্নীতি, সেই সাথে নতুন করে বেঁচে থাকার ইচ্ছা,প্রেমকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া নিয়েই এই অসাধারণ আর্জেন্টাইন ড্রামা থ্রিলার সিনেমা। আর্জেন্টাইনদের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েই যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন


দুর্ঘটনা হয়, অ্যাম্বুলেন্স আসে, হাসপাতাল দ্রুত পৌঁছায়

পুলিশ আসে,আইনজীবী কমিশনের বিনিময়ে মামলা নেয়,বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়।দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ থেকে শুরু করে হাসপাতালের কিছু কর্মী, বীমা কোম্পানির কিছু লোক নিয়েই এই বিশাল সিন্ডিকেট।


এমনকি আইনজীবী সিন্ডিকেট গ্রুপ ইচ্ছাকৃত ভাবেই কিছু ফেক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে।দুই একজনকে হাতুড়ি দিয়ে হাত পা ভেঙে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা সাজানো হয়। বিশাল সিন্ডিকেট এখানে কাজ করছে,যাদের কাছে ক্ষমতা আছে, কারণ প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত।এমনিতেই এই দেশে এক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যেতো।


Carancho হলো এমন কিছু আইনজীবী যারা বিভিন্ন দুর্ঘটনার আহত ও নিহত মানুষদের খুঁজে এবং তাদের ক্ষতিপূরণের মামলায় তাদের সহায়তা করে এবং তারা বিনিময়ে কমিশন পায়। পুলিশ, প্রশাসন, হাসপাতালের কর্মী সবাই কমিশন ও ঘুষ পায়।।


সিনেমায় এই কনসেপ্ট গুলো ড্রামা ও থ্রিলারের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।।


সিনেমার গল্প অসাধারণ। সেই সাথে প্রতিটা সিকুয়েন্স, ডিরেকশন, সাউন্ড এবং সিনেমাটোগ্রাফি এর প্রশংসা ভালো ভাবেই করতে হয়।।


তেমনি একজন আইনজীবী মিঃ সোসা যিনি এই মূল সিন্ডিকেটেডদের সাথে কাজ করেন। দুর্ঘটনা হলে বীমা থেকে দ্রুত টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। যদিও তিনি এই কাজ মন থেকে করতে চাইছেন না। অনেকটা বাধ্য হয়ে কাজ করেছে। মূল হোতারা প্রায়ই তার উপর নির্যাতন চালায় কারণ তাকে ছাড়তে চায় না। কাজ করাতে বাধ্য করে।


সিনেমায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে মিস লুহান যিনি একজন ইমারজেন্সি বিভাগের ডাক্তার। দিন রাত ডিউটি করে থাকেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেও থাকেন। রেগুলার কম বেশি দুর্ঘটনা থাকেই। তিনি নিজে বিশ্রাম কম নিয়ে থাকেন। তাই ড্রাগসও নিয়ে থাকেন।


সিনেমায় অন্যায়, দুর্নীতি ও নিরীহ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে অপরাধ দেখানো হয়েছে। তবে অপরাধের সাথে গভীর প্রেম দেখানো হয়েছে। একদিকে দুর্নীতি ও অন্যদিকে ক্রাইম, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের ছড়াছড়ি, এর মাঝে দুটি মনের পূর্ণ মিলনও দেখানো হয়েছে। এই আইনজীবী ও ডাক্তারের মধ্যে গভীর প্রেম দেখার সময় ক্রাইমগুলো ভুলে যাচ্ছিলাম। তাদের আবেগ দেখার মতন। ক্রাইম রোমান্টিক সিনেমাই এটাকে বলা উচিত।


একজন আইনজীবী ও আরেকজন ডাক্তার, দুই জনের দর্শন ভিন্ন, কাজ ভিন্ন, আবেগ ভিন্ন। তাই অন্তরে গভীর প্রেম আনতে বেশ আবেগীয় টানাপোড়ন হয়েছে। মান অভিমান হয়েছে, একে অন্যকে বুঝতেও হয়েছে। মিস লুহান ও মিঃ সোসা দূরে কোথাও চলে যেতে চায় কিন্তু তার বসকে খুন করে একটু বিপদে আছে কারণ সেই লোক লুহানকে হেনস্থা করেছে।


এমতেই পুরো সিনেমায় গাড়ি দুর্ঘটনা, আবার শেষের দিকেও ঠিক তাই দুর্ঘটনা দিয়েই সিনেমা শেষ হয়ে যায়। মিঃ সোসা গাড়িতে আসার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। তার উপর গুলিও ছোড়া হয়। অন্যদিকে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় থাকা মিস লুহান তাড়াতাড়ি গিয়ে সোসাকে উদ্ধার করে নিজের গাড়ীতে নিয়ে চলে যেতে থাকে। তাদের উপর গুলি করলে মিস লুহান সেই লোকটাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্পিডে যেতে যেতে অন্য একটা গাড়ী তাদের চাপা দেয়।


বেশ থ্রিলিং দৃশ্য বলা যায়।এমনিতেই মিঃ সোসা আহত, তার মধ্যে আবার দুর্ঘটনা হলে মারা যায়। মিস লুহান বেঁচে গেলেও ভয়ংকর ভাবে আহত হয়।।


মানুষ চাইলেও ভালো হতে পারে না। দুর্নীতি ও নোংরা মানুষদের মাঝে ভালো হয়ে টিকে থাকা অনেকটাই কষ্ট। খারাপদের উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতেই হয়। দুর্ঘটনায় মানুষজন আহত নিহত হচ্ছে, অন্যদিকে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট বিজনেস খুলে বসেছে। হায়রে টাকার

খেলা।।


জীবনের কি মূল্য নেই? সিন্ডিকেটের কাছে ভালোবাসা আঘাতপ্রাপ্ত হয়।এই আর্জেন্টাইন সিনেমা দেখিয়ে দিলো এই সমাজ কতটা নিষ্ঠুর।এরকম সিন্ডিকেট কি

আমাদের দেশেও থাকতে পারে?


০ মন্তব্য · ৩৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!