প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকট্যাংগো (১৯৯৮)

সিনেম্যাটিক

ট্যাংগো (১৯৯৮)

ট্যাংগো  (১৯৯৮)


ডান্স ও মিউজিক যাদের পছন্দ, তাদের কাছে এই সিনেমা এক কথায় অসাধারণ লাগবে। মূলত এটা একটি মিউজিক্যাল ডান্স ড্রামা, যেখানে ট্যাঙ্গো ডান্স কালচার, প্রেম ও বিচ্ছেদ, রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছু ডান্স ও মিউজিকের মাধ্যমে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। মনে রাখা উচিত, ডান্স ও মিউজিক এক ধরনের দর্শনীয় ভাষা, যেটা যে কোনো সংস্কৃতির মানুষ বুঝতে পারবে।

বিজ্ঞাপন


১৯৯৮ সালে রিলিজ হলেও সিনেমার ডান্স ও সংস্কৃতির দর্শন এখনও সিনেমাপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। পুরো সিনেমাজুড়ে ডান্স আর মিউজিকই প্রধান আকর্ষণ, তবে প্রেমের বিচ্ছেদ এবং আবার নতুন প্রেমের জন্মও দেখানো হয়েছে। মিউজিক ও ডান্স খুবই ভালো লাগবে। গল্প ও ডিরেকশনও অসাধারণ। তাই ১৯৯৯ সালে বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম ক্যাটাগরিতে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।


মিস্টার মারিও একজন ট্যাঙ্গো ডান্স এক্সপার্ট, সেই সঙ্গে তিনি ডান্স পরিচালনাও করেন। তার প্রেমিকা ও প্রধান ডান্স পারফর্মার তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটায়। কষ্ট নিয়ে দিন পার করেন তিনি। একজন ট্যাঙ্গো এক্সপার্ট হওয়া সত্ত্বেও তার অন্তরে নাচের ছন্দপতন ঘটে। সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তিনি, আর তার আবেগ ও অনুভূতিগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


মারিও বিশাল একটি ট্যাঙ্গো ডান্স আয়োজন করতে চান, যেখানে সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরতে চান। একেকটি রিহার্সেল দেখার মতো ছিল। কত সুন্দরভাবে আর্জেন্টিনার ডান্স কালচার তুলে ধরা হয়েছে। এটা শুধুই ডান্স নয়, এটা আত্মার প্রশান্তি, এটা অন্যায়ের প্রতিবাদ, এটা প্রেমের পদ্ম ফোটানো। ইতিহাস যেন ডান্সের তালে তালে সত্যে রূপান্তরিত হয়েছে, আর স্বৈরশাসকের নিপীড়নও ডান্সের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।


ডান্স শুধুই শিল্প নয়, এর প্রকৃত দর্শন আত্মা থেকে আসে। ডান্স আত্মার ভাষা, জীবনের ভাষা, সংস্কৃতির ভাষা।


০ মন্তব্য · ৬৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!