প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকলা সিনেগা (২০০১)

সিনেম্যাটিক

লা সিনেগা (২০০১)

লা সিনেগা  (২০০১)


আর্জেন্টিনার এই ফ্যমিলি ড্রামা দেখে ভালোই লাগলো। আবার কিছুটা অবাকও লাগলো। পরিবার মানেই তো বন্ধন, ভালোবাসা, আত্মার সাথে সম্পর্ক। কিন্তু এখানেই যেনো সব কিছুই উল্টো। একটা ধনী পরিবার যেখানে স্বামী, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবাই আছে, কিন্তু তাদের ভিতরে স্ট্রং বন্ধন নেই। যার যার মতো করে সে সে থাকে। কেউ ঘুমায়, কেউ সারাদিন মদ খায়, বাচ্চারা বন্দুক নিয়ে বনে শিকারে যায়। কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।

বিজ্ঞাপন


এই ড্রামা সিনেমায় ফ্যমিলি সাইকোলজি ব্যাপারটা তো ভালো ভাবেই গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আচরণগত বহিঃপ্রকাশ, চাপা কষ্টগুলো ড্রামার মাধ্যমে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। প্রতিটা সিকুয়েন্স দেখার মতো ছিলো, তবে একটু স্লো। পরিবারে সদস্যদের মধ্যে যেনো আবেগ নেই। আবেগের সংজ্ঞা হয়তো জানেই না।


সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্র হলো মিসেস ম্যাকা। পরিবারের সদস্যরা সবাই গ্রামে গিয়ে অলস সময় পার করছে। সুইমিং পুলের পাশে সবাই রোদ পোহাচ্ছে। কেউ মদ গিলেই যাচ্ছে, আবার কেউ ঘুমিয়ে আছে। দুনিয়া যেনো থমকে গিয়েছে। তাদের দেখে তাই মনে হয়। হুট করে পড়ে গিয়ে মিসেস ম্যাকা আহত হন। গ্লাস ভেঙে গিয়ে হাত ও ক্লিভেজ কেটে যায়। কারোও মধ্যে যেনো ফিলিংস নেই। পরে মেয়েরা তাকে ডাক্তার কাছে নিয়ে যায়।


এই দৃশ্য দিয়ে এটাই বুঝালো, অন্তরে মোহাব্বত যদি না থাকে তাহলে সেটা প্রতিদান আসতে সময় লাগে না। আবেগ, অনুভূতি, সম্মান—এগুলো পরিবার থেকেই আগে শিখে নিতে হয়। আবেগ যদি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে না থাকে, তাহলে সমাজকে কী করে বুঝবে?


সিনেমায় কিছু ধনী পরিবারের মানসিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় দেখালো মিসেস ম্যাকার পরিবারের সদস্যদের মন-মানসিকতা পাথরের মতো, নষ্ট মন, একে অন্যের মধ্যে ভালোবাসা নেই, নৈতিকতা নেই। আসলে টাকা আর মদের ছড়াছড়ি থাকলে সন্তানদের মানসিক যত্ন কীভাবে নিবে?


মিসেস ম্যাকার চার সন্তান। তারা সবাই এক সাথে থাকে, কিন্তু অন্তর থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের কাজের মেয়ে আছে, নাম ইসাবেল। আদিবাসী মেয়ে, তাই মাঝে মাঝে হেনস্তা হয়। মানসিক বিশৃঙ্খলা এই পরিবারে হতেই থাকে, যার কোনো নৈতিক সমাধান নেই। এই সিনেমা দেখে আনন্দ খুঁজে পাবেন না, কিন্তু ফ্যমিলি সাইকোলজি ও আচরণের ধরন বুঝতে পারবেন। সিনেমার মূল বিষয় অন্তর বিচ্ছিন্নতা।


এদিকে মিসেস ম্যাকার কাজিন মিসেস টালি ঘুরতে চলে আসেন। তিনি আর্থিকভাবে অত ধনী নন, কিন্তু বাচ্চাদের প্রতি একটু হলেও কেয়ারনেস রাখেন। যদিও তার ছোট ছেলে মই দিয়ে ছাদে উঠতে গিয়ে মারা যায়। সিনেমার দৃশ্য এমনভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে, যাতে দর্শক নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে পারেন।


পরিবারের মধ্যে ছোট-বড় দুর্ঘটনা বা মৃত্যু হলে যদি সেই সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতা পরিবর্তন না হয়, বুঝে নিতে হবে পরিবারটি মানসিকভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।


০ মন্তব্য · ৫৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!