আর্জেন্টাইনরা দেখি হাইস্ট ক্রাইম টাইপ সিনেমা নির্মাণ করতেও যোগ্যতা রাখে। ভালো লাগলো হাইস্ট বা চুরি ভিত্তিক ক্রাইম সিনেমা। কয়েকজন ব্যক্তি টিম আপ হয়ে কিভাবে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের "ব্যাঙ্কো রিও" কৌশলে লুট করে। মাস্টার প্ল্যান, মাস্টার আইডিয়া, মাস্টার টিম সেট আপ। সব মিলিয়ে পুরো ব্যাংকের লকারের টাকা হাতিয়ে নেয়।
আর্ট ড্রামা দেখতে দেখতে একটু বোরিং ফিল হচ্ছিল, তাই ভেবে নিলাম এই ক্রাইম সিনেমাটি উপভোগ করে নেই। ম্যানহোল থেকে একটু সামনেই ব্যাংক রিও। ২০০৬ সালে "ব্যাংক রিও"-তে সুকৌশলে ডাকাতির ঘটনা ঘটে আর সেই বাস্তব ঘটনা থেকেই ক্রাইম সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। অনুপ্রাণিত বলা যেতে পারে।
সিনেমায় শুধুই ডাকাতি দেখিয়েছে সেটা নয়, আরও দেখিয়েছে এক একজনের মনস্তাত্ত্বিক আচরণ এবং মাস্টার প্ল্যান। বিশাল বুদ্ধিভিত্তিক ক্রাইম করতে গেলে তো অবশ্যই সাইকোলজি বুঝতে হবে। ফার্নান্দো ও তার টিম ভালোই সাইকোলজি রপ্ত করেন, যাতে পরিস্থিতি যেরকমই হোক না কেন, ঠান্ডা মাথায় সব কিছু কন্ট্রোল করতে পারে।
এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের সিনেমা, তাই সব কিছু একটু দ্রুত দেখালেও সিনেমার এক একটা দৃশ্য বেশ ভালো লাগবে। সিনেমার সেট ডিজাইন বেশ ভালো ছিল, সেই সাথে ডিরেকশন। মাঝে মাঝে টুকটাক মজাও পাবেন।
ডাকাতি প্ল্যানের আগের কথাটাই শেয়ার করি। একদিন ফার্নান্দো সিগারেট খাচ্ছিল। সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে। হুট করে একটা গাড়ি এসে তাকে ভিজিয়ে দেয়। সিগারেট তার হাত থেকে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। সিগারেট ভাসতে ভাসতে চলতে থাকে। ফার্নান্দো পিছু পিছু যাচ্ছে কোথায় যায় সিগারেট। দেখলো ম্যানহোলে গিয়ে পড়লো। সামনে তাকিয়ে দেখলো ব্যাংক রিও।
এই দৃশ্যটা ভালো লেগেছে। হয়তো সময়ই ভাগ্যের পথ দেখায়। সিনেমায় ভালোই থ্রিলিং দেখায়, কিন্তু চুরির সময় নয়; বরং এক একজন যখন ধরা খায় তখন বেশ থ্রিলিং হয়ে ওঠে। ফার্নান্দো তো ছিল মাস্টার প্ল্যানার, সাথে আছে মারিও, যিনি ভালোই নেগোসিয়েট করতে পারেন, বিশেষ করে পুলিশের সাথে। বেটো জিম্মিদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সবাই নকল অস্ত্র নিয়ে ঢুকে।
একদল ব্যাংকের ভিতরে জিম্মিদের কন্ট্রোল ও পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলতে থাকে। অন্যদিকে ফার্নান্দো ও বাকি সবাই আগে থেকে তৈরি করা সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে লকারের ভিতরে গিয়ে সব টাকা-গহনা নিয়ে নেয়। তারপর দ্রুত স্পিড বোটে পালিয়ে যায়। কয়েক মাস তারা ভালোই এনজয় করে।
তারা ভল্টে না ঢুকে লকারে রাখা সেভিংস চুরি করে।
এই দৃশ্যগুলো দেখতে ভালোই লাগছিল, বিশেষ করে পালানোর মাস্টার প্ল্যানিং, যেটা আগেই ফার্নান্দো করে রেখেছিল। ভাগ্যিস ম্যানহোলের সাথে লেকের লিঙ্ক ছিল। দিন ভালোই যাচ্ছিল, কিন্তু এক নারী সব কিছু বরবাদ করে দিল। সেবাস্তিয়ান গার্সিয়া, যিনি হলেন ইঞ্জিনিয়ার। মাস্টার প্ল্যানের অন্যতম অংশীদার, কারণ তিনি সুড়ঙ্গের নকশা থেকে সব ডিজাইন করে থাকেন।
সেবাস্তিয়ান গার্সিয়ার প্রাক্তন স্ত্রী সব কিছু ফাঁস করে দেয়, আর সেই দিন থেকে সবাই ধরা খেয়েই যায়। ভালোই লাগে এই রকম সিনেমা দেখতে। ক্রাইম সিনেমা, কিন্তু আবেগ আছে ও ছোট ছোট ম্যাসেজও আছে। বুদ্ধি আর সাহস থাকলে ভায়োলেন্স ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত ক্রাইম করা যায়। আরেকটা কথা, কোনো জিম্মি আহত বা নিহত হয় না। প্রতিটা জিম্মি জীবিত ও ভালো থাকে।
একটা কথা মনে রাখা উচিত, আপনি কোনো কাজ সফলভাবে করলেন, কিন্তু সেই সফলতা টিকিয়ে রাখতে হলে আচরণগত সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ঝামেলাগুলো যতটা সম্ভব সমাধান বা এমনভাবে মানিয়ে নিন, যাতে আপনার সফলতায় দাগ না ফেলে। শত্রু থেকে সাবধান নয়, বরং কৌশলী হবেন।
এই আর্জেন্টাইন সিনেমা ভালোই লাগবে আশা করি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!