অভিশাপ মাঝে মাঝে এমন ভয়ংকর রূপে চলে আসে, যেখানে যার উপর অভিশাপ দেওয়া হয় সে একেবারে শেষ হয়ে যায়। যে অভিশাপ সৃষ্টি করে, তার নিজের মানসিক ক্ষতি তো হয়ই, সেই সঙ্গে পুরো সমাজও অশুভ শক্তির প্রভাবে নৈতিকভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।
ব্ল্যাক ম্যাজিক আসলেই ভয়ংকর। যে করছে আর যার উপর করছে—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটাই এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে। প্রেমের ব্যর্থতা থেকেই মনের মধ্যে স্থান পায় হিংসা ও ক্রোধ। সেই হিংসার আগুনে মিস নাতালি নিজেও জ্বলেছে, আবার সমাজকেও জ্বালিয়েছে। অশুভ শক্তি মানুষের নৈতিক আচরণ নষ্ট করে দেয়, পরিবেশ হয়ে ওঠে ভীতিময়। অকারণে মানুষ মারা যেতে থাকে, প্রতিদিন রাস্তার মোড়ে একটি ছোট দুর্গন্ধময় ময়লার গাড়ি দেখা যায়। বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়, পানির অভাব দেখা দেয়।
আর্জেন্টিনার এই হরর সিনেমায় কোনো ভূত বা অশরীরী আত্মা টাইপ কিছু দেখানো হয়নি। বরং কালো জাদুর ভৌতিক প্রভাব কীভাবে ধীরে ধীরে মানুষের জীবন ও সমাজের উপর নেমে আসে, সেটাই দেখানো হয়েছে। এভাবেও হরর তৈরি করা যায়। ভূত থাকবে না, কিন্তু অদৃশ্য কালো ছায়া কীভাবে ধীরে ধীরে সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত করে শেষ করে দেয়, সেটাই এই সিনেমার মূল আকর্ষণ।
মূল গল্পটা বলতে শুরু করি। আর্জেন্টিনায় তখন ২০০১ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছিল। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, সামাজিক অস্থিরতা, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট—সব মিলিয়ে দেশ ছিল অস্থির। এমন সময় একটি এলাকায় অশুভ ছায়া নেমে আসে। প্রেম, প্রেমের ব্যর্থতা, প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ—এসবই সিনেমার অন্যতম মূল বিষয়। প্রেমের ব্যর্থতা থেকেই প্রেমিকের উপর কালো জাদুর অভিশাপ, আর সেই অভিশাপ থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর বিপর্যয়।
মিস নাতালি তার দুই বান্ধবী মারিয়েলা ও জোসেফিনার সঙ্গে থাকে। স্মার্ট ছেলে ডিয়েগোকে সবাই পছন্দ করলেও, মিস নাতালি তাকে একটু বেশি ভালোবাসে। নাতালি বেশ অভিমানী, হিংসুটে ও আবেগী স্বভাবের। সবার ধারণা ছিল একদিন তারা কাপল হবে। কিন্তু তাদের মাঝে আসে সিলভিয়া নামে একটি মেয়ে। ডিয়েগোর সঙ্গে সিলভিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আর ডিয়েগোকে হারিয়ে মিস নাতালি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ে।
মনের কষ্ট আর না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই সিলভিয়া ও ডিয়েগোর উপর কালো জাদুর অভিশাপ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে তারা শেষে মারা যায়। মিস নাতালিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশপাশে যেন গজব নেমে আসে। প্রতিহিংসা কতটা ভয়ংকর হতে পারে—এটা শুধু অন্যকে নয়, নিজেকেও ধ্বংস করে—এই কনসেপ্ট সিনেমাটি খুব ভালোভাবে তুলে ধরেছে।
ব্ল্যাক ম্যাজিক খুব খারাপ—সেটাও এখানে দেখানো হয়েছে। যে করে আর যার উপর করে, উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলোর ভেতরেও অন্ধকার লুকিয়ে থাকে। অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে, বাস্তবকে অবাস্তব মনে হয়, সময় যেন এলোমেলো হয়ে যায়। মানুষ কতটা মানসিকভাবে হিংস্র হতে পারে, সিনেমাটি সেটাও ড্রামার মাধ্যমে সুন্দরভাবে দেখিয়েছে।
নারীকেন্দ্রিক সিনেমা বললে ভুল হবে না। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নারী-কেন্দ্রিক চরিত্র, প্রেম, প্রতিহিংসা এবং হররের কনসেপ্টকে খুব সুন্দরভাবে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!