প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকআর্জেন্টিনা ১৯৮৫

সিনেম্যাটিক

আর্জেন্টিনা ১৯৮৫

আর্জেন্টিনা ১৯৮৫


অসাধারণ এই আর্জেন্টাইন আদালতভিত্তিক সিনেমা।

বিজ্ঞাপন


১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতা দখল করে এবং সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুরু করে শোষণ ও নিপীড়ন। যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলত, তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতো।


বহু মানুষ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মায়েদের কাছ থেকে নবজাতকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেই সময় ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদও নির্মমভাবে দমন করা হয়। অনেক ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে টর্চার সেলে রাখা হতো, গুম ও নির্যাতন করা হতো।


অপরাধের তো বিচার করতে হবে। সেই সময়ও চলে আসে। ১৯৮৫ সালে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যদিও বিষয়টি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ সামরিক বাহিনীর কিছু ক্ষমতা তখনও রয়ে গিয়েছিল। মনোযোগ দিয়ে দেখলে এই সিনেমা বেশ ভালো লাগবে। অস্কারের মনোনয়নও পেয়েছিল।


কল্পকাহিনি নয়, গল্প নয়—একদম সত্য ঘটনা নিয়েই এই সিনেমা। সিনেমার এক একটা দৃশ্য, ডায়লগ ও লোকেশন খুবই ভালো ছিল। মনে হচ্ছিল সত্যিকারের এক বিচার ব্যবস্থার লাইভ দৃশ্য দেখছি। যারা আইন, আদালত ও বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত ড্রামা পছন্দ করেন, তারা কফির কাপ হাতে নিয়ে দেখা শুরু করতে পারেন। তার ওপর আবার আর্জেন্টাইন সিনেমা।


প্রধান প্রসিকিউটর মি. জুলিওর ওপর দায়িত্ব চলে আসে, কিন্তু সেটি ছিল খুবই ঝামেলাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। তার এবং তার পরিবারের ওপরও হুমকি আসে। অনেক অভিজ্ঞ আইনজীবী তাকে সহায়তা করতে পারেননি। কিন্তু মি. জুলিও হতাশ হননি। তিনি তরুণ ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটি টিম গঠন করেন। এরা সবাই তরুণ আইনজীবী।


এই তরুণ আইনজীবীরা পুরো দেশ ঘুরে ঘুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করেন এবং তাদের কষ্টের কথা রেকর্ড করেন। ভয়াবহতার মাত্রা ছিল কল্পনারও বাইরে। এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে স্বৈরশাসক! আদালতের দৃশ্যগুলোও খুব ভালো লাগবে। শেষে আদালতে বিচার ও কারাদণ্ড হয়, যদিও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনে অনেকের শাস্তি ক্ষমা করে দেওয়া হয়।


সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা সবকিছু অস্বীকার করে। সরকারি আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের তুমুল আইনি লড়াই শুরু হয়। হুমকি ও চাপ উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়। নির্যাতিতরা যখন আদালতে নিজেদের ওপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনা খুলে বলছিল, তখন অনেকের চোখে নোনা জল দেখা যায়। এটি ছিল সত্যিই একটি আবেগময় মুহূর্ত।


এদিকে প্রসিকিউটর মি. জুলিওর ওপর অনেক হুমকি আসে। জীবন আসলেই জটিল হয়ে যায়। এই প্রসিকিউটর মি. জুলিওর চরিত্রটি বেশ ভালো লাগবে। তিনি সত্যান্বেষী, তিনি নির্ভীক, তিনি ন্যায়ের দুর্গম পথে সব সময় অবিচল। রিকার্ডো দারিন অসাধারণ অভিনয় দেখিয়েছেন।


মানুষদের গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন, গর্ভবতী নারীদের বন্দি করা, সন্তান জন্মানোর পর শিশুদের অন্য পরিবারে দিয়ে দেওয়া, অনেক মাকে হত্যা করা—এসব ঘটনা সত্যিই শিউরে ওঠার মতো।


ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না, কারণ সত্যের সঙ্গে ইতিহাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আর সত্যকে চেপে রাখা যায় না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অন্যায় করলে বিচার হবেই।


০ মন্তব্য · ৪৭ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!