সাদা চুল আর ড্রাগনের আগুন যাদের গর্ব ও অহংকার, যাদের রক্তে আছে ক্ষমতার আভিজাত্য ও সাত রাজ্যে যাদের এক ইশারায় চলতো তারাই হলো টারগেরিয়ান। লোহার কারুকাজে আয়রন থ্রোন ছিলো তাদের ক্ষমতা ও দাম্ভিকতার প্রতীক। কিং ভিসারিস ২৬ বছর সেভেন কিংডম রাজত্ব চালিয়েছিলেন শান্তিপূর্ণ ভাবে কিন্তু হুট করে কি এমন হলো তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মে??
আয়রন থ্রোন ও রাজত্ব নিয়ে রেনারিয়া পরিবার এবং এলিসেন্ট ও এইমন টারগেরিয়ান পরিবারের মধ্যে চলা গৃহযুদ্ধ তাদের পতনের ইঙ্গিত দেয়। তাদের অহংকার ও ইমেজ নষ্ট হয়ে যায়। শত্রুর সাথে শত্রুর যুদ্ধ ভয়ানক কিন্তু গৃহযুদ্ধ আরও বেশি ভয়ানক। রক্তের সাথে রক্তের যুদ্ধ। সাদা চুলের সাথে সাদা চুলের যুদ্ধ। ড্রাগনের সাথে ড্রাগনের যুদ্ধ। যদিও গৃহ যুদ্ধের বহু বছর পরেও তারা ক্ষমতায় ছিলো কিন্তু তাদের বংশের গর্ব ও অহংকার ছিলো তলানিতে।।
গেম অফ থ্রোনস আর হাউস অফ দা ড্রাগন আমাদের আবেগের একটা স্থান যেখানে ছোট খাটো চরিত্র মারা গেলেও খারাপ লাগে আর বড় চরিত্র মারা গেলে তো আর বেশি খারাপ লাগার কথা। রক্তের সাথে রক্তের ও ড্রাগনের সাথে ড্রাগনের যুদ্ধ চলছে। গ্রিনের সাথে ব্ল্যাক এর লড়াই। পারিবারিক লড়াই।আমি আসলে কোন পক্ষের সাথে নেই আমি তো সাদা চুলের ভক্ত,আমি তো ড্রাগনের ভক্ত। নিজেদের মধ্যে লড়াইটা দেখা আসলে মন খারাপের বিষয়।।
রেনেরিয়া প্রথম ছেলে মারা যায় দুই ড্রাগনের ফাইটে যদিও সেখানে ভুল বোঝাবুঝি ছিলো। এইমনের ড্রাগন লুকার ড্রাগনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার লড়াই তে মারা যায়।জেসের ড্রাগনকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয় ও তার গলায় ও বুকে তীর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়। দুই ছেলে শেষ। প্রজন্মের ধ্বংস শুরু হলো বলে। দুর্দান্ত অ্যাকশন, ড্রাগন ফাইট ও সমুদ্রের লড়াই সেই লেগেছিলো।।
কঠিন এক রাজনীতির সমীকরণে কিংসল্যান্ড ও সাত রাজ্য। গৃহ যুদ্ধ দিয়ে ক্ষতি শুরু হলো।ড্রাগনের মৃত্যু সেই সাথে নিজের ঘরের মনুষের মৃত্যু সব মিলিয়ে এইমন ও ডেমন যুদ্ধের জন্য মরিয়া হয় উঠেছে।হয়তো চাচা ও ভাতিজার মধ্যে লড়াই দেখতে পাবো। তারা যদি যুদ্ধ না করতো মিলে মিশে থাকত তাহলে ভেবে দেখেন কতটা স্ট্রং থাকতো টারগেরিয়ানরা। দাম্ভিকতা যুদ্ধ দিয়ে হয় না,দাম্ভিকতা থাকতে হয় ঐক্য ও অহিংসা মধ্যে দিয়ে। রেনারিয়া তার নিজ ঘরে ফিরে এলো।আয়রন থ্রোনেও আরোহন করলো।।
এলিসেন্ট ও তার একমাত্র মেয়েকে বলতে গেলে নজর বন্দী করে রেখেছে।এইমন তার বিশাল ড্রাগন নিয়ে সেই সমুদ্রের রাজ্যে গিয়েছে।ডেমন কে খুঁজছে। রেনারিয়া আপন গৃহে বলতে গেলে ফিরে আসলো।বাবার বাড়িতে বহু বছর পর আসলো।অটো হাই টাওয়ারের মাথা দুই ভাগ করে কেটে দেয়।রেনারিয়া সিংহাসনে আরোহণ করে। রাজত্ব চালাতে হিমসিম অবস্থা। আর্থিক সংকটে ভয়াবহ রাজ্যে। রাজ কোষ থেকে অর্থ আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে, নতুন করে কর আরোপ করা হয়েছে।।
রানারিয়া কে নিয়ে যতটা প্রতিশোধ পরায়ন প্রত্যাশা ও আশা করেছিলাম সেটা রানারিয়ার মধ্যে পায় নি। তবে এইমন ও ডেমন টারগেরিয়ান তাদের নিজ অবস্থানে ঠিক আছে।একে অন্যকে দেখলে হয়তো ছেড়ে কথাও বলবে না। এলিসেন্টের কিন্তু আরেকটা ছেলে আছে যে কিনা তার আত্মীয় অরমুন্ড হাইটাওয়ারের কাছেই বড় হয়েছে। সেখানে আলাদা শিক্ষায় বড় হয়েছে। আমার কাছে এই অরমুন্ড হাই টাওয়ারকে বেশ সন্দেহজনক মনে হয়। বেশ ধুরন্ধর বলা যায়। হয়তো এইমন টাওয়ার এর সাথেই জোট করবে।।
এই টারগেরিয়ানরা বুঝলো না ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে বা ভাগ হয়ে গেলে কি বিপদ হতে পারে। কালো চুলের টারগেরিয়ানও দেখলাম।সেটা ভ্যালারিয়ানদের দেখেছি তবে ডোরেন টারগেরিয়ানকেও কালো চুলে দেখলাম। টাওয়ার পরিবারের কাছে ভালোই আছে। ড্রাগনও তার কাছে আছে। ভয়ানক যুদ্ধ হতে যাচ্ছে।।
এলিসেন্টের বড় ছেলে এগন তার নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকটা ছদ্মবেশে পরিচয় লুকিয়ে ঘুরে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুখ পুড়ে গিয়েছে।বেশ দুর্বল ও আঘাত প্রাপ্ত। ড্রাগনের সন্ধানে। হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে।।
এপসোড ফাইভে দেখা যায় এলিসেন্ট ও তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু রানীর সহযোগী ধরে ফেলে।গেম অব থ্রোন্স থেকে শুরু করে হাউস অব ড্রাগন এই সিরিজগুলো বেশ নারী কেন্দ্রিক। হাউস অব ড্রাগনেও ঠিক তাই। এলিসেন্ট ও রেনারিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকে গৃহ যুদ্ধ। সার ক্রিস্টেন কোল সত্যিকারের বীর যোদ্ধা। তবে তাকে কেনো যেনো তুলনামূলকভাবে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। টারগেরিয়ানদের দ্বন্দ্বে নাইট বা বড় যোদ্ধারাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।।
ডেমন ও রিনারিয়া রাজত্ব চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।গুপ্ত হত্যা চলছে। সেনাদের গুপ্ত হত্যা করা হচ্ছে। কেউ তো পেছন থেকে ছুরি মারছে কিন্তু কে সে? ড্রাগন যুদ্ধ রূপ নেয় সাইকোলজিক্যাল খেলায়।খেলা হচ্ছে ব্রেইন দিয়ে কিন্তু টারগেরিয়ানরা তো ড্রাগন ছাড়া কিছুই বুঝে না।।
সার ক্রিস্টেন এর চরিত্রটা আমার ভালোই লাগে। এক সময় রেনেরিয়ার প্রেমে মগ্ন ছিলো কিন্তু সেই প্রেম জলে ডুবে যায়। এলিসেন্টের বিশ্বস্ত হয়ে উঠে। একজন বীর যোদ্ধা।টারগেরিয়ানদের জন্যে এমন বীর সেনা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার কিন্তু দ্বন্দ্ব বিরোধ তাকে গ্রীনদের পক্ষ নিতে সহায়তা করে। রেনারিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে হয়। তার দিক নির্দেশনা দেখার মতন ছিলো।।
সার ক্রিস্টেনের মৃত্যুটা এতো সহজে হয়ে গেলো যেটা মেনে নেওয়া আমার কাছে কঠিন। বীরের মৃত্যু হলো না এটা কেমন হলো? এদিকে ডেমন ছদ্মবেশে গুপ্তচরদের ধরার চেষ্টা করছে। রেনারিয়া কঠিন পরিস্থিতির মুখে।।
আমাদের বুঝতে পারা উচিত অতি অহংকার ভালো না ক্ষমতা যখন তখন উড়ে যেতে পারে। যুদ্ধ ও ক্ষমতার অহংকার বন্ধ করার জন্য ড্রাগনদের হত্যা করে ঠিক তেমনি এই আধুনিক যুগে পরমাণু অস্ত্র সমূহ ধ্বংস করা উচিত। তাতে যদি বিভিন্ন দেশগুলোর অহংকার কমে।।
এটা ছিলো বেস্ট একটা এপিসোড যদিও লাস্ট সিজন এখনও বাকি আছে। ড্রাগনের সাথে ড্রাগনের লড়াই তো জমে উঠেছে। রেনারিয়া আসলে প্রিন্সেস হিসেবে ঠিক ছিলো হয়তো কিন্তু কুইন হিসেবে তেমন সুবিধা করতে পারলো না যদিও চারিদিকে ষড়যন্ত্র চলছে, সুবিধাবাদী চারপাশে ছায়ার মতন হয়ে তার ক্ষতি করছে।।
কিং এগন হয়তো তার রাজত্বের ব্যক্তিত্ব নিয়েই ফিরে আসবে হয়তো তবে এমন আবারও প্রতারিতো হলো নিজ মায়ের কাছে যদিও এইমন বেশ এগ্রেসিভ ও হিংস্র তবে সাত রাজ্য চালাতে এটাই আগে দরকার। কি হতে কি হয়ে গেলো। সাদা চুলের মধ্যে আপন রক্তের দাগ লেগে আছে। ড্রাগনের মত প্রাণী দিনে শেষে মারা যাচ্ছে এই সিরিজ ও কিছু পর্ব দেখে এটাই মনে হলো পৃথিবী বেশ স্বার্থপর। নিজের শক্তি না থাকলে টিকে থাকাটা মুশকিল।আপন রক্তের মানুষকেও বিশ্বাস করতে নেই।।
হেলেন এর সুইসাইড মেনে নেওয়ার মতন না। নিরীহ ও ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়া একটা শান্ত মেয়ে কিন্তু তাকে চলে যেতে হলো। গেম অফ থ্রন্স এর ব্রান স্টার্কের মতো হয়তো কিছু না কিছু দেখতে পায়।।
রেনারিয়া কান্নাকাটি বেশ বিরক্ত লাগছিলো। এগোন ও এইমন এখন এক সাথে হয়ে গেলো যদিও এইমন মন থেকে মেনে নিতে চাইছে না। কিং এগোন রেনারিয়াকে মারতে চায় আবার রেনারিয়া দুই ভাইকে মারতে চায়। ব্ল্যাক দল অনেকটা এগিয়ে। ডেমন হাই টাওয়ার ধ্বংস করে দেয়।।
লাস্ট এপিসোড আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম অনেকটা সাদামাটা ইন্ডিং। নেক্সট সিজনের অপেক্ষায়। প্রিন্স ডেমন আসলেই একজন যোদ্ধা। ইতিহাস তাকে সব সময় মনে রাখবে।।
বেইমানি ছলনা তখনই শক্তিশালী হয় যেখানে একতা ঐক্য মৃত আর হিংসা বিদ্বেষ মন প্রাণ শ্বাস নেয়।।
একজন বাবার রাজ্য একজন স্বামীর রাজ্য কিন্তু জনগণের রাজ্য কোনটা? জনগণ কার ভরসায় থাকবে?? অনেকটা আমাদের দেশের দুই নেত্রীর মতন দ্বন্দ। তাদের দেশ জনগণের দেশ না।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!