"শোনো মন বলি তোমায় সব করো, প্রেম কোরো না,
প্রেম যে কাঁঠালের আঠা, আর লাগলে পরে ছাড়ে না"
মিঃ বিয়ার সাত-পাঁচ না ভেবেই এমন কাঠালের আঠা নিজের অন্তরে লাগলো যেই আঠা তার মাইন্ড থেকে উঠানোর সুযোগ নেই।ভালোবাসা যেমন স্বাভাবিক ঠিক তেমনি অস্বাভাবিক।প্রতিটা আবেগীয় স্বত্তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকে। ভালোবাসার ক্ষেত্রে কিন্তু ঠিক সেটাই রয়েছে। ভালোবাসার বিপরীত ঘৃনা কিন্তু ভালোবাসার আরেকটা রূপ আছে সেটা হলো অ্যান্টি লাভ,খল টাইপ ভালোবাসা। অ্যান্টি লাভ খুবই ভয়ানক।।
প্রেমে পরাটা প্রাকৃতিক কিন্তু সেটা যদি স্বাভাবিক ভাবে অর্জন করা যায়,সেই ভালোবাসায় প্রশান্তি আছে কিন্তু যদি জোরপূর্বক ভাবে অথবা অন্য কোন মায়াময় জাদু শক্তি দিয়ে যদি ভালোবাসা অর্জন হয় তখন হয়ে যায় হিতে বিপরীত। যে ভালোবাসবে তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। জোরপূর্বক ভালোবাসা ব্রেইনে ফোর্স করে তারপর নিজের অন্তরে নিজ স্বত্বা ও যাদু স্বত্তার মধ্যে সংঘর্ষ হতে থাকে। নিজেকে কন্ট্রোল করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে যায়।।
এই অসাধারণ ব্লকবাস্টার হলিউড সিনেমাটি উপভোগ্য করার মতন সিনেমা। দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা এবং কিছুটা হরর রোমান্টিক। যৌবনের ফুটন্ত অপ্রাকৃতিক প্রেম দুটো যৌবনা নর নারীর মধ্যে আবির্ভাব হয় আর প্রেম থেকে অন্তরে ক্ষত ক্ষত সৃষ্টি হতে থাকে। আদর ও ভালোবাসা যখন অ্যান্টি বা খলতে রূপ নেয় সেটা হয়ে যায় ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি মতন অবস্থা। যদি কাউকে ভালোবাসতেই হয় সবার আগে তার মানসিক দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা জেনে নেওয়া উচিত। মন বা ব্রেইন বেশ সেনসেটিভ।।
ভালোবাসা হবে ফুটন্ত ফুলের মতন।ধীরে ধীরে ফুল বড় হবে, সুবাস ছড়াবে কিন্তু আপনি যদি একদিনেই কলি থেকে ফুটন্ত ফুল কামনা করেন তাহলে সেটা প্রকৃতি ও তার স্বাভাবিকতার সাথে বেশ সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। এই সিনেমায় বিশেষ মেটাফোর হচ্ছে লালসা ও অতি উচ্চ আকাঙ্ক্ষা বা মনের কিছু বহিঃপ্রকাশ যে গুলো সইতে না পারা, তারপরেও উচ্চ আকাঙ্ক্ষা জ্ঞাপণ করা। মিঃ বিয়ার অতি ভালবাসা সহ্য করতে পারে নি। ম্যাজিকাল উইশ করার পর মিস নিক্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় যেটা বেশ ভয়ানক।।
ভালোবাসা প্রত্যাশা করা সহজ কিন্তু ভালোবাসার ভার বহন করা বেশ কঠিন তার মধ্যে ভালোবাসা যদি হয় এবনরমাল তাহলে তো সেটা বহন করা অসম্ভব। বিয়ার নিজেই হয়তো বিষাদগ্রস্ত ছিলো,সেটা না হলে ম্যাজিকের আশ্রয় এই লোক কেনো নিবে? মিঃ বিয়ারের নিজের ভুলেই মিস নিক্কির অন্তরের স্বাভাবিক স্বত্তাকে নষ্ট করে তার ভিতরের ঘুমন্ত ডেভিলকে জাগ্রত করেছে।
ম্যাজিকাল রিয়েলিজম টাইপ হরর জনার বলা যেতেও পারে। প্রতিটা মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ভিন্ন হয়ে থাকে। নিক্কির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। নিক্কিকে যদি ম্যাজিক করা না হতো যদি স্বাভাবিক ভাবে মিঃ বিয়ার এর সাথে প্রেম হতো তাহলেও হয়তো কিছুটা পাগলামি থাকতো কিন্তু এখানে ব্রেইনের প্রবাহমান অনুভূতি ও আবেগের বহিঃপ্রকাশের ধারা ম্যাজিক দিয়ে নষ্ট করা হয়েছে। ম্যাজিক অতি উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফেলে তার ভিতরের বিবেক আবেগ এলেমেলো করেছে।।
মিস নিক্কি ও মিঃ বিয়ার ভালো বন্ধু কিন্তু মিঃ বিয়ার তো তার প্রেমে পাগল হলেও প্রকাশ করতে পারে নি। তাই দোকান থেকে একটি অদ্ভুত One Wish Willow কিনে যেটা খেলনার মতন আর এটি ভেঙে উইশ করলে, সেই উইশ সত্যি হয়। তাই উইস করে নিক্কি যেনো তাকে খুব ভালোবাসে, পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসে।।
সত্য সত্যই মিস নিক্কি মিঃ বিয়ারকে ভালবাসতে শুরু করতে লাগলো। এই ভালোবাসা হয়ে যায় অতিমাত্রায় ধ্বংসাত্মক। ভালোবাসার তীব্রতা এতটাই যে মিঃ বিয়ার ডান বাম নড়তে পারছে না। প্রাত্যহিক জীবনের ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতেই পায়ে কাটা ফুটছে। ভালোবাসার তীব্রতা সহ্য করতেই পারছে না।নিক্কি মেন্টালি অনেকটা পজেসড।শরীরের সাথে ব্রেইনের স্বাভাবিক কানেকশন নেই।।
সিনেমার গল্প সিম্পল তবে ডিরেকশন বা মেকিং এক কথায় বেশ অসাধারণ। প্রতিটা সিকুয়েন্স ছিলো দেখার মতন তবে ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক থাকলে আরও বেশি ভালো হতো। এটাকে কি প্রেমের সিনেমা বলা যায় নাকি মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা সেটা আপনারাই বলুন।।
নিক্কি চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছন। সেরা অভিনয়।।
এখানে মনুষের সাথে মনুষ্যের ভালোবাসা হয়নি।এখানে হয়েছে মিঃ বিয়ারের ডেভিল স্বত্তার সাথে সদ্য জাগ্রত মিস নিক্কির ডেভিল স্বত্তার সাথে ভালোবাসা হয়েছে। মিঃ বিয়ার যে কোন মূল্যে নিক্কির সাথে প্রেম চায়,প্রেম তাকে অন্ধ করে দেয়,এই অন্ধ তার ভিতরে অবচেতন মন ডেভিলের জন্ম দেয় আর তার ম্যাজিকাল উইশ এই নিক্কির অন্তরের ভিতরে তৈরি করে রোমান্টিক ডেভিল যে ভালোবাসে দানবের মতন, স্বাভাবিক মানুষের মতন নয়।।
এই সিনেমার ভিলেইন যদি থাকে সেটা হলো মিঃ বিয়ার যে অবচেতন মনে ভিলেইন হয়ে গিয়েছে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!