কি একটা ওয়েব সিরিজ,আসলেই মাথা নষ্ট করার মত উপভোগ্য এবং সেই লেভেলের মনের প্রশান্তি।দেখলাম আর অবাক হলাম এতো অসাধারণ নির্মাণ কিভাবে হয়। সাউথ কোরিয়ান সিরিজ মানেই সেই অসাধারণ আর এই স্পাই থ্রিলার সিরিজ না দেখলে আপনি তো সাউথ কোরিয়ান সিরিজের ফ্যানই হতেই পারবেন না।।
উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া স্পাই এজেন্ট নিয়েই এই ওয়েব সিরিজ। দুটো দেশের মধ্যে সাপে নেওলে সম্পর্ক যখন,ভয়ংকর কূটনৈতিক, রাজনীতি এবং স্নায়ু যুদ্ধে জড়িয়ে যায় তখন কেমন অবস্থা হতে পারে?এটাই সিরিজের অন্যতম প্রেক্ষাপট হলেও প্রেক্ষাপটের কিন্তু শেষ নেই।সিরিজের দশটা পর্ব যখন দেখা শুরু করবেন তখন দেখতে পাবেন চিপাচাপা থেকে হুট করেই নতুন নতুন প্রেক্ষাপট বেরিয়ে আসছে।।
এটা কি জনার সিরিজ??? বেস্ট ফ্যমিলি ড্রামা, বেস্ট ফ্রেন্ডশিপ ড্রামা,স্পাই থ্রিলার ক্রাইম থ্রিলার,কমেডি ড্রামা, অ্যাকশন ড্রামা ও থ্রিলার, বন্দুক যুদ্ধ,সাসপেন্স থ্রিলার সব মিলিয়েই এই ওয়েব সিরিজ। প্রতিটা জনারের সিকুয়েন্সের অ্যাডজাস্টমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন বেস্ট বলা যায়। ডিরেকশন বেস্ট অব বেস্ট আমি বলবো।ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ভিএফএক্স লোকেশন,সেট ডিজাইন দেখার মতন ছিলো। গাড়ীর চেসও আছে।।
স্টাইলিস্ট অ্যাকশন এবং হাই লেভেলের টেকনোলজি ও সিকুউরিটি সিস্টেম দেখানো হয়েছে। মাস্টারপিস ও স্টাইলিস্ট সাউথ কোরিয়ান সিরিজ বলা যেতে পারে।।
সিরিজটি ওয়েবটুন কমিক্স থেকে নির্মিত হয়েছে। মূল চরিত্রে রয়েছেন এজেন্ট কিম যিনি একজন সাধাসিধে চাকুরিজীবী।একজন আদর্শ সিঙ্গেল সাধাসিধে বাবা।একমাত্র মেয়েকে ভালোবাসে।মেয়ের জন্মের সময় মা মারা যায়।একা কিম মেয়েকে বড় করেন।এক শিল্পপতি মেয়ের সাথে তার ঝামেলা হয়।মেয়ে কিডন্যাপ হয় এবং জীবিত নাকি মৃত সেটা নিয়েই কনফিউশন। মেয়েকে উদ্ধার করতে চান মিঃ কিম কিন্তু তাকে আবারও সেই রূপে ফিরতে হবে।।
উত্তর কোরিয়ার স্পাই পরে দক্ষিণের হয়ে কাজ শুরু করেন।।
একজন আধারণ মানুষ হুট করেই তার আগের রূপে ফিরে গেলেন। এজেন্ট কিম। এক দুর্ধর্ষ সাউথ স্পাই ও ইন্টেলিজেন্স পারসন যদিও এক সময় নর্থ কোরিয়ার স্পাই ছিলো কিন্তু সিচুয়েশন সেটা বদলে দেয়। ঘটনার পিছনে বহু ঘটনা রয়েছে।কিমের ভিতরের সিংহটা হুট করে জেগে উঠেছে।এজেন্ট কিম যাকে দানবও থামাতে পারবে না। এজেন্ট কিম যিনি অপ্রতিরোধ্য,বুদ্ধিদীপ্ত ও কমান্ডো ফাইটার। অনেক ভয়ংকর ভয়ংকর অভিযানে যিনি সফলতা দেখিয়েছেন।
একমাত্র মেয়ের জন্য পুরো শহর তছনছ করে দেওয়া শুরু করেছেন। ভেবেছিলাম মেয়েকে উদ্ধার করা পর্যন্ত শেষ কিন্তু ঘটনা তো আরও ঘটে গেলো। তিনি পরিচয় লুকিয়ে ছিলেন কিন্তু ধরা পরে গেলেন।উত্তর কোরিয়া ও চীনের মোস্ট ওয়ান্টেড পারসন। উত্তর কোরিয়া তো জেনে গেলো কিম বেঁচে আছে।দুই দেশের মধ্যে স্নায়ু ও কূটনৈতিক টানাপোড়ন শুরু হলো। এদিকে চেয়ারম্যান জো মেয়েকে টার্গেট করেছে।সাউথ কোরিয়ার পুলিশ ও কিমকে ধরতে চাচ্ছে।
এই সিরিজ দেখার সময় অনেক কিছুই মনে হতে পারে কিন্তু সিরিজের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও ছোট ছোট টুইস্ট আপনার ধারণা বদলে দিবে।টার্গেট ছিলো তো মেয়েকে উদ্ধার করা কিন্তু তিনি কঠিন কূটনৈতিক রাজনীতিতে এবং একজন বড় শিল্পপতি মাফিয়ার সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে গেলেন। তার পুরনো যমদূত উত্তর কোরিয়া তো আছেই যদিও কোন যমদূত কিমের সামনে কিছুই না।।
ডিরেকশন এতটাই ভালো যখন অতীতের টাইমলাইন দেখাবে তখন ড্রামা ফিল করবেন বোরিং লাগবে না, আবার যখন দুর্দান্ত থ্রিলার দৃশ্য আসবে তখন কিন্তু তো চোখ ফেরানো যাবে না। থ্রিলার ও ড্রামা দেখতে দেখতে হাস্যরস দৃশ্য পাবেন। সিরিয়াস মুহূর্তে আপনি হাসতেও বাধ্য হবেন।।
কিমের দুই বন্ধু হান সো এবং জেন চোয়েল এই দুইটা ক্যারেকটার বেশ ভালো লাগবে।বিশেষ করে মিঃ জেন চোয়েল যিনি বেশ মজার মানুষ। দুষ্টামিতে ওস্তাদ তবে তিনিও এক সময় এজেন্ট ছিলেন। ভয়ংকর শক্তিশালী যোদ্ধা। মারামারিতে এবং ভারী অস্ত্র নিয়ে অপারেশনে খুবই এক্সপার্ট। বর্তমানে তিনি এক আর্মি একাডেমিতে আছেন। হান সো মার্শাল আর্টস এক্সপার্ট এবং মার্শাল একাডেমি পরিচালনা করেন। সবাই খুবই সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করেন।।
শেষের দিকে বেশ ভালো লাগবে। উত্তর কোরিয়ার বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কোরিয়াতে চলে আসে তারা কিমকে এবং উত্তর কোরিয়ার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কে চায় কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া সেটা তো চাচ্ছে না। কিম নিজের মেয়েকে উদ্ধার করে কিন্তু এরপর অনেক বড় অপারেশন দায়িত্ব দেওয়া হয় সেটা হল সেই উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে নিরাপদে রাখতে হবে।এখানেই শুরু হয় আসল যুদ্ধ।।
প্রতিটা পর্ব দেখার মতন ছিলো। কিমকে ফেস করতে হয়েছে উত্তর কোরিয়ার গ্যাং এবং চেয়ারম্যান জো এর শক্তিশালী গ্যাংদের সাথে এবং ভালোই অ্যাকশন ছিলো সেই সাথে বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগত লড়াই আরও থ্রিলিং করেছে।কিমের সেই দুই বন্ধুর ছেলে মেয়েকে কিডন্যাপ করা হয় এবং কিম এবং তার দুই বন্ধুকে খাঁচায় বন্দীও করা হয়। সন্তানদের মুক্তির জন্য হান সো এবং জেন চোয়েল তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিমকে মারতে থাকে কিন্তু এটা ছিলো কৌশলগত মারামারি যেটা পরে টুইস্ট দিয়ে দেখানো হয়েছে।।।
কিম নতুন পরিবচয় পেয়ে যায়। মেয়েকে নিয়ে ভালো থাকে। তার দুই বন্ধুরাও বেশ ভালো আছে। স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে সব কিছু।শেষের দৃশ্য দেখে এটাই বুঝলাম হাই ইন্টেলিজেন্স ও এক্সপার্ট কমান্ডো যোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়তো শেষ হয় না। তাদের জীবন মানেই চিরন্তনী যুদ্ধ।
কিম নিজের মেয়েকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলো কিন্তু ভাগ্য ও নোংরা সিস্টেম তাকে শান্ত থাকতে দিলো না। ঘুমন্ত সিংহকে জাগাতে নেই।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!