সম্প্রতি ডিরেক্টর গিয়ের্মো দেল তোরোর পরিচালনায় তৈরি এই দুটি মুভি দেখলাম। ডার্ক-ফ্যান্টাসি হিসেবে বেশ উপভোগ্য ছিল দুটো পার্টই। বিশেষ করে হেলবয়কে দেখতেই আলাদা রকমের একটা ভালো লাগা কাজ করছিল। আগে টিভিতে মুভির একটু একটু দৃশ্য দেখলেও পুরোটা কখনোই দেখা হয়ে ওঠেনি। এবারে দুটো পর্ব একবারে দেখে পুরো ফিল নিয়ে নিলাম।
গল্প হেলবয় নামক একটা লাল রঙের ডেভিলকে কেন্দ্র করে, যে Bureau for Paranormal Research and Defense-এর অধীনে কাজ করে এবং পৃথিবীতে হওয়া অলৌকিক সব বিপদ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। কিন্তু এই লাল রঙের ডেভিল কীভাবে পৃথিবীতে এসেছে এবং সে কেন মানুষকে সাহায্য করছে তা জানতে মুভি দুটো দেখতে হবে।
দ্বিতীয় পার্টের গল্পটা প্রথমটা থেকে বেশ বড়সড় আকারে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে প্রাচীনকালে ঘুম পাড়িয়ে রাখা ‘গোল্ডেন আর্মি’কে জাগ্রত করে নুয়াদা নামের এক প্রিন্স। সে কেন এটা করে এবং এর শেষ পরিণতি কী হয় তা জানতে এই মুভিটাও দেখে নিতে পারেন।
দুটো মুভিতে মূল আকর্ষণ একজনই—সে হলো হেলবয় চরিত্রে রোন পার্লম্যান। চরিত্রটা ডেভিল হলেও পুরো মুভিতে তার খুব একটা খারাপ কোনো দিক নেই; বরং বিড়ালের প্রতি তার ভালোবাসা আর বাকি চরিত্রদের সাথে মজাদার মুহূর্তগুলো বেশ উপভোগ করেছি। লিজ শ্যারম্যান আর অ্যাব স্যাপিয়েনের সাথে তার বন্ডিংটাও জোস ছিল।
পুরনো মুভিগুলো এখন দেখলে আমি শুধু একটা জিনিস ভেবেই অবাক হই—তখন কোনো কাল্পনিক চরিত্র বানালে তার মেকআপ, কস্টিউম আর ডিজাইনগুলো কতটা পারফেক্ট বানাতো! অথচ বর্তমান সময়ে এত আধুনিক প্রযুক্তি থাকার পরেও মুভিতে মনস্টারগুলোকে বেশিরভাগ সময়ে কার্টুনিশ মনে হয়।
ভিজ্যুয়ালি দুটো মুভিই আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তবে একদম নিখুঁত কিছু যদি খুঁজে থাকেন, তাহলে হতাশ হতে হবে। কিন্তু সুপারহিরো মুভির বাইরে অন্য ধাঁচের কিছু দেখতে চাইলে এই দুটো দেখে ফেলতে পারেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!