অনুরাগ কাশ্যপের নাম দেখলেই একটা আগ্রহ তৈরি হয়। তার ছবি মানেই অন্যরকম গল্প, কিন্তু গল্পটা মাথার ভেতরে দীর্ঘদিন থাকবে। তার এই ছবিটা দেখতে বসে সেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু যা দেখলাম, সেটা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু দিয়ে গেল।
সামার মেহরা একজন মধ্যবয়স্ক টেলিভিশন তারকা। যে মানুষটা একসময় লক্ষ মানুষের প্রিয় ছিল, এখন প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু এক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আসে, আর পুরো দুনিয়া ঘুরে যায় এক মুহূর্তে। সে দোষী নাকি নির্দোষ তার অপেক্ষা কেউ করেনি। সামাজিক মাধ্যমে বিচার হয়ে যায় আদালতের আগেই, ক্যামেরার সামনে যে মানুষটা বড় ছিল সে হঠাৎ অসহায় হয়ে পড়ে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই জেলখানার খাঁচায় শুরু হয় এক কঠিন জীবন। ছবি কোনো সহজ উত্তর দেয় না গল্পে, সামার দোষী কি নির্দোষ, এই প্রশ্নের জবাব দর্শকের বিবেকের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
ববি দেওল। এই মানুষটা এত ভালো অভিনয় করতে পারেন সেটা অ্যানিমেলের পর এই ছবিতে আবার অনুভব করতে পারবেন। সামারের ভেতরের কাপুরুষতা, তার অহংকার, তার ভয়; সবকিছু চোখে-মুখে এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে বিরক্তিও লাগে, করুণাও লাগে একসাথে। জেলের ভেতরে ঢোকার পর রাজ বি শেঠি আর জিতেন্দ্র জোশির সাথে তার দৃশ্যগুলো এই বছরের সেরা অভিনয়ের মুহূর্তগুলোর একটা।
জেলের দৃশ্যগুলোর কথা আলাদা করে বলতেই হবে। বলিউড সিনেমায় জেলকে এতটা জীবন্ত আর শ্বাসরুদ্ধকরভাবে দেখানো হয়নি আগে। এই জেল শুধু একটা জায়গা না, এটা একটা আলাদা সমাজ, নিজস্ব নিয়ম আর ক্ষমতার সাথে। পুলিশি দুর্নীতি, সেলিব্রিটি সংস্কৃতির ভেতরের ফাঁকি, সামাজিক মাধ্যমের বিচারের নির্মমতা; সব একসাথে এসে ছবিটাকে একটা শক্তিশালী সামাজিক মন্তব্যে পরিণত করেছে।
শেষটা একটু আচমকা, অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেই অসম্পূর্ণতাটাই হয়তো ছবির বক্তব্য। জীবনে সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না, সব বিচার শেষ হয় না। ছবি দেখার পর অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম, মাথায় ঘুরছিল একটাই প্রশ্ন! সত্যিটা কে জানে? দেখে ফেলুন। ভালো লাগবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!