কাঁচাপাকা চুল-দাড়ির এক বুড়ো। চারদিকে ভেড়া চরানোর জমি আর তার ঠিক মাঝখানে একটা ক্যারাভ্যান। সেই ক্যারাভ্যান ভর্তি বই, আর ক্যারাভ্যানের বাইরে মাঠভর্তি ভেড়ার পাল। এই সব ভেড়া ওই বুড়োটার। বই, ভেড়ার পাল আর তাদের সাথে ডিটেকটিভ, মার্ডার মিস্ট্রি বইয়ের গল্প শুনিয়ে কাটিয়ে দেওয়া একটা ছিমছাম জীবন।
বুড়োর আপন বলতে তেমন কেউ আছে কি না জানা যায় না। বুড়ো শহরে যায়, সবাই যখন চার্চে যায়, সে চার্চে বসেও না। শহরের মানুষজন; দোকানদার, চার্চের ফাদার থেকে শুরু করে কসাই, সবাই তাকে দেখলেই কপালে ভাঁজ ফেলে। কারোরই বিশেষ প্রিয় পাত্র নয় সে।
সেই অপ্রিয় পাত্র যখন এক বেলায় খুন হয়, তখন আলাভোলা পুলিশ অফিসারটার, যে কখনোই মার্ডার কেস হাতে পায়নি, তার কপালে ভাঁজ পড়ে। কিন্তু মৃত বুড়োর প্রতি বিশেষ ভালোবাসা বলতে আছে শুধুই ভেড়াগুলোর। তো, যেহেতু ভেড়াগুলোই তার আপনজন, আপনজনের কাঁধেই বর্তায় মনিবের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার ভার।
বাকি পুরোটা গল্পই যেন ভেড়ার পাল টেনে নেয়। ইন্টারেস্টিং এই সিনেমা আপনাকে আনন্দ দেবে, তার সাথে দেবে কিছু স্ট্রং মেসেজ। ভেড়ার পাল বলে নাক সিটকানো সবাই পালের গুরুত্ব বুঝতে পারবে। ওয়েল-রিটেন একটা সিনেমা। স্ক্রিনপ্লে এতটাই পেসড যে, সময় সুন্দর কেটে যায়।
এই সিনেমা দেখার পর আমার একটাই আফসোস, আমি কেন ভেড়াদের মতো ওয়ান, টু, থ্রি বলে সব রিসেট করে নিতে পারি না? ঘটে যাওয়া সব খারাপ খবর মাথা থেকে মুছে ফেলতে পারি না?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!