আমাদের গ্রামবাংলায় যে ছেলে খুব চঞ্চল, দুষ্ট, মানুষের ক্ষতি করে বেড়ায়, তাকে বলা হতো ‘বিটিশ’। এই ইতর, বদমাইশের সমার্থক হিসেবে যে ‘বিটিশ’ বলা হয়, এটা মূলত ‘ব্রিটিশ’কে বোঝায়। আসলেই ব্রিটিশরা ইতর, আর তাদের সবচেয়ে বড় ইতরামিগুলোর একটা হলো ভারতীয় উপমহাদেশের মানচিত্রকে কেটে দুই ভাগ করা।
ব্রিটিশদের মানচিত্র ভাগে ছিল না কোনো প্রপার প্ল্যান, ছিলো গাফিলতি। এই গাফিলতির সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে বাংলা আর পাঞ্জাবের মানুষেরা। সেই পাঞ্জাবের দেশভাগে নিজের মাটি, মানুষ পেছনে ফেলে আসা একজনের কল্পনায় গড়ে উঠেছে এই সিনেমা।
একজন মানুষ যে জায়গায় বেড়ে ওঠে, সে জায়গার চেয়ে আপন হয়তো আর কিছুই হয় না। সেই জায়গায় তার অনেক অভ্যাস জমা হয়। সাইকেল চালানোর পথের পাশের চার্চটা, অথবা সেই মাথাখোলা গাছটা, যার নিচে বসে প্রেয়সীর সঙ্গে জীবনের বাকি সময়টা স্বপ্ন দেখা যায়। পুরোনো কলেজ, সেই কলেজের ঘণ্টা, অডিটোরিয়াম। পলেস্তারা ওঠা ছাদ, সেই ছাদ থেকে একসঙ্গে আকাশ দেখা অথবা সন্ধ্যা নামা দেখা।
এই সবকিছু মানুষের নিজের। একজনের নিজের। আর একদিন হুট করে কেউ একজন সিদ্ধান্ত নিল, আর সেই সিদ্ধান্তের জন্য পেছনে ছাড়তে হবে সব। সব মানে সব। শৈশব, সাথী, পরিবার। এই ছেড়ে যেতে গেলে হারিয়ে যাবে কতটা আর থাকবে কতটা, কে জানে! তাই ছেড়ে যেতে যেতে বার বার ভেতর ভেঙে চিৎকার আসে, আমি ফিরে আসবো, আসবোই।
নাসিরউদ্দিন শাহ যে ভারতের ওয়ান অফ দ্য গ্রেটেস্ট অ্যাক্টরস অফ অল টাইম, এই সিনেমা দিয়ে যেন আরেকবার প্রমাণ করলেন। পুরো সিনেমাজুড়েই তিনি অভিনয়ের শক্তি দেখিয়ে গেলেন। ধীরগতির এই সিনেমা দেখতে ধৈর্য থাকা লাগবে বটেই, কিন্তু সেই ধৈর্য ধরে দেখাটা একেবারেই বিফলে যাবে না।
ইমতিয়াজ আলী, চমৎকার এক সিনেমা বানিয়েছেন। এই সিনেমার সবকিছু ভুলে গেলেও, নাসিরউদ্দিন শাহ আর ইমতিয়াজ আলীকে মানুষ এই সিনেমার জন্যই মনে রাখবে। অনেককাল।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!