একজন ভারতীয় পদার্থবিদের গবেষণা দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং আলোর কোয়ান্টাম প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছিল। অথচ নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে তাঁর নাম থেকে গেল এক অদ্ভুত অনুপস্থিতি।
কেরলের কোট্টায়াম থেকে উঠে আসা E.C.G. Sudarshan ১৯৫০ এর দশকে রবার্ট মার্শাকের সঙ্গে দুর্বল নিউক্লীয় বলের জন্য V−A তত্ত্ব বিকাশ করেন। তাঁদের গবেষণাপত্র ১৯৫৮ সালে Physical Review-এ প্রকাশিত হয়, একই বছরে ফাইনম্যান ও গেলম্যানও কাছাকাছি তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
এই কাজের গুরুত্ব ছিল গভীর। V−A তত্ত্ব দেখিয়েছিল, দুর্বল মিথস্ক্রিয়ায় প্রকৃতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য কীভাবে কাজ করে, যা পরবর্তীতে ইলেক্ট্রোউইক তত্ত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে। ১৯৭৯ সালে সেই ক্ষেত্রের জন্য গ্ল্যাশো, সালাম ও ওয়াইনবার্গ নোবেল পান।
সুদর্শনের আরেকটি বড় অবদান ছিল Sudarshan diagonal representation, যা আলোর কোয়ান্টাম অবস্থাকে গাণিতিকভাবে বর্ণনা করার একটি শক্তিশালী কাঠামো। পরে এটি Glauber Sudarshan representation নামে পরিচিত হয় এবং কোয়ান্টাম আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে রোয়ি গ্লাউবার আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বে অবদানের জন্য নোবেল পান। তবে সুদর্শনের অবদান নিয়ে সেই সময় থেকেই স্বীকৃতি ও কৃতিত্বের প্রশ্নে বিতর্ক রয়েছে।
নয়বার নোবেলের জন্য মনোনীত হয়েও পুরস্কার না পাওয়া তাই তাঁর বৈজ্ঞানিক গুরুত্বকে মুছে দেয় না। E.C.G.Sudarshan-এর জীবন মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞানে পুরস্কার ইতিহাসের একটি অধ্যায় লিখতে পারে, কিন্তু একটি ধারণার প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করে তার পরবর্তী বিজ্ঞান।
তথ্যসূত্র: E.C.G. Sudarshan & R. Marshak, 1958, Chirality Invariance and the Universal Fermi Interaction, Physical Review.
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!