জলের নিচে মৃত্যু
যেদিন সমুদ্র শহরের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল
রাত তখন প্রায় এগারোটা।
নীলপুর শহরটাকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো, সমুদ্রের ধারে বসে থাকা একটা শান্ত, নিরীহ শহর। দিনের বেলায় পর্যটকদের ভিড়, ছোট ছোট রেস্তোরাঁ, মাছের বাজার, পুরোনো বাতিঘর আর সমুদ্রের ধারে সারি সারি কাঠের বাড়ি—সব মিলিয়ে জায়গাটা ছিল ছবির মতো সুন্দর।
কিন্তু সেদিন রাতে সেই শহরের সৌন্দর্যের কোথাও কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
সমুদ্রের ওপরে আকাশটা অস্বাভাবিক কালো হয়ে গিয়েছিল। বাতাসের গতি এত বেশি ছিল যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো একদিকে বেঁকে যাচ্ছিল। দূরে কোথাও একটা সাইরেন একটানা বেজে চলেছে।
টেলিভিশনের পর্দায় আবহাওয়ার উপস্থাপিকা বারবার একই কথা বলছিলেন—
“ঘূর্ণিঝড়টি অত্যন্ত দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। নীলপুর ও আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
কিন্তু নীলপুরের মানুষ ঝড়ের সঙ্গে অপরিচিত ছিল না।
তারা জানত কীভাবে জানালা বন্ধ করতে হয়, কীভাবে ছাদে শুকনো খাবার তুলে রাখতে হয়, কীভাবে বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালাতে হয়।
তারা জানত না, এবার তাদের ভয় পাওয়ার কারণটা ঝড় নয়।
সমুদ্রের অন্ধকারে অন্য কিছু অপেক্ষা করছিল।
মায়া রহমান হাসপাতালের শেষ ওয়ার্ডটা ঘুরে দেখছিল।
সারা রাত হাসপাতালেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে। বাইরে বের হওয়ার উপায়ও ছিল না, আর হাসপাতালের কয়েকজন বৃদ্ধ রোগীকে এই অবস্থায় ফেলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভাই রায়ানের নাম।
“হ্যালো?”
ওপাশ থেকে রায়ানের গলা শোনা গেল।
“আপু, তুমি এখনও হাসপাতালে?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি বের হয়ে যাও।”
মায়া জানালার দিকে তাকাল।
“কোথায় যাব?”
“যেকোনো উঁচু জায়গায়। নদীর পানি রাস্তার ওপর উঠে গেছে।”
মায়া একটু হাসল।
“রায়ান, এত ভয় পাচ্ছিস কেন? ঝড় তো এখনও শুরুই হয়নি।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা হলো না।
তারপর রায়ান খুব নিচু গলায় বলল,
“আপু... সমুদ্রটা আজ অদ্ভুত লাগছে।”
মায়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
“মানে?”
“পানি পিছিয়ে যাচ্ছে।”
“পিছিয়ে?”
“হ্যাঁ। অনেক দূর পর্যন্ত পানি সরে গেছে। মানুষজন দেখতে নিচে নেমে যাচ্ছে।”
মায়ার বুকের ভেতর হঠাৎ অস্বস্তি হলো।
সে জানত, সমুদ্র হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে পিছিয়ে গেলে সেটা ভালো লক্ষণ নয়।
“তুই বাড়ি থেকে বের হবি না। দরজা বন্ধ করে রাখ।”
“তুমি?”
“আমি এখানেই থাকছি।”
“আপু—”
মায়া ফোন কেটে দিল।
ঠিক তখনই হাসপাতালের আলো কয়েকবার জ্বলে-নিভে সম্পূর্ণ নিভে গেল।
চারপাশ অন্ধকার।
কয়েক সেকেন্ড পরেই হাসপাতালের জরুরি বাতিগুলো জ্বলে উঠল।
আর সেই আলোয় মায়া দেখল—
হাসপাতালের সামনের রাস্তায় পানি।
কয়েক মিনিট আগেও যেখানে শুকনো রাস্তা ছিল, সেখানে এখন হাঁটুর কাছাকাছি পানি।
পানি এত দ্রুত বাড়ছিল যে চোখের সামনেই তার উচ্চতা বদলে যাচ্ছিল।
একজন নার্স দৌড়ে এসে বলল,
“মায়া আপা! নিচতলায় পানি ঢুকছে!”
মায়া সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেল।
কিন্তু বেসমেন্টে পৌঁছানোর আগেই বাইরে থেকে একটা ভয়ংকর শব্দ হলো।
ধামমম!
পুরো ভবন কেঁপে উঠল।
জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ল।
কেউ একজন চিৎকার করে উঠল—
“বাঁধ ভেঙে গেছে!”
তারপর যেন শহরের ওপর সমুদ্রের দরজা খুলে গেল।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই নীলপুরের রাস্তা নদী হয়ে গেল।
গাড়িগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেসে যাচ্ছে। দোকানের শাটার ভেঙে পানি ঢুকছে। মানুষ ছাদে উঠে চিৎকার করছে।
কেউ জানত না কোথায় যাবে।
কেউ জানত না আর কতক্ষণ সময় আছে।
আর সমুদ্রের দিক থেকে ভেসে আসছিল অদ্ভুত একটা শব্দ।
মনে হচ্ছিল, বিশাল কোনো প্রাণী পানির নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
শহরের পুরোনো মাছের বাজারের কাছে একজন বৃদ্ধ জেলে টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
হঠাৎ পানির মধ্যে কিছু একটা নড়ল।
তিনি আলোটা সেদিকে ফেললেন।
প্রথমে কিছুই দেখা গেল না।
তারপর—
দুটি কালো চোখ।
বৃদ্ধ লোকটা স্থির হয়ে গেলেন।
পানির ওপর ধীরে ধীরে একটা পাখনা উঠল।
তারপর আরেকটা।
তিনি পিছিয়ে যেতে গিয়েও পড়ে গেলেন।
পরের মুহূর্তে পানির নিচ থেকে একটা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি।
বৃদ্ধের চিৎকারটা কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হলো না।
তার টর্চটা পানির ওপর ভেসে রইল।
আর তার চারপাশে ধীরে ধীরে লাল রং ছড়িয়ে পড়ল।
ভোর হওয়ার আগেই খবরটা ছড়িয়ে পড়ল।
শহরের পানিতে হাঙর আছে।
প্রথমে কেউ বিশ্বাস করেনি।
তারপর একজন।
তারপর আরেকজন।
তারপর যখন উদ্ধারকারী নৌকার একজন সদস্য নিজের চোখে বিশাল একটা হাঙরকে নৌকার নিচ দিয়ে যেতে দেখল, তখন আর সন্দেহের কোনো জায়গা রইল না।
মায়া হাসপাতালের ছাদে দাঁড়িয়ে নিচের পানির দিকে তাকিয়ে ছিল।
একটা ছোট নৌকা ধীরে ধীরে হাসপাতালের দিকে এগিয়ে আসছিল।
নৌকায় থাকা লোকটা চিৎকার করল,
“সবাই ছাদে থাকুন! পানিতে নামবেন না!”
মায়া তাকে চিনতে পারল।
আরমান কাদের।
একসময় সমুদ্র উদ্ধারকারী দলের সদস্য ছিল। কয়েক বছর আগে একটি দুর্ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। নীলপুরের সমুদ্র তার নিজের হাতের রেখার মতো চেনা ছিল।
মায়া তাকে হাত দেখিয়ে ডাকল।
“আরমান! এগুলো এখানে কীভাবে এলো?”
আরমান নৌকা থামাল।
তার মুখে কোনো উত্তর নেই।
“কী হয়েছে?”
সে শুধু বলল,
“এগুলো স্বাভাবিক হাঙর না।”
মায়ার ভ্রু কুঁচকে গেল।
“মানে?”
আরমান সমুদ্রের দিকে তাকাল।
“ঝড়ের পানি ওদের এখানে এনেছে। কিন্তু এতগুলো হাঙর একসঙ্গে শহরের ভেতরে ঢোকার কথা নয়।”
“তাহলে?”
আরমান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“কেউ ওদের এখানে নিয়ে এসেছে।”
সেই কথাটাই পরে নীলপুরের সবচেয়ে ভয়ংকর রহস্যের দরজা খুলে দেয়।
শহরের বাইরে একটি ব্যক্তিগত সামুদ্রিক গবেষণাকেন্দ্র ছিল। কয়েক বছর ধরে সেখানে বড় আকারের হাঙর নিয়ে পরীক্ষা চলছিল। ঝড়ের সতর্কতা পাওয়ার পর গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীরা জায়গাটি খালি করে দেয়।
কিন্তু তারা জানত না, তাদের কিছু খাঁচা ইতিমধ্যেই সমুদ্রের জোয়ারে ভেসে গেছে।
খাঁচাগুলো ভেঙে যাওয়ার পর হাঙরগুলো মুক্ত হয়ে যায়।
আর তাদের মধ্যে একটি ছিল অস্বাভাবিক বড়।
একটি মেয়ে হাঙর।
গবেষণাগারের কর্মীরা তাকে ডাকত—
নেলি।
কিন্তু নেলি কেন অন্য হাঙরগুলোর সঙ্গে শহরের দিকে আসছিল, তার উত্তর কেউ জানত না।
সকালের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো।
পানি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে গেল।
মায়া রোগীদের নিয়ে ছাদে উঠে এল।
তখনই দূরে একটা বাড়ির ছাদ থেকে চিৎকার শোনা গেল।
চারজন মানুষ আটকা পড়েছে।
তাদের মধ্যে ছিল তুহিন, নীলা, সজীব এবং তাদের শিক্ষক হাসান।
আরমান নৌকা নিয়ে তাদের আনতে গেল।
নৌকাটা যখন মাঝপথে পৌঁছেছে, তখন হঠাৎ পানির নিচ থেকে কিছু একটা নৌকার গায়ে আঘাত করল।
সবাই পড়ে যেতে যেতে সামলাল।
আবার আঘাত।
এবার নৌকার কাঠ ফেটে গেল।
তুহিন চিৎকার করে উঠল,
“স্যার! ওটা কী?”
হাসান উত্তর দিলেন না।
কারণ তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন পানির নিচে একটা বিশাল ছায়া নৌকার নিচ দিয়ে ঘুরছে।
আরমান ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল।
“কেউ নড়বে না।”
নৌকায় নিস্তব্ধতা নেমে এল।
পানির ওপর শুধু বৃষ্টির শব্দ।
তারপর ছায়াটা চলে গেল।
আরমান নিঃশ্বাস ছাড়ল।
“এখন।”
সে ইঞ্জিন চালু করল।
নৌকাটা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
কিন্তু কেউ জানত না—
ওটা শুধু প্রথম সতর্কবার্তা।
সন্ধ্যার পর ঝড় আরও ভয়ংকর হয়ে উঠল।
বিদ্যুৎ নেই।
মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই।
শহরের সঙ্গে বাইরের পৃথিবীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
আর পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে।
মায়া তখন হাসপাতালের ছাদে বসে ছিল।
হঠাৎ আরমান এসে বলল,
“আমাদের বাতিঘরে যেতে হবে।”
মায়া তাকাল।
“এখন?”
“এখন না গেলে আর কখনো পারব না।”
“কেন?”
“এই ভবন আর দুই ঘণ্টার বেশি টিকবে না।”
মায়া চারপাশে তাকাল।
ছাদের নিচে শত শত মানুষ।
বৃদ্ধ।
শিশু।
অসুস্থ মানুষ।
গর্ভবতী এক নারীও আছে, যার প্রসব যেকোনো সময় শুরু হতে পারে।
মায়া ধীরে বলল,
“তাহলে সবাইকে নিয়ে যাব।”
আরমান তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
“তুমি জানো, পথটা কেমন?”
“জানি।”
“পানির নিচে হাঙর।”
“জানি।”
“তারপরও?”
মায়া উত্তর দিল,
“এখানে থাকলে সবাই মরবে।”
আরমান কিছু বলল না।
শুধু নৌকার দড়িটা খুলে দিল।
রাত প্রায় দুইটার সময় তারা রওনা হলো।
আকাশে বজ্রপাত।
চারদিকে কালো পানি।
নৌকার ভেতরে গাদাগাদি করে বসে আছে মানুষ।
কেউ কথা বলছে না।
সবাই শুধু শুনছে পানির শব্দ।
মায়ার কোলে সেই গর্ভবতী নারী।
হঠাৎ সে ব্যথায় কুঁকড়ে গেল।
মায়া বুঝল—
সময় হয়ে গেছে।
কিন্তু তারা তখনও বাতিঘর থেকে অনেক দূরে।
আরমানের সামনে হঠাৎ পানিতে তিনটি পাখনা দেখা দিল।
সে গতি বাড়িয়ে দিল।
পেছন থেকে একটা হাঙর নৌকায় আঘাত করল।
একজন মানুষ পানিতে পড়ে গেল।
তারপর যা ঘটল, তা এত দ্রুত হলো যে কেউ কিছু বুঝতেই পারল না।
পানির ওপর রক্ত ছড়িয়ে পড়ল।
আর পর মুহূর্তেই কয়েকটি পাখনা সেই জায়গাটাকে ঘিরে ফেলল।
সবাই বুঝে গেল—
আর এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না।
বাতিঘর যখন আর মাত্র কয়েকশো গজ দূরে, তখন নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল।
আরমান বারবার চেষ্টা করেও সেটি চালু করতে পারল না।
“সবাই প্রস্তুত হও!”
মায়া বুঝে গেল কী করতে হবে।
একজন একজন করে সবাইকে পানিতে নামতে হবে।
কিন্তু পানিতে নামা মানে মৃত্যুর মুখে যাওয়া।
মায়া শিশুটিকে বুকে নিয়ে পানিতে নামল।
ঠান্ডা পানি তার বুক পর্যন্ত উঠে গেল।
তারপর কোমর।
আর ঠিক তখনই—
একটা বিশাল ছায়া তাদের নিচ দিয়ে চলে গেল।
মায়া স্থির হয়ে গেল।
তার চোখের সামনে পানির নিচে একটা বিশাল মুখ দেখা গেল।
দাঁতগুলো বিদ্যুতের আলোয় চকচক করছে।
হাঙরটা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল।
মায়া চোখ বন্ধ করল।
কিন্তু আক্রমণ হলো না।
হঠাৎ অন্য দিক থেকে প্রচণ্ড শব্দ।
একটি বিশাল সাদা হাঙর পানির নিচ থেকে উঠে এসে সেই হাঙরটিকে ধাক্কা দিল।
দুটো দানব পানির নিচে একে অপরকে কামড়াতে লাগল।
মায়া কিছু না বুঝেই বাতিঘরের দিকে ছুটল।
পেছনে তাকিয়ে সে শুধু একবার দেখল—
সাদা হাঙরটা অন্ধকার পানির মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই নীলপুরের ওপর হেলিকপ্টার দেখা গেল।
উদ্ধারকারী দল একে একে মানুষকে তুলে নিতে লাগল।
কেউ কাঁদছে।
কেউ নিজের পরিবারকে খুঁজছে।
কেউ শুধু দাঁড়িয়ে আছে—বিশ্বাসই করতে পারছে না যে সে বেঁচে আছে।
মায়া বাতিঘরের ওপর দাঁড়িয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরের দিকে তাকিয়ে ছিল।
আরমান তার পাশে এসে দাঁড়াল।
“সব শেষ।”
মায়া কোনো উত্তর দিল না।
তার চোখ তখন সমুদ্রের দিকে।
অনেক দূরে, সূর্যের আলোয় পানির ওপর একটা পাখনা দেখা গেল।
তারপর সেটা অদৃশ্য হয়ে গেল।
মায়া ধীরে বলল,
“ওটা কি সেই হাঙরটা?”
আরমান তাকাল।
“কোনটা?”
“যেটা আমাদের বাঁচিয়েছিল।”
আরমান কিছুক্ষণ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
“হয়তো।”
হেলিকপ্টারটা ধীরে ধীরে শহর থেকে দূরে চলে যেতে লাগল।
ক্যামেরা যেন তাদের ছেড়ে আরও দূরে সরে গেল।
সমুদ্রের ওপর থেকে।
তারপর সমুদ্রের নিচে।
আরও নিচে।
আরও অন্ধকারে।
সেখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গবেষণাগারের একটি অংশ এখনও সমুদ্রতলায় পড়ে আছে।
একটি ঘরের ভেতর কয়েকটি মনিটর ভাঙা অবস্থায় জ্বলছে।
একটি স্ক্রিনে এখনও একটি শব্দ দেখা যাচ্ছে—
“নমুনা–৭: নিখোঁজ।”
হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে একটা বিশাল ছায়া নড়ে উঠল।
তারপর ধীরে ধীরে দুটি চোখ খুলল।
কিন্তু এবার চোখ দুটি কোনো পরিচিত হাঙরের নয়।
তার আকার এত বড় যে পুরো ঘরটাকে ছায়ায় ঢেকে দিল।
স্ক্রিনটা ঝিকমিক করে নিভে গেল।
আর সমুদ্রের অন্ধকারে ভেসে উঠল একটাই শব্দ—
ধুমমম...
দূরে নীলপুর তখনও উদ্ধার হচ্ছে।
মানুষ ভাবছে দুঃস্বপ্ন শেষ।
কিন্তু তারা জানে না—
সেদিন সমুদ্র শুধু একটা শহরকে গিলে নেয়নি।
সে তার ভেতরের কিছু একটা মুক্ত করে দিয়েছিল।
আর সেটা এখনও বেঁচে আছে।
সমাপ্ত। 🦈🌊
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!