পবিত্র কোরআন ও বাইবেল, উভয় ধর্মগ্রন্থেই হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা ও মহাপ্লাবনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
তুরস্কের আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত নৌকাসদৃশ দুরুপিনার ভূতাত্তিক গঠনকে ঘিরে নূহ (আঃ)-এর নৌকার রহস্যের অনুসন্ধান এবার পৌঁছেছে নতুন পর্যায়ে।
প্রায় ১৫৭ মিটার দীর্ঘ দুরুপিনার কাঠামোটি বহু বছর ধরেই নূহ (আঃ)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ হিসেবে আলোচিত। এবার তুরস্ক সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষকরা সেখানে শুরু করেছেন কোর ড্রিলিং, মাটির গভীর থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহের কাজ।
এর আগে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডারসহ বিভিন্ন ভূ-ভৌত জরিপে ভূগর্ভে অস্বাভাবিক স্তর ও সম্ভাব্য ফাঁপা অংশের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। নতুন করে ড্রিলিংয়ের সময় কয়েক মিটার গভীরে একটি অত্যন্ত শক্ত স্তরে আঘাত লেগে ড্রিল বিট ভেঙে যায়। গবেষকদের ধারণা, এটি জীবাশ্মীভূত বা খনিজসমৃদ্ধ কাঠের স্তর হতে পারে।তবে এখনো তা নিশ্চিত নয়।
সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি ভূগর্ভের সম্ভাব্য ফাঁপা অংশ অনুসন্ধানে গোফার নামের একটি বিশেষ রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। গবেষকদের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের দিকে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে দুরুপিনার ভূগঠনের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তবে এখন পর্যন্ত দুরুপিনারকে নূহ (আঃ)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যায়নি। চলমান গবেষণার ফলাফলই হয়তো এই দীর্ঘদিনের রহস্য সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য সামনে আনবে!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!