প্রথম পাতাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগ্যালাক্সি ভ্রমণ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

গ্যালাক্সি ভ্রমণ

গ্যালাক্সি ভ্রমণ

গ্যালাক্সি ভ্রমণ কতটা কঠিন?

মহাকাশের কল্পবিজ্ঞান সিনেমায় মানুষ অনায়াসে এক গ্যালাক্সি থেকে আরেক গ্যালাক্সিতে চলে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে গ্যালাক্সি ভ্রমণ হলো মানুষের সামনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি — এতটাই কঠিন যে এখনো সম্পূর্ণ অসম্ভব।

বিজ্ঞাপন

প্রথমেই দূরত্বের কথা বলি। আমাদের সবচেয়ে কাছের বড় গ্যালাক্সি হলো অ্যান্ড্রোমিডা — প্রায় ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। মানে আলোর গতিতে গেলেও সেখানে পৌঁছাতে ২৫ লাখ বছর লাগবে। আমাদের সেরা মহাকাশযান ভয়েজার-১ এর গতিতে গেলে লাগবে প্রায় ৪ হাজার কোটি বছর — মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের তিন গুণ।

দ্বিতীয় সমস্যা হলো জ্বালানি। বর্তমান প্রযুক্তিতে এত দূরের যাত্রায় যে পরিমাণ জ্বালানি দরকার তা অকল্পনীয়। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে দক্ষ "অ্যান্টিম্যাটার ইঞ্জিন" দিয়েও গ্যালাক্সি পার করা হবে অসম্ভব কঠিন।

তৃতীয় সমস্যা হলো মানুষের জীবনকাল। আলোর গতির কাছাকাছি ভ্রমণে টাইম ডাইলেশনের কারণে যাত্রীর কাছে সময় কম মনে হবে। কিন্তু তবুও হাজার বছরের যাত্রা — এক জীবনে সম্ভব নয়। হয়তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই যানে জন্মাবে, বড় হবে, মারা যাবে।

চতুর্থ সমস্যা হলো মহাকাশের মাঝের শূন্যতা। দুই গ্যালাক্সির মধ্যে প্রায় সম্পূর্ণ শূন্য — কোনো জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ নেই, কোনো সাহায্যের সুযোগ নেই।

তবে বিজ্ঞানীরা কিছু তাত্ত্বিক সমাধান ভাবছেন। "ওয়ার্প ড্রাইভ" দিয়ে স্থান নিজেই সংকুচিত করে আলোর চেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো। "ওয়ার্মহোল" দিয়ে মহাকাশের শর্টকাট ব্যবহার করা। কিন্তু এগুলো এখনো শুধু গণিতের কাগজে আছে — বাস্তবে সম্ভব কিনা জানা নেই।

সহজ কথায়, গ্যালাক্সি ভ্রমণ এখনো মানুষের সাধ্যের বাইরে। হয়তো হাজার বছর পরে অকল্পনীয় প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব হবে। তবে আপাতত আমরা নিজেদের গ্যালাক্সিতেই অনেক অজানা জায়গা আছে — সেগুলো আবিষ্কার করাই এখনকার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য!

০ মন্তব্য · ৩৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!