ড্রাগনফ্লাই: টাইটানের বুকে নাসার উচ্চাভিলাষী মহাকাশ অভিযান!
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA ২০২৮ সালে ড্রাগনফ্লাই নামের এক অতি উচ্চাভিলাষী ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ স্পেস মিশন লঞ্চ করতে যাচ্ছে, যা পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০৩৪ সালে শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটানের বুকে অবতরণ করবে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, টাইটানের রয়েছে ঘন নাইট্রোজেন বায়ুমণ্ডল, বরফাচ্ছন্ন ভূমি এবং মিথেন‑ইথেনের হ্রদ, যা হয়তো অনেকটা পৃথিবীর প্রাচীন পরিবেশের মতো হতে পারে। তারা আশা করছেন, এখানে জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
নাসার তৈরি ড্রাগনফ্লাই হলো একটি নিউক্লিয়ার শক্তিচালিত রোটরক্রাফ্ট, যা টাইটানের বিভিন্ন স্থানে অবতরণ করে নমুনা সংগ্রহ করবে এবং জৈব রসায়ন বিশ্লেষণ করে তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে। বিশেষ করে, টাইটানের গড় তাপমাত্রা প্রায় –১৭৯°C, তাই এতে বিশেষ ইনসুলেশন ও হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ইতোমধ্যেই এর হিট শিল্ড টেস্ট, প্যারাসুট ড্রপ টেস্ট, ফিউজলাজ অ্যাসেম্বলি ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে NASA। এর সম্ভাব্য অবতরণ এলাকা হিসেবে টাইটানের শাংরি‑লা ডিউন ফিল্ডসকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এটি টাইটানের বুকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩.৩ বছরের পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। আর এতে শক্তি সরবরাহের জন্য একটি শক্তিশালী প্রোপালশন সিস্টেম হিসেবে MMRTG (Multi‑Mission Radioisotope Thermoelectric Generator) ইনস্টল করা হচ্ছে।
উপসংহারে বলা যায়, টাইটানের ঘন বায়ুমণ্ডল ও রহস্যময় পরিবেশে পরিচালিত এই ড্রাগনফ্লাই মিশন মানবজাতির সামনে পৃথিবীর বাইরে জীবনের উৎস ও মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
(ইন্টারনেটে প্রাপ্ত উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য ও ছবি সংগৃহীত)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!