প্রথম পাতাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি৭৩ আলোকবর্ষ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৭৩ আলোকবর্ষ

৭৩ আলোকবর্ষ

আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে একটি বিস্ময়কর গ্রহ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোনমির ভাষায় আমরা একে “TOI-270 d” নামে চিনি। ২০১৯ সালে নাসার TESS মহাকাশ টেলিস্কোপ এই গ্রহটিকে শনাক্ত করে।


বিজ্ঞাপন

এই গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় অনেক বড়। এর ব্যাসার্ধ পৃথিবীর প্রায় ২ গুণ এবং এর ব্যাস প্রায় ২৫,৫০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৭৪০ কিলোমিটার। অর্থাৎ গ্রহটি নেপচুনের চেয়ে ছোট হলেও পৃথিবীর চেয়ে বড়।


এই গ্রহটি একটি ছোট লাল বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। নক্ষত্রটির নাম “TOI-270”। গ্রহটি তার নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি অবস্থিত—মাত্র প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ কিলোমিটার দূরে। যেখানে পৃথিবী সূর্য থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ কিলোমিটার দূরে।


বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহে এক বছর মাত্র ১১ দিনের। অর্থাৎ পৃথিবীতে যখন এক বছর অতিবাহিত হয়, তখন এই গ্রহে প্রায় ৩২ বছর পার হয়ে যায়।


বিজ্ঞানীদের কাছে এমন প্রমাণ রয়েছে যে, গ্রহটিতে হাইড্রোজেনসমৃদ্ধ একটি ঘন বায়ুমণ্ডলও রয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন অণুর উপস্থিতিও শনাক্ত করেছেন, যা বিজ্ঞানীদের এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কী থাকতে পারে তা বুঝতে সাহায্য করছে।


এই গ্রহের তাপমাত্রা প্রায় ৩৮৩ কেলভিন, অর্থাৎ এটি অত্যন্ত উষ্ণ একটি গ্রহ। এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে পারে। বিজ্ঞানীরা আরও ধারণা করছেন, গ্রহটির গভীরে বিপুল পরিমাণ পানি থাকতে পারে।


এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি জগৎ যেখানে রয়েছে ঘন বায়ুমণ্ডল, প্রচণ্ড চাপ, তীব্র তাপ এবং সম্ভবত গভীরে লুকিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি, যা আমরা সরাসরি “দেখতে” পারি না।


এই পৃথিবী থেকে সেই গ্রহের দূরত্ব মাত্র ৭৩ আলোকবর্ষ। অর্থাৎ আমরা আজ যে আলো দেখতে পাচ্ছি, সেই আলো প্রায় ৭৩ বছর আগে ওই গ্রহ থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।


জানি না, এর মধ্যে আল্লাহ তাআলার কী হিকমত রয়েছে এবং এই গ্রহটি কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।

০ মন্তব্য · ৪৩ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!