Movie name: Gloria (2013)
Country: Chile
জীবনের অর্থ আসলে কি? জীবন নিয়ে কোটি মানুষের ধারণা কোটি রকম হবে। হাজারো ভিন্ন ধারণা ও ভিন্ন মতবাদের অর্থ বা সংজ্ঞা হবে। আমি যেটা বলি, জীবন মানে হলো মস্তিষ্কের উষ্ণ সুখ। মস্তিষ্কের আনন্দের অনুভূতি ও অভাব সবাই সব সময় বুঝতে চায় না। যদি বুঝতো তাহলে নিজেদের মানষিক চাপ ও কষ্ট গুলো বেলুনের মত হালকা হয়ে যেতো। মনটা হোক বেলুনের মতো হালকা ও রঙিন। মিস গ্লোরিয়া ডিভোর্সী তারপরেও আনন্দের ফেরিয়াওলা খুজছেন। বয়স পঞ্চাশের উপরে হলেও আনন্দের রং ও সংজ্ঞা এখনও প্রাকটিক্যালী জানার ও বুঝার চেষ্টা করেন।।
চিলির সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আসলেই হরেক রঙের আবেগে ভরপুর মানে সিনেমা যেটা বুঝাতে চায় তার দর্শনের গভীরতা অনেক। এই ড্রামা রোমান্টিক সিনেমাটি মূলত একজন ডিভোর্সী নারীকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মহিলার নাম গ্লোরিয়া। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়েছে বহু বছর। ছেলে মেয়েরা দূরে থাকে। একাই থাকেন তবে নিজেকে একাকীত্ব ভাবেন না। নিজেকে আনন্দ রাখার চেষ্টা করেন।মানসিক পরিবর্তন খুঁজেন। তিনি ডিভোর্সী সেই সাথে আবেগ মুক্ত। তার ব্রেইনে যথেষ্ট স্পেস আছে মানে অতিরিক্ত আবেগ ও দুশ্চিন্তা নেই।।
আরেকটি চরিত্র আছে, মিঃ রডলফো যার বয়সও পঞ্চাশের উপর হবে। তিনি ডিভোর্স হয়েছেন এক বছর হলো। তিনিও অনেকটা মুক্ত আবার মুক্ত না। মিস গ্লোরিয়ার মতন তিনিও আনন্দ খুঁজেন, নিজেকে সময় দেন কিন্তু তার ব্রেইনে স্পেশ কম। কিছুটা মানসিক পিছুটান আছে। দরকার হলে আগের ফ্যামিলির কাছে ছুটে যান সবকিছু ফেলে। নতুনত্বের মানসিক পরিবর্তনে নিজেকে মানাতে পারছেন না।।
এই দুই ডিভোর্সীর মধ্যে হুট করেই বন্ধুত্ব হলো। এক সাথে ক্লাবে গল্প ও ড্যান্স করেন। দূরে পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। হালকা অন্ধকারে একান্তে সেক্সও করেন যদিও সেক্স তাদের মধ্যে খুব বেশি সিরিয়াস প্রয়োজন না। এক সাথে থাকার প্রয়োজন অনভূব করেছেন কিন্তু সেটা মানসিক দিক দিয়ে মিলছে না। মিস গ্লোরিয়া ব্রেইনে স্পেস আছে বলেছিলাম। এই স্পেসে উনি বিশেষ কাউকে রাখতে চান। একজন বিশেষ মানুষ, যে তার হাত ধরে চলন্ত জীবন আরো এগিয়ে নিবে।।
সিনেমার গল্প বা প্লট ভালো ছিলো সেই সাথে গল্পের কথা গুলো চরিত্রে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সম্পর্ক ও বাস্তবতা বা ভাঙ্গা সম্পর্কের ধরন বা ভাঙ্গা সম্পর্ক জোড়া লাগার ইচ্ছা এই কন্সেপ্ট গুলো নিয়ে এই সিনেমা। যাদের এই কন্সেপ্ট পছন্দ তারা দেখতে পারেন। এছাড়া নারীর ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও ইচ্ছাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। মিস গ্লোরিয়া ব্যাক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। নিজের জন্য যেটা ভালো সেটা করেন। নিজের আত্মাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছা হয় না তার।।
সিনেমায় সম্পর্কের অনেক কন্সেপ্ট দেখানো হয়েছে বিশেষ করে সময়ের সাথে সম্পর্কের পরিবর্তন। কিছু সম্পর্ক হুট করেই আসে আবার হুট করেই চলে যায়। বিশেষ করে দাবী ছাড়া গভীর বন্ধুত্ব। এই দাবি ছাড়া গভীর বন্ধুত্ব বেশি ফোকাসে আনা হয়েছে। দাবি ছাড়া গভীর বন্ধুত্ব বলতে, সম্পর্কের সব কিছু হবে বিয়ে হলে ভালো আর না হলে নাই, এতে কারো মনস্তাত্ত্বিক আপত্তি নেই। তাদের সংস্কৃতিতে যেটা হয়।।
ডিভোর্স হলে লাইফে কিছুটা পরিবর্তন আসে। হয় একাকীত্ব না হয় নতুন সম্পর্ক। তবে কেউ কষ্টে থাকে, কেউ আনন্দে থাকে আবার অনেকে লোক লজ্জায় নিজের মনস্তাত্বিক স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে আবার কেউ কেউ বুঝতে চায় না। আমি মনে করি গ্লোরিয়ার মত মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতা সবার থাকা উচিত। কষ্ট থাকবে, আফসোস থাকবে তার সাথে ব্যক্তি স্বাধীনতার আনন্দ থাকবে। একা মানেই হারিয়ে যাওয়া নয়।।
সিনেমায় যেটা দেখায় গ্লোরিয়া ও রডলফোর মধ্যে বিয়ে হয় না,প্রেমের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। রডলফো ডিভোর্স কিন্তু সন্তানের জন্য স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করতে হয়। তিনি আসলে নতুন করে বিয়ের সম্পর্কে যাওয়ার মতন অবস্থায় নেই। মানসিক ভাবে প্রস্তুত না। মিস গ্লোরিয়া আত্মসম্মান নিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সম্পর্কের জোরালো বন্ধনের নিশ্চয়তা রডলফো দিতে পারছে না। এছাড়া তাদের মধ্যে মান অভিমান চলতে থাকে।।
পুরো সিনেমাটাই ড্রামা দিয়ে ভরপুর। এছাড়া চিলি দেশের সমাজ ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। অভিমানী একজন ডিভোর্সী নারী ও অতি আবেগী একজন ডিভোর্সী পুরুষের গল্প নিয়ে এই ড্রামা সিনেমা।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!