মানুষ কি ব্ল্যাক হোল ব্যবহার করতে পারবে?
ব্ল্যাক হোল শুনলেই মনে আসে ধ্বংস আর বিপদের কথা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবং কল্পবিজ্ঞান লেখকরা অনেক আগে থেকেই ভাবছেন — এই অসাধারণ বস্তুটাকে কি মানুষ কোনো কাজে লাগাতে পারবে? উত্তর হলো — তাত্ত্বিকভাবে হয়তো পারবে, কিন্তু বাস্তবে এখনো সম্পূর্ণ অসম্ভব।
প্রথম সম্ভাবনা হলো শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার। ব্ল্যাক হোলের চারপাশের অ্যাকক্রিশন ডিস্ক অবিশ্বাস্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে। পদার্থ ব্ল্যাক হোলে পড়ার সময় তার ভরের প্রায় ৪০ শতাংশ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় — পারমাণবিক শক্তিতে মাত্র ০.৭ শতাংশ হয়। মানে ব্ল্যাক হোল হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ শক্তি উৎপাদনকারী। তাত্ত্বিকভাবে এই শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব — কিন্তু কোনো ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছের সবচেয়ে নিকটস্থটিও হাজার আলোকবর্ষ দূরে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো আবর্জনা নিষ্পত্তি। ব্ল্যাক হোলে যা একবার ঢোকে তা আর বের হয় না। তাই তাত্ত্বিকভাবে বিপজ্জনক বর্জ্য বা তেজস্ক্রিয় আবর্জনা ব্ল্যাক হোলে ফেলে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই আবর্জনা ব্ল্যাক হোল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াই অসম্ভব কঠিন।
তৃতীয় সম্ভাবনা হলো সময় ভ্রমণ। ব্ল্যাক হোলের কাছে সময় ধীরে যায়। তাত্ত্বিকভাবে ব্ল্যাক হোলের কাছে কিছুক্ষণ থেকে ফিরে এলে পৃথিবীতে অনেক বেশি সময় পেরিয়ে যাবে — এটা ভবিষ্যতে যাওয়ার একটা উপায়। তবে ব্ল্যাক হোলের কাছে যাওয়া মানেই স্প্যাগেটিফিকেশনের বিপদ।
চতুর্থ সম্ভাবনা হলো "হকিং রেডিয়েশন" ব্যবহার। ছোট ব্ল্যাক হোল ধীরে ধীরে শক্তি বের করে দেয়। কেউ কেউ ভাবছেন, ছোট কৃত্রিম ব্ল্যাক হোল তৈরি করে সেই শক্তি ব্যবহার করা যায় কিনা। কিন্তু এতটুকু ছোট ব্ল্যাক হোল তৈরি করতে যে শক্তি লাগবে তা এখনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
সহজ কথায়, ব্ল্যাক হোল ব্যবহার করা তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় — কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অকল্পনীয়। হয়তো হাজার বছর পরে অনেক উন্নত সভ্যতা এটা করতে পারবে। আপাতত ব্ল্যাক হোল শুধু পর্যবেক্ষণ আর গবেষণার বিষয়!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!