Movie name : The Best Offer (2013)
Country : Italy
ইমোশনাল ম্যানিপুলেশন যদি উপযুক্ত ভাবে ইউজ করা যায় তাহলে পাথরের হৃদয়ে ফেক অথবা রিয়েল ফুল ফোটানো সম্ভব। পাথরের অস্থির ও স্থবির মনকে যখন শান্ত বাগানে রূপান্তর করা হয়, তখন সত্যিকারের ফুল ফোটাবে নাকি মুখোশরূপী ফুল ফোটাবে সেটা একান্তই হৃদয় পরিবর্তনকারীর বিষয়।
অসাধারণ এই ইতালিয়ান সিনেমা। সাইকোলজিক্যাল ও আর্ট ড্রামা মিশ্রিত জনার। আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে। পুরো সিনেমা জুরে চারুকলায় ভরপুর। এক একটা পোট্রেট বা আর্ট এবং শিল্পকর্ম দেখতে বেশ ভালো লেগেছে। আর্টের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে।
আপনি কি জানেন মানুষের আচরণের বহিঃপ্রকাশ এক ধরনের আর্ট যেটা চোখে দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়।আমরা অজ্ঞাতে এরকম আর্টের খেলা খেলি। কাগজের পোট্রেট স্থবির কিন্তু ব্রেইনের পোট্রেট তার ধরন ও রং বদলায়। একটা ভাস্কর্য স্থীর কিন্তু ব্রেইনের ভাস্কর্য জীবন্ত সেটাতে মুখোশও থাকে। কে কখন কার ফাঁদে পরে যায় সেটা বলা মুশকিল। আচরণ হলো বিপদজ্জনক আর্ট ও শিল্প। এটাকে বোঝা কঠিন।।
মিঃ ওল্ডম্যান অনেকটাই নিঃসঙ্গতা পছন্দ করেন। মানুষের সমাজে তেমন মেলামেশা করেন না। বাইরে গেলে হাতে গ্লাফস পরেন যাতে হ্যান্ডশেক করতে স্পর্শ করতে না হয়। তিনি একজন বড় ধরনের পোট্রেট বা আর্ট স্পেশালিস্ট ও নিলামকারী। আর্ট নিয়ে তার ভালোই লেখাপড়া আছে। তিনি বেশ সম্মানিত কিন্তু তিনি একা ও অসামাজিক। পোট্রেট তার জীবন সঙ্গী।।
নারী থেকে দূরে থাকেন কিন্তু নারীদের পোট্রেট পছন্দ। এই বৃদ্ধ কাকু এখনও ভার্জিন কিন্তু তার বাসায় দেয়ালে দেয়ালে আর্ট পোট্রেট আর ভাস্কর্যে পরিপূরণ। আর্ট ও কলার ভাণ্ডার। তার একটা ফ্যান্টাসি রুম আছে যেই রুমে আছে শত শত নারীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরীর দামী দামী পোট্রেট ছবি। এই ঘর তার স্বর্গ বলা চলে। তিনি ছাড়া কেউ আসে না। তিনি যখন নিলামে কাজ করেন তখন নারীদের পোট্রেট কৌশলে নিজের লোক দিয়ে কিনে নেন। কালচারাল লাভারদের অবশ্যই ভালো লাগবে।।
একদিন ফোনে পরিচয় হয় এক রহস্যময় রমণী মিস ক্ল্যারির সাথে যেই রমণী মানুষের সামনে আসে না। অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত তাই মানুষের কাছে বা সামনে আসতে ভয় হয়। মেয়েটির বাবা মা মারা গেছেন এই রেখে গেছেন বিশাল রাজপ্রাসাদ যেখানে আছে বহু ছবি আর শিল্পকর্ম। সেগুলো মিঃ ওল্ডম্যানের সাহায্য নিয়ে বিক্রি করতে চায়। এখানেই রহস্য শুরু হয়।।
মিঃ ওল্ডম্যান ফোনে ফোনে কথা বলে। যেহেতু মেয়েটি কারো সাথে দেখা দেয় না তাই এটা ছাড়া উপায় নেই। মিঃ ওল্ডম্যান নিজস্ব চিন্তাভাবনায় চলতেন কিন্তু হুট করে তার মধ্যে পরিবর্তন আসছে। মায়া বা আবেগের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে । দুজনের মধ্যে রাগ অভিমানও হয়।মেয়েটি আসলে রিয়েল নাকি ফেক এটা নিয়ে সন্দেহ শুরু হয়। সিনেমার মূল টার্নিং পয়েন্ট এখানেই।
দুটো মানুষের চিন্তা ও আচরণগত বৈশিষ্ট তুলে ধরা হয়েছে। একজন মানুষের সমাজে যায় কিন্তু মিশে না আরেকজন ঘরের বাহিরে যেতে চায় না। মানুষ দেখতে চায় না। আবেগ ও সাকোলজিক্যাল খেলা শুরু হতে থাকে। একদিন হুট করে মেয়েটির সাথে এক সময় দেখা হয়। আগে নগ্ন পেইন্টিং দেখেছে কিন্তু নগ্ন মেয়ে দেখেনি। দুজনের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে। আচ্ছা মরিচকা কিন্তু খুব কাছেই।।
একটা পেন্টিং আসল নাকি নাকি নকল মিঃ ওল্ডম্যান বুঝতে পারেন কিন্তু আবেগ অনুভূতি ও ভালোবাসা জাল বা নকল হয় সেটা তিনি হয়তো অত ভালো বুঝতে পারেন না। আর্ট ছিল তার দুর্বল জায়গা কিন্তু সেই মেয়ে দুর্বল জায়গাটা আরো দুর্বল করে জায়গা করে নিলো। মিঃ ওল্ডম্যান এই প্রথম প্রেমে পড়ল। নিজের গোপন ঘরে নিয়ে গেলো। মানুষ আবেগের কাছে দুর্বল হবে এটাই স্বাভাবিক। ভ্রমে মোহ আচ্ছন্ন।।
সিনেমাটি মনে হবে স্লো কিন্ত গল্প বুঝতে পারলে ভালো লাগতেই থাকবে। প্রতিটা সিকুয়েন্স থেকে শুরু করে লোকেশন, সাউন্ড ভালো ছিলো। আর্ট বা পোট্রেট বা চারুকলা ও ক্রাইম বেসড মিক্সড সিনেমা দেখার মতন ছিলো। ইতালির অন্যতম বেস্ট সিনেমা।।
প্রতিটি নিলাম বেশ ভালো লাগবে। মিঃ ওল্ডম্যানের মনে অন্ধ বিশ্বাসের জন্ম হয়। তার গোপন রুমের সমস্ত পোট্রেট চুরি হয়ে যায়। ক্ষোভ ও কষ্টে প্যারালাইজড হয়ে যান। শেষের ক্রাইমকে ছোটখাট সাসপেন্স হিসেব দেখানো হয়েছে। একটা ম্যসেজ দেওয়া হয়েছে মুখোশ চিনতে হবে মুখোশের রং বুঝতে হবে যেটা মুরব্বী মিঃ ওল্ডম্যান বুঝতে চান নি। চোরাবালিতে পা দিয়েছেন।সেটা বুঝতে পারছেন।।
সুস্থ হওয়ার পর তিনি একটা রেস্টুরেন্টে বসে থাকেন। তার বিশ্বাস মিস ক্ল্যারি সাথে দেখা হবে। তিনি জানেন মিস ক্ল্যারি পরিচয় ফেক কিন্তু তারপরেও তিনি মনে।করেন ওয়ান পার্সেন্ট যদি তাকে ভালোবেসে থাকে তাহলে কারণে বা অকারণে দেখা হবে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!