প্রথম পাতা › সিনেম্যাটিক › ফ্রন্ট অফ দ্যা ক্লাস

সিনেম্যাটিক

ফ্রন্ট অফ দ্যা ক্লাস

বিজ্ঞাপন
ফ্রন্ট অফ দ্যা ক্লাস

আজকে ইন্সটাতে রিলস স্ক্রল করতে করতে একটা ছবির দৃশ্য পাই। দৃশ্যটা দেখে ভাল্লাগে, তারপর খুঁজে ছবির নামটা বের করে দেখতে বসেছিলাম। ছবিটাকে আন্ডাররেটেড বলতে পারেন, অনেকেই হয়তো নামটাও শোনেননি। কিন্তু দেখা শেষে মনে হলো এই ছবিটার কথা আরও বেশি মানুষের জানা দরকার।


বিজ্ঞাপন

শিক্ষক ব্র্যাড কোহেন-এর বাস্তব জীবনের গল্প এটা। ব্র্যাড টুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত, শরীর আর মুখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কেঁপে ওঠে, অদ্ভুত শব্দ বের হয়। থামানোর কোনো উপায় নেই। ছোটবেলা থেকেই এই অবস্থা। স্কুলে বাচ্চারা উপহাস করে, শিক্ষকরা ক্লাস থেকে বের করে দেন, বাবা মেনে নিতে পারেন না নিজের ছেলেকে। কিন্তু এই ছেলেটার মাথায় একটাই স্বপ্ন ঘুরতে থাকে, সে শিক্ষক হবে। ঠিক সেই শিক্ষক যে সে পায়নি, যে তাকে বুঝত, যে তার পাশে থাকত।


বড় হয়ে চাকরির জন্য আবেদন করতে যায়। এক স্কুল থেকে আরেক স্কুল। ২৫টা ইন্টারভিউ। প্রতিবারই ফিরে আসে খালি হাতে। কারণ সবাই দেখে তার টিক্স, তার শব্দ; কেউ দেখে না তার ভেতরের মানুষটাকে। এই জায়গাটায় এসে ছবি দেখতে দেখতে বুকের ভেতরে একটা চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়। কারণ এই প্রত্যাখ্যানের গল্পটা শুধু ব্র্যাডের না, যে কেউ স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেছে আর বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে, সে এই ব্যথাটা চেনে।


জিমি ওয়ক এই ছবির প্রাণ। ব্র্যাডের রোগ, তার হাসি, তার চোখের জেদ; এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে ভুলেই যাওয়া যায় এটা অভিনয়। প্যাট্রিসিয়া হিটন মায়ের চরিত্রে অসাধারণ। ছেলের জন্য লড়াই করে যাওয়া একজন মায়ের যে নিঃশব্দ শক্তি, সেটা দেখতে দেখতে নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। আর ক্লাসরুমের দৃশ্যগুলো- যখন ছোট ছোট বাচ্চাগুলো ব্র্যাডের পাশে দাঁড়ায়, তখন বুকের ভেতরে কিছু একটা নড়ে ওঠে। চোখ আটকে রাখা যায় না।


ছবি শেষে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, ২৫ বার না শুনেও যে মানুষটা থামেনি, সে আসলে আমাদের সবার জন্যই একটা কথা রেখে গেছে। স্বপ্নটা যদি সত্যিকারের হয়, তাহলে দুনিয়া যতবারই না বলুক, একদিন না একদিন সেই দরজাটা খুলবেই। দেখে ফেলুন, এই ছবি হতাশ করবে না।

০ মন্তব্য · ৬৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!