মাইকেল জ্যাকসন, এক অপ্রতিরোধ্য কিংবদন্তী।
মাইকেল জ্যাকসনের নাম শুনলেই চোখে ভাসে আমার ছোটবেলার উম্মাদনা। ৯০ এর দশক ছিলো ব্যান্ড এবং রক মিউজিকের জন্য গোল্ডেন টাইম কিন্তু এমন এক কিংবদন্তীর আবির্ভাব হলো যিনি নিজেই ছিলেন রত্ন ও নিজেই ছিলেন এক দামি সোনা। পুরো পৃথিবীতে হয়তো সোনার চেয়ে এই মাইকেলের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেশি ছিলো।।
আজ হয়তো কিংবদন্তী নেই কিন্তু তার গান তার শিল্প আজও কোটি কোটি মানুষের আবেগের কাছে এখনও বন্দী। আজও কোটি কোটি মানুষ তার গান শুনে, তার শৈল্পিক ডান্স দেখে কত পুরুষ যে ডান্সার হয়েছে সেটা কাউন্ট করে শেষ হবে না। তার থ্রিলিং ভোকাল জাদুময় অনুভূতি সৃষ্টি করে। আইকনিক ডান্স দর্শকদের চোখের মনোযোগ কেড়ে নিতে যথেষ্ট।।
মাইকেল জ্যাকসনের গান শুধুই বিনোদন নয় তার এক একটা গানে ভিতর লুকিয়ে আছে গভীর দর্শন যেমন, সামাজিক প্রেক্ষাপট, যুবক প্রজন্মদের উম্মাদনা, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিপর্যয় সহ আছে গভীর প্রেম ভালোবাসা।।
মাইকেল জ্যাকসন আজ পৃথিবীতে নেই কিন্তু তার শিল্প বেঁচে আছে, বেঁচে আছে চার কোনায় রূপালী পর্দায়। মাইকেলকে নিয়ে সিনেমা হবে সেটা ছিলো অবিশ্বাস্য ও আবেগময়। ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের অভিনয় থেকে শুরু করে তার এক্সপ্রেশন দেখার মতন ছিলো। কেউ কি বুঝতে পেরেছিলো যে মাইকেলের ভাতিজা মাইকেলের বায়োপিক করবে। মাইকেলকে আবারও জীবন্ত করবে। জাফরের অভিনয় ও ডান্স দেখে বার বার মনে হচ্ছিলো মাইকেল মনে হয় তার উপর ভর করেছে।।
সিনেমায় তার ছোটবেলা থেকে তার ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট দেখানো হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই মাইকেল ও তার তিন ভাই মিউজিক করতো। মিউজিক্যাল ফ্যমিলি বলা যেতে পারে। তাদের বাবা ছিলেন তাদের মেন্টর সেই সাথে বেশ কঠোর। মাইকেলকে যে কতো বেল্টের বারি খেতে হয়েছে। মাইকেল মিউজিকের সাথে সাথে ডান্স প্র্যাকটিস করতো। একটু ভুল হলেই বেল্টের বারি।।
মাইকেলের দুর্দান্ত সাফল্যের পিছনে তার বাবার শাসন অনেক অবদান আছে যদিও মাইকেল শেকলে বন্দী ছিলো। নিজের প্রতিভার স্বাধীনতা ও নিজস্ব ইচ্ছা, স্বপ্ন ছিলো না। পারিবারিক এক নিয়মের মধ্যেই ছিলো তার পৃথিবী। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। তরুণ বয়সেই বহু জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার একক কনসার্ট গুলো যেনো লোকে লোকারণ্য। জনতার উম্মাদনা প্রমাণ করে তার গান তার ডান্স কতটা ক্রিয়েটিভিটি কতটা ক্লাসিক আর স্টাইলিস্ট।।
সিনেমায় ভালো লাগা ছিলো বাবার সিস্টেম বা নিয়ম থেকে মুক্তি। নিয়ম থেকে মুক্তি পেয়েই নিজের সোলো ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে লাগলো। একের পর এক প্রোগ্রাম ও স্পন্সর আসতে লাগলো। সিনেমায় প্রাথমিক ক্যারিয়ার দেখনো হয়েছে কিভাবে মাইকেল সোলো শুরু করলো। যেহেতু আরও পার্ট বা সিক্যুয়েল আসবে তাই তার জীবনের অনেক ঘটনা দেখানো হয় নি।।
তার বিখ্যাত গান "বিট ইট" কিভাবে হলো সেটা দেখানো হয়েছে। নিজে গান লিখে নিজে মিউজিক ভিডিও সেট করা, কিভাবে কোন স্টাইলে ভিডিও হবে সেটা নিজস্ব আইডিয়া থাকতো। কি পরিমাণ প্রতিভা সেটা ভাবলেই অবাক লাগে। তবে মাইকেল প্রচুর পরিশ্রম ও স্টাডি ও করেছে। সেই নব্বই দশকে তরুণদের আইডল ছিলো মাইকেল জ্যাকসন। মিউজিক ইন্ডিস্ট্রিকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। সিনেমায় তার প্রাথমিক সফলতা আমরা দেখতে পাই। উপভোগ করার মতো বায়োগ্রাফি সিনেমা।।
মাইকেল কিন্তু বেশ সৌখিন ছিলো। পশু প্রেমও ছিলো। অজগর সাপ থেকে শুরু করে জিরাফ, ছোট বানর, উট পাখি সহ তার অনেক পোষা প্রাণী ছিলো। ছোট ছোট ক্যান্সার আক্রান্ত বাচ্চাদের সাথে সময় কাটিয়ে প্রমাণ করে দিলেন যে তিনি শুধুই মিউজিক সুপারস্টার সেটা নন, তিনি মানবিক দিক থেকেও সুপারস্টার যার ভিতরে অহংকার হিংসা বিদ্বেষ জন্ম নেয় নি। স্টেজে উঠে মাইক হাতে নেওয়ার আগেই দর্শকদের উম্মাদনা সৃষ্টি হয়।।
মাইকেল পপ কিং কিভাবে হলো সেটার প্রথম ধাপ তো দেখলাম। সেকেন্ড পার্টে আশা করি আরও অনেক কিছু জানতে পারব। সিনেমায় দেখা যায় ভিডিও সুট করার সময় তার চুল আগুন লেগে যায়। আহতো হয়ে ভর্তি হয় হাসপাতালে। মাইকেল ভেঙে পরেননি, তিনি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।।
মাইকেল এক স্বপ্নবাজ পপ স্টার। যিনি স্বপ্ন দেখেছেন ও মনের ভিতর আশা রেখেছেন, উদ্যম পরিশ্রম ও চেষ্টা করেছেন। সাহস করে সামনে এগিয়ে গিয়েছেন। সুপার স্টার বা বিগেস্ট পপ স্টার একদিনে হয়নি। তিনি সম্মান দিতেন তাই সম্মানও পেতেন। শুধুই মিউজিক বা ডান্স দিয়েই সুপারস্টার হওয়া যায় না সেই সাথে থাকতে হয় স্ট্রং পার্সোনালিটি।।
হলিউডের অন্যতম বেস্ট বায়োপিক বলা যেতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!